1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

অনড় আওয়ামী লীগ

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০১৫
  • ৬৪ দেখা হয়েছে

অনড় আওয়ামী লীগ। আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছে না। সংবিধান সংশোধনী করে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারেও তারা ফিরছে না। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি আমলে নিচ্ছে না সরকার। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে জাতীয় নির্বাচনের মানসিক প্রস্তুতিও নেই সরকারের। তবে সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে প্রেসিডেন্টের সাথে পরামর্শক্রমে প্রধানমন্ত্রী চাইলে নির্ধারিত সময়ের আগেও জাতীয় নির্বাচন দিতে পারেন। সরকার ও দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায় বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি মেনে নেওয়া নয় বরং আগামী নির্বাচনে শক্তভাবে বিএনপিকে মোকাবিলার একটি সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। দলের সিনিয়র ও মধ্যম সারির নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দলের নেতারা মনে করেন দেশে এমন কোন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি যে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে। তবে রাজনীতির নামে দেশে যদি আবার কোনরকম নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয় তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য দল প্রস্তুত থাকবে। সন্ত্রাস মোকাবিলা করবে প্রশাসন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, আগামী নির্বাচন যথাসময়েই হবে। তবে সাংবিধানিকভাবে, প্রধানমন্ত্রী চাইলে যেকোনো সময় নির্বাচন দিতে পারেন। এদিকে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতিও অপরিবর্তিত রাখতে চান সরকারের নীতিনির্ধারকরা। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও নির্বাচনব্যবস্থা বহাল রেখেই ২০১৯ সালে জাতীয় নির্বাচন করার পক্ষে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা ক্ষমতার মেয়াদ পূর্ণ করার পরিকল্পনা নিয়েই অগ্রসর হচ্ছেন। আগামী ২০১৮ সালের শেষার্ধে এ সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ২০১৯ সালকে টার্গেট করেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, সংবিধান অনুসারে ২০১৯ সালের আগে নির্বাচনের সুযোগ নেই। আগাম নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দাবি নিয়েও মাথাব্যথা নেই ক্ষমতাসীন দলটির। বরং ক্ষমতার মেয়াদ পূরণে সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে নেওয়া হচ্ছে নানান পরিকল্পনা। এর মধ্যে উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও নেওয়া হচ্ছে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান প্রধান এজেন্ডা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করার কাজও দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। তারা ক্ষমতার মেয়াদের আগেই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করতে চায়। জনগণের স্বার্থেও নেওয়া হচ্ছে আইটি সেক্টরসহ আরও নানামুখী পরিকল্পনা। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সরকার সঠিক পথে এগোলে বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জনগণই প্রত্যাখ্যান করবে। পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠে থাকলে বিএনপির কোনো আন্দোলনই সফল হবে না। আওয়ামী লীগ মনে করছে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মামলার জট ও জনবিরোধী নেতিবাচক কর্মকা- দলটিকে সাংগঠনিকভাবে আরও দুর্বল করবে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য বলেন, তত্ত্বাবধায়ক কিংবা অন্য কোনো সরকারব্যবস্থা নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নির্বাচনের ট্রেন মিস করেছে। নির্বাচনের ট্রেনের মাঝপথ থেকে নেমে গেছে বিএনপি। কাজেই পরবর্তী স্টেশনে নতুন ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নেতারা বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র পথ নির্বাচন। এর বাইরে কোনোই সুযোগ নেই। মাত্র কিছুদিন হলো একটি নির্বাচন হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে অপেক্ষা করতেই হবে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ৩ বছর কয়েক মাস খুব বেশি দিন না। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে ছিল। প্রতিটি নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে। হার-জিত থাকবেই। তার পরেও নির্বাচন বর্জন ভালো সিদ্ধান্ত নয়। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি আন্দোলন করে সরকার পতন করতে চেয়েছিল। কিন্তু যখন আন্দোলনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগ সরকার জনবান্ধব সরকার, উন্নয়নের সরকার, তখন নমনীয় হতে শুরু করেছে। নির্বাচন যথাসময়েই হবে। সংবিধানের বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। বর্তমান সংবিধানে সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আশা করি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার মতো আর ভুল করবেন না। আমরা আশাকরি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনেই কারচুপি হয়নি দাবি করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করবেন, আগামী নির্বাচনও অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুঞ্জনকে নাকচ করে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ বা সরকারের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি। তবে বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সময় নির্বাচন আহ্বানের ক্ষমতা রাখেন। সৈয়দ আশরাফ বলেন, আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে থাকবে। তবে আমরা বারবার বলেছি, আগামী নির্বাচন হবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। আমরা আশাকরি সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। তিনি বলেন, নির্বাচন বর্জন করা ভালো রাজনীতি নয়। বিএনপি আবার যদি নির্বাচন বর্জন করে, তাহলে তাদের অস্তিত্বই থাকবে না। আওয়ামী লীগ ইয়াহিয়া, জিয়া ও এরশাদের সামরিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচন বর্জন করলে কোনো লাভ হবে না।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com