কক্সবাজারলীড

আইনের লোক হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন পুলিশের এএসআই ভুট্টো

238views

নিজস্ব প্রতিবেদক
জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে এক পরিবারের পাঁচজনকে মারাত্মকভাবে জখম করে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন উখিয়ার ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত পুলিশের এএসআই বখতিয়ার উদ্দিন ভুট্টো। এ ঘটনার জের ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজের স্ত্রীকে র্নিযাতন করছে বলে ভুক্তভোগীদের জন্য উল্টো মামলা করেন এএসআই বখতিয়ার উদ্দিন ভুট্টো।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে হাতের রগ কেটে দিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। মারাত্মক জখম হওয়া আব্দুল্লাহ আল নোমানকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অন্যান্য আহতরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
জানা যায়, চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৈরাগিরখিল এলাকায় বসতভীটার জমির সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে শালিসী বৈঠক চলাকালে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্য পুলিশের এএসআই বখতিয়ার উদ্দিন ভুট্টোর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একদল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা করে এ ঘটনা ঘটায়।
অভিযোগ উঠে, বৈরাগিরখিল এলাকার মরহুম ডা. আবু তাহেরের পরিবারের সাথে বসতভীটার সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল তারই ভাগিনা একই গ্রামের মৃত ফয়েজ আহমদের পুত্র উখিয়া থানায় কর্মরত পুলিশের এএসআই বখতিয়ার উদ্দিন ভুটোর বিরোধীয় জমিতে সীমানা দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করে। এতে মৃত ডা. আবু তাহেরের পুত্ররা বাধা দেন। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বিরোধী বিষয় নিষ্পত্তিকল্পে শালিসী বৈঠকে বসেন। শালিসী বৈঠক চলাকালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এএসআই বখতিয়ার উদ্দিন ভুট্টো, তার স্ত্রী লিপি, স্থানীয় জসিম উদ্দিন, তার পুত্র মামুন, ওমর ফারুক, ওবায়দুলসহ ১০/১২ জনের ভাড়াটিয়া বাহিনী ধারালো দা, কিরিচ, হাতুড়ি ও লোহার রড নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।
হামলায় মৃত ডা. আবু তাহেরের পুত্র আবু দরদা ও আব্দুল্লাহ আল নোমানকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এতে আব্দুল্লাহ আল নোমানের হাতের ওস কেটে দেয়া হয়। এবং বাম পাশের মুখসহ মাথায় কিরিচ দিয়ে কুপ দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।
তাদের বাঁচাতে মা রহিমা, বোন হাবিবা ও নোমানের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ইয়াসমিন এগিয়ে এল তাদেরকেও মারধর করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই বখতিয়ার উদ্দিন ভুট্টোসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

এ ব্যাপারে এএসআই বখতিয়ার উদ্দিন ভুট্টোকে মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
চকরিয়া থানার এসআই (তদন্ত) একেএম শফিকুল আলম জানান, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Response