1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

আগাম নির্বাচন >> প্লাস বিএনপি না মাইনাস বিএনপি

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৮ দেখা হয়েছে

রাজনীতিতে এখন নতুন আলোচনা আগামী জাতীয় নির্বাচন ‘প্লাস বিএনপি’ হবে নাকি ‘মাইনাস বিএনপি’। খোদ বিএনপিতেও এ আশঙ্কা জেঁকে বসেছে। আর আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, আদালতের রায়ে তারেক রহমানের সাজা হওয়ায় এবং বেশ ক’টি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিচার চলমান থাকায়।

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক মহলে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা হওয়ায়; এ রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে উপস্থিত হয়ে আপিল না করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলার রায়ও দু’-এক মাসের মধ্যে হতে পারে। এ ছাড়া ৯২ দিনের অবরোধে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মামলায় বিএনপির আরো কয়েক জ্যেষ্ঠ নেতাও নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়তে পারেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধেও নাশকতার মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে। প্রথম সারির এমন নেতাদের সাজা হয়ে গেলে বিএনপিকে দিশেহারা অবস্থায় রেখে নির্বাচন সম্পন্ন করলে দশম সংসদ নির্বাচনের মতো একাদশ সংসদ নির্বাচনও ‘মাইনাস বিএনপি’ হতে পারে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, বিএনপি নিজেরাও এখন আর মধ্যবর্তী বা আগাম নির্বাচন দাবি করছে না। আগামী নির্বাচনে কিভাবে অংশগ্রহণ করা যায় তা নিয়েই তারা কর্মপরিকল্পনা করছে। ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, আগামী নির্বাচন কিভাবে ইনক্লুসিভ হবে তা নিয়ে তারা আলোচনা চান।

সৌদি বাদশা সৌদ বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে হজ করতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই রাজনীতিতে কোণঠাসা বিএনপি আবারো আলোচনায় আসে। সেখানে দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর পুত্র তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির পাশে থাকা যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোয় বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়েছে বিএনপি। প্রয়োজনে ভারতের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার চুক্তি বাস্তবায়নে আনুষঙ্গিক কিছু ক্ষেত্রে ভারতের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ যেন কোনো বাধা না দেয়Ñ একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের চেয়ে আওয়ামী লীগের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এটাই এখন বড় চাওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রাজনীতিতে কোণঠাসা বিএনপির একমাত্র ভরসা এখন দীর্ঘদিনের মিত্র মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। তাই রাজনীতিতে টিকে থাকার স্বার্থে সৌদি বাদশার আমন্ত্রণে হজে যাওয়ার বিষয়টি বিএনপির রাজনীতিতে টিকে থাকার ‘শাপেবর’ হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও আস্তে আস্তে রাজনীতির মাঠ সরগরম করে তুলতে চায়। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি কানাডা ও আমেরিকা সফর শেষে অক্টোবরে ভারত সফরে যাচ্ছেন। সেখানে ব্রিকসের আউটরিচ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন তিনি। ভারত, চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে এ সম্মেলনে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক দেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

বেগম জিয়ার মধ্যপ্রাচ্য মিশন সফল হলেই রাজনীতিতে ঈষৎ উষ্ণ ভাব আসতে পারে। খালেদা জিয়ার সৌদি আরব সফরের কিছুদিন আগে এরশাদের ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন সকল ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজনীতির মঞ্চে বেশ নাটকীয় ঘটনার আগাম আলামত হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞ মহল। এসব সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতীয় মহলে এরশাদের গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল মিললে একাদশ সংসদও ‘মাইনাস বিএনপি’ হতে পারে। ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তৎপরতাও শুরু করেছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নির্বাচনের বাইরে রাখা গেলে বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয়া হলেও দলের দুই শীর্ষ নেতাকে বাদ দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে না-ও যেতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি যদি দুই শীর্ষ নেতাকে বাদ দিয়েই নির্বাচনে আসতে রাজি হয়; তবে ওই নির্বাচনে নেতাকর্মীদের আর তেমন কোনো আগ্রহ থাকবে না। ফলে এমনিতেই আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে আবারো সরকার গঠন করতে পারবে। সে জন্য খালেদা জিয়ার মামলার গতিবিধি দেখে কৌশল ঠিক করবে আওয়ামী লীগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নিয়মিতই তাদের মাঠ জরিপ করে চলছে। আদালত তারেক রহমানকে সাত বছরের সাজা দেয়ায় ইতিমধ্যে তিনি আগামী নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন। আর তাকে সাজা দেয়ার পর এখন বিএনপির মাঠ যাচাই করছে সরকার। তারেক রহমানকে নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা কী ভাবছেন, নেতাকর্মীরা শক্ত কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেন কি না এবং দেশ-বিদেশে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় তা পর্যবেক্ষণ করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বিষয়টি যদি মোটামুটি সামাল দেয়া যায় তবে খালেদা জিয়ার বিষয়টিও খুব সক্রিয়ভাবে সামনে চলে আসবে। বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা অন্যতম।

আওয়ামী লীগের কট্টরপন্থী নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ আগামী নির্বাচনেও বিএনপিকে সংসদের বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান না। তারা এবারের মতো কৌশলে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে জাতীয় পার্টিকে আবারো বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান। তাদের মতে, বিগত নির্বাচনে যেসব বামপন্থী দল অংশ নেয়নি; তারা এবার অংশ নেবে। কারণ, এসব দলগুলো জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলেও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। অনেকে উপনির্বাচনেও প্রার্থী হতে চেয়েছে। এ ছাড়া মামলা মাথায় নিয়ে ভিন্ন কোনো নামে বা কারো সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে জামায়াতও নির্বাচনী মাঠে থাকবে। সেক্ষেত্রে বিএনপির বাইরে সবাই নির্বাচনে অংশ নেবে।

তবে অপেক্ষাকৃত মধ্যমপন্থী নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ নির্বাচনে সরকারের বিজয় নিশ্চিত করতে চাইলেও বিএনপিকে বাইরে রাখতে চান না। তারা বিএনপিকে সংসদের বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান। তাদের মতে, গতবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন ছিল। সে জন্য খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ জ্যেষ্ঠ কিছু নেতা নির্বাচনের বাইরে থাকলেও বিএনপির অনেকেই এমপি হয়ে সংসদে আসতে চাইবে। তাদের দিয়েই বিরোধী দল গঠন করা যেতে পারে। বিগত নির্বাচনে সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের কারণে বিএনপি নির্বাচনে আসতে পারেনি, যা দেশ-বিদেশে এখনো ব্যাপক সমালোচিত। তাই বিএনপিকে এবারো নির্বাচনের বাইরে রাখা হলে দেশ-বিদেশে আরো কঠোর সমালোচনার মুখে পড়বে সরকার। এ ছাড়া বিএনপির মতো একটি বড় দলকে বাইরে রেখে জাতীয় পার্টিকে আবারো বিরোধী দলের আসনে বসানো হলে দেশের সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেবে না। এতে দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বাইরে থাকলেও বিএনপিকে সংসদে দেখতে চান তারা। সে জন্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে হলেও নির্বাচনে আনার পক্ষে তারা। তবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চান উভয় পক্ষই।

আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের ভাবনা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার সাজা (কনভিক্টেড) হয়ে গেলে তার দলেও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। সরকারের সমালোচনার চেয়ে তখন বিএনপির ভাঙা-গড়া নিয়েই লোকজন আলোচনা করবে বেশি। নির্বাচনী ডামাডোলে তাই এ বিষয়ে তেমন সমালোচনার মুখে পড়তে হবে না আওয়ামী লীগকে।

উৎসঃ   আমাদের সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com