1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

আইনশৃঙ্খলার অবনতি

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৬ দেখা হয়েছে

ঈদকে সামনে রেখে আরো অবনতি ঘটছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। ঘরে-বাইরে ঘটছে নৃশংস হত্যাকা-। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতি। থেমে নেই ধর্ষণ, অপহরণ, গুপ্তহত্যা ও ক্রসফায়ার। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব সরকারই নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এতে পেশার প্রতি উদাসিন হয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছেন তারা। ফলে ধারাবাহিকভাবে অপরাধপ্রবণতা বেড়েই চলেছে। শাস্তি নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে প্রকৃত অপরাধীরা। রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট, বিপণিবিতান, সড়ক-মহাসড়ক, নৌপথ, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ট্রেন, বাস ও লঞ্চে সর্বত্র ছিনতাইকারী অজ্ঞান পার্টি ও ডাকাত আতঙ্ক। ঈদকে সামনে রেখে অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। গত ৭ দিনে রাজধানীসহ সারা দেশে শিশু ও মহিলাসহ ১৯ জন খুনের শিকার হয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় শিশুসহ ৯ জন গণধর্ষণের শিকার। গতকাল সাভারে যুবকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, খুলনায় ব্যাংক কর্মকর্তা মহিলা ও বাবাকে জবাই করে হত্যা, কুমিল্লার কসবায় ছেলেকে বেঁধে মাকে জবাই, রাজধানীর সংসদ ভবনের সামন থেকে গরুসহ ট্রাক ছিনতাই, কদমতলীতে গুলি করে যুবক খুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া টাঙ্গাইলে পুলিশের গুলিতে ৩ জন নিহতা, ছেলের সামনে মাকে শ্লীলতাহানি, দিনাজপুর সদরে এক পান দোকানদারকে হত্যার পর লাশে আগুন, বঙ্গোপসাগরে ৩২ মাছধরার ট্রলারে ডাকাতি, ডাকাতদের গুলিতে ৩৫ জন গুলিবিদ্ধ, গুলশানে শুটিং ক্লাবের পাশ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুনখারাবি অজ্ঞান পার্টির তৎপরতাসহ অপরাধমূলক কর্মকা- আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে গত কয়েক দিনে। এসব ঘটনায় ঈদে ঘরমুখী মানুষ ও কোরবানির পশুর হাটেও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।জানতে চাইলে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ও ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ঈদ আসলে অপরাধী চক্র তৎপর হয়। প্রতি বছরই এরা নানা অপরাধ করে থাকে। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে সর্তক আছে। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীসহ বেশ কিছু অপরাধীকে পুলিশ গত কয়দিনে গ্রেফতার করেছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সংসদ ভবনের সামনের রাস্তা থেকে গরুভর্তি ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। তিনি বলেন, এটি একটি বিছিন্ন ঘটনা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে র‌্যাব-পুলিশ যখন রাজধানীসহ দেশব্যাপী নিরাপত্তা জোরদার করার কথা বলছেন। ঠিক তখনই রাজধানীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর স্পর্শকাতর এলাকা সংসদ ভবনের সামন থেকে ১৬টি গরুসহ ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের সামনে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাইকারীরা একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়েছে। রাজধানীর কদমতলী এলাকায় একটি বাড়ির ছাদে ডেকে নিয়ে মো. সোহেল (২৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কদমতলী থানার ৬৭৪ নং ঋিষিপাড়ার একটি বাসার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, নিহত যুবকের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। কে বা কারা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার পর এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ বিভিন্ন অলিগলিতে সন্দেহভাজন লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।গত বৃহস্পতিবার রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মা নদী (শরীয়তপুরের মাদবর চর এলাকা) থেকে ৯৬টি গরুসহ একটি ট্রলার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। লৌহজং থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন জানান, এমন একটি সংবাদ শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে কেউ কোন রকম অভিযোগ এখন পর্যন্ত করেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে গাজীপুরের মীরের বাজার এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে ১৯টি গরুসহ একটি গরুবাহী ট্রাক ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গরু ব্যবসায়ীরা জয়দেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানায়, গেল রাত ৮টার দিকে রাজশাহী থেকে ১৯টি গরু কিনে ট্রাকযোগে বিক্রির জন্য নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেয় তারা। গরুবাহী ট্রাকটি ভোরে মীরের বাজার এলাকায় পৌঁছলে একটি পিকআপ এসে ট্রাকটির গতিরোধ করে। এসময় পিকআপ থেকে ১০-১২জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ট্রাকেরচালক, হেলপারসহ তিন ব্যবসায়ীকে হাত-পা বেঁধে ওই পিকআপে ওঠায়। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গরু ব্যবসায়ীদের ৩০ হাজার টাকা, ৫টি মোবাইল সেট ও ১৯টি গরুসহ ট্রাকটি ছিনতাই করে। পরে ব্যবসায়ীদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় স্থানীয় রাজেন্দ্রপুর জঙ্গলে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।গতকাল রাজধানীতে ১৬টি গরুসহ একটি ট্রাক ছিনতাই হয়েছে। ছিনতাইকারীদের প্রহারে আহত হয়েছেন পাঁচজন। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে শুক্রবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেনÑ মো. মাসুম (২৪), সুজন আলী (২৬), ঠা-ু মিয়া (৪৫), তানজিমুল হক (২৮) ও চাঁন্দু মিয়া (২৬)। তাদের সবার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহামায়া গ্রামে।গরু ব্যবসায়ী ঠা-ু মিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, গরুভর্তি ট্রাক নিয়ে আফতাবনগর কোরবানির পশুর হাটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চালক গাবতলী আসার পর থেকেই মোবাইল ফোনে কারোর সাথে যেন বার বার কথা বলছিল। ট্রাক নিয়ে সরাসরি আফতাবনগর যাওয়ার জন্য বলা হলেও সংসদ ভবনের সামনে এসে চালক ট্রাকের স্টার্ট বন্ধ করে দেয়। বার বার তাগাদা দেয়ার পরেও সে ট্রাক স্টার্ট দিতে বিলম্ব করে এবং ফাঁকে ফাঁকে মোবাইল ফোনে কাদের সাথে যেন কথা বলছিল। এসময় রাত প্রায় ২টা। তিনি আরো জানান, পিকাপ নিয়ে যারা এসেছিল তাদের প্রত্যেকের হাতে অস্ত্র ছিল। তারা মারধর করে গরুসহ ট্রাকটি নিয়ে চলে যায়। বাধা দিতে গিয়ে আমরা তাদের মারধরের রক্তাক্ত জখম হয়েছি। আহত সুজন আলী জানান, তারা ঝিনাইদহ থেকে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ১৬টি গরু কিনে বিক্রির জন্য শুক্রবার ঢাকায় আসছিলেন। রাতে সংসদ ভবনের সামনে এলে একটি সাদা পিকআপ তাদের গতিরোধ করে ও তাদের ট্রাক থেকে নামিয়ে পিকআপে তোলে। এ সময় তাদের লোকেরা ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, পরে তাদের পিকআপে করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাতে থাকে ও বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। একপর্যায়ে আশুলিয়ার দিকে নিয়ে যায়। ওই এলাকায় পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে তাদের নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাদের মেরুল বাড্ডার গরুর হাটে গিয়ে হাট কমিটিকে বিষয়টি জানাতে বলে।বিষয়টি জানানোর পর হাট কমিটি তাদের গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, আহত পাঁচ গরু ব্যবসায়ীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।এর কিছু দিন আগে সাতক্ষীরায় গরু কিনতে গিয়ে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ১২ লাখ টাকা হারিয়েছেন ৪ ব্যবসায়ী। তাদের অচেতন করে টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের বাসে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা এ ঘটনার জন্য হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজারকে দায়ী করেছেন।এ ঘটনার ভুক্তভোগীদের সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হানিফ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা হলেন, মো. আবদুল হালিম, মো. নুরুন্নবী, কালা মিয়া ও মো. ইসরাফিল। তাদের সবার বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় বলে জানিয়েছেন তারা।গরু ব্যবসায়ী আবদুল আলিম জানান, তারা চার ব্যবসায়ী গত শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী হানিফ পরিবহনের একটি নৈশকোচে চড়েন। রাতে তাদের সঙ্গে গাড়ির সুপারভাইজারের পরিচয় ও খাতির গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা সুপারভাইজারকে কোরবানির গরু কেনার উদ্দেশে সাতক্ষীরায় যাওয়ার কথা জানান। সুপারভাইজারও এ ব্যাপারে তাদের সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন। আবদুল আলিম আরো জানান, ওই পরিবহনকর্মী বন্ধুত্বের সুবাদে তাদের নাশতা করান। এর পর আর কোনো কথা তার মনে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। পরেরদিন দুপুরে জ্ঞান ফিরে নিজেকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে আবিষ্কার করেন। এর পর দেখেন, সঙ্গে থাকা ১২ লাখ টাকাসহ তাদের চারটি মোবাইল ফোন লাপাত্তা।এদিকে সাগরে আগের চেয়ে জলদস্যুর হামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গিয়েছে। বলা হয় জলদস্যু নিয়ন্ত্রণে টহল জাহাজ, উপকরণ ও লোকবলের অভাব। এজন্যে কোস্টগার্ড রয়েছে। তারা কি করছে? বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা অবস্থায় ভোলার দৌলতখানের প্রায় ৩০টি ট্রলারে জলদস্যুরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় জলদস্যুদের গুলিতে অন্তত ৩৫ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে জেলে মো. সিডু (৪২) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। নিহতের বাড়ি দৌলতখানের ভবানিপুর ইউনিয়নে। তার লাশ গতকাল সকালে বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া এফবি রাফিন নামে একটি ট্রলার ডাকাতদের ট্রলারের ধাক্কায় ডুবে গেছে। শুক্রবার রাতে ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ২ জনকে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দৌলতখান থানার ওসি আবুল বাশার সিডু জেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওই ট্রলারের মাঝি মোসলেউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, হঠাৎ করে ২/৩টি ট্রলারযোগে নৌদস্যুরা তাদের ট্রলার ধাওয়া করে এলোপাথারি গুলি ছুড়ে। এ সময় ডাকাতদের গুলিতে মো. সিডু (৪২) ও মিজান (৩৫) গুলিবিদ্ধ। এদের মধ্যে সিডু ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সিডুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫ গুলি লাগে এবং মিজানের মাথায় একটি গুলি লাগে। কিন্তু নৌদস্যুরা তাদের ধরতে পারেনি। তিনি আরো জানান, ওই সময় একই স্থানে ভোলার ২৫ থেকে ৩০টি ট্রলারের জেলেরা মাছ ধরছিল। নৌদস্যুদের হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। রাজধানীর কদমতলী এলাকায় একটি বাড়ির ছাদে ডেকে নিয়ে মো. সোহেল (২৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যায় কদমতলী থানার ৬৭৪ নং ঋিষিপাড়ার একটি বাসার ছাদে এ ঘটনা ঘটে।কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, নিহত যুবকের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। কে বা কারা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার পর এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উৎসঃ   ইনকিলাব

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com