1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. joaopinto@carloscostasilva.com : randaldymock :
  3. makaylabeaurepaire@1secmail.com : scotty7124 :
  4. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  5. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  6. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

অদম্য মেধাবী ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন টেকনাফের ছলিমা

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০১৫
  • ৩৭ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো :
‘আমার বাবা উমর হাকিম একজন দিনমজুর। নিজেদের কোনো জায়গা জমি নাই। তাই অন্যের জমিতে মজুরি কেটে সংসার চালান তিনি। আমার এতটুকু এই অর্জন তা বাবা-মার আন্তরিকতা-ভালোবাসার ও দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগিতার কারণেই। আমাকে যেতে হবে আরও অনেক দূর। ভবিষ্যতের সেই দিনগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।’
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ছলিমা আকতার এভাবেই জানালেন তাঁর সাফল্যের কাহিনি।
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরগারছড়া গ্রামের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করেন বাবা। মা খালেদা বেগম গৃহিণী। প্রথম আলো ট্রাস্টের শিক্ষাবৃত্তির টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে পড়েছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গিয়ে পড়িয়েছেন চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির দুইজন ছাত্রীকে। নিজের খরচ নিজেকেই চালাতে হয়েছে। কলেজে ছাত্রীনিবাসে প্রতিমাসে (খাওয়া-দাওয়া ও থাকার জন্য) দেড় হাজার টাকা দিত হতো। দুইজন ছাত্রীকে পড়িয়ে পাওয়া টাকা দিয়ে খরচ চালাতেন। নিজের ব্যক্তিগত খরচের ভয়ের সহজে ছাত্রীনিবাস থেকে বাহির হতেন না এমনকি সরকারী ছুটি ছাড়া খরচের ভয়ে বাড়িতে যেতে না।
২০১৩ সালে এসএসসিতে টেকনাফ মলকাবানু উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে ছলিমা সবার বড়। তার ছোট বোন রুবি আক্তার দশম ও রুজিনা আক্তার সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া খরচ চালিয়ে আসছে। ছোট ভাই আজিজুল হক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়াশুনা করছেন।
বাবা উমর হাকিম কিটনিতেপাথর রোগে ভুগছেন। প্রায় আড়াই বছর আগে রোগটি ধরা পড়ে। ছলিমার এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষার আগে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এ সময়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর কিছুটা সুস্থ হলে বাড়ি ফিরে যান। চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত অপারেশন করতে বলা হলেও টাকা-পয়সার অভাবে এখনও পারেনি। কিন্তু ছেলে-মেয়ে আর সংসারের ঘানি টানতে এখনো দিনরাত কাজ করে যেতে হচ্ছে।
ছলিমার ভাষায় ‘বাবা এক দিন কাজ না করলে আমরা তো অচল হয়ে যাব। ছলিমার ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। সেজন্য চট্টগ্রামে বসে প্রস্তুুতি নিচ্ছেন আরও কয়েকজন সহপাঠি বান্ধুবীদের সঙ্গে একটি ভাড়া করা বাড়িতে থেকে। অন্যদের কাছ থেকে ধার করা বিভিন্ন ধরনের নোট নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার। সেই ইচ্ছা কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। তবুও ছলিমা স্বপ্ন দেখেন, অর্থকষ্টের কারণে কারও শিক্ষাজীবন যেন সংশয়ের মুখে না পড়ে সে চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে সে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট হতে ইচ্ছুক। ’
তিনি বলেন, এইচএসসিতে পড়ার সময় বৃত্তির পাশাপাশি টিউশনি করে চট্টগ্রামে থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাতে হয়েছে ছলিমাকে। নিজের উপার্জন থেকে টাকা জমিয়ে তা বাড়িতে পাঠিয়েছেন সংসার ও ছোট ভাই-বোনদের জন্য।
বাবা উমর হাকিম বলেন, ‘প্রথম আলোর ট্রাস্ট সহায়ক তহবিল থেকে ২০১৩ সালের জুন থেকে প্রতি মাসে শিক্ষা বৃত্তি পেয়ে আসছে। ওই টাকায় পড়াশোনা করেছে। এইচএসসির এই ফলাফলে পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দিত। সবার দোয়া ও সহযোগিতায় সে এতটুকু পথ পাড়ি দিয়েছে। আগামী দিনে আরও পড়াশোনা শেষ করে ভাল একটি চাকরি করে পরিবারের দুঃখ ঘোচাতে চাইছে।’
মা খালেদা বেগম বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করবে ছলিমা এটাই চাওয়া আমাদের। কিন্তু প্রতিদিন বাড়িতে তার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসছে। ছলিমা বিয়েতে রাজি নই, লেখাপাড়া ছাড়া কিছুই শুনতে চাই না। এ কারণে ছুটি পেলেও বাড়িতে আসতে চাই না বিয়ের ভয়ে।’
চট্টগ্রাম সরকারী কলেজের হযরত খতিজাতুল খুবরা ছাত্রী নিবাসের সুপার নাছিমা আকতার বলেন, ‘লেখাপড়ায় ছলিমার আগ্রহ দেখে যতটুকু সম্ভব কলেজের পক্ষ থেকে আমরা তাঁকে সহযোগিতা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েপড়ার তার আগ্রহ বেশি। সে সুযোগ পেলে সে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করবে।’

টেকনাফ নিউজ ডম কমের সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফী বলেন, দরিদ্র পরিবারে নক্ষত্র এই মেয়েটি। এলাকার বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে মেয়েটি তার সেই সপ্ন পুর্রণ করে এলাকাবাসির অনেক কাজে আসবে বলে আশা করছি।

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com