1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

অ্যাম্বুলেন্সে পরীক্ষা দিলেন সদ্য হওয়া এক মা!

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৪ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক :
মঙ্গলবার বিকালে এক ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে প্রথমবারের মতো মা হয়েছেন। আজ বুধবার সকালেই ছিল তার স্নাতক সম্মান শেষ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা। কি আর করা! তাই নবজাতককে বোনের কাছে রেখে পরীক্ষায় অংশ নিলেন অ্যাম্বুলেন্সে বসেই! নবজাতক বোনের কোলে আর তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে। পরীক্ষাও খারাপ হয়নি সদ্য হওয়া এই মায়ের।

সন্তান প্রসব পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতা এই মাকে পরীক্ষা দেয়া থেকে আটকাতে পারেনি। পরিবারের অনেকেই তাকে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যাপারে নিরম্নত্সাহিত করেছিল। কিন্তু তিনি দমে যাননি। নবজাতককে কোলে নিয়েই রাতব্যাপী পড়াশোনা করেছেন। স্বামী নির্ঘুম দাঁড়িয়েছিলেন পাশে। এর আগে পেটে সন্তান নিয়েই তিনি অন্য পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়েছেন। রাত জেগে পড়াশোনা করেছেন। কলেজের ক্লাসও করেছেন নিয়মিত। অদম্য এই মায়ের গ্রামের বাড়ি দেবীগঞ্জের উত্তরপাড়ায়।  ২০১১ সালে তার বিয়ে হয়।

পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের ২০০৯-২০১০ সেশনের  বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী ওই মায়ের নাম রাজিয়া পারভীন (২৬)। সদ্যজাত ছেলেকে বোনের কাছে রেখে সকালেই অ্যাম্বুলেন্সে করে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে চলে আসেন। পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে তিনি অ্যাম্বুলেন্সে পরীক্ষা দেয়ার আবেদন জানান। কেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ কানাই লাল কুন্ডু তার এ আবেদনে সাড়া দেন।

স্ত্রীর পরীক্ষা প্রসঙ্গে স্বামী আবু আসাদ মোহাম্মদ আল আরিফ বলেন, ‘শহরের সিটি ক্লিনিকে মঙ্গলবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রাজিয়া পারভীন প্রথম পুত্র সন্তানের মা হন। পরীক্ষা নিয়ে আমরা দুজনেই সন্দেহে ছিলাম। কিন্তু শারীরিকভাবে দুর্বল থাকলেও রাজিয়া মানসিকভাবে পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।’

পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান এহতেশামুল হক জানান, ‘রাজিয়া পেটে বাচ্চা নিয়েই নিয়মিত ক্লাস করেছেন।  বাংলা বিভাগের সে  খুব ভালো ছাত্রী।’কলেজের অধ্যক্ষ কানাই লাল কুন্ডু বলেন, ‘রাজিয়ার মানসিক শক্তি দেখে আমরা অভিভূত। তাই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

এদিকে, পরীক্ষা শেষে রাজিয়া বলেন, ‘সব পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। মাত্র একটা পরীক্ষা বাকি ছিল। মা হওয়ার আনন্দ আমার শারীরিক কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। তাই শেষ পরীক্ষাটাও ভালোই দিয়েছি।’

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com