আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল খুশির ঈদ

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
বছর ঘুরে আবার এসেছে খুশির ঈদ। এক মাস সিয়াম সাধনার পর বুধবার এই খুশির ঈদ উদযাপনের জন্য প্রস্তুত মুসলমানরা। প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই কালজয়ী গান ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’।
ঈদ উপলক্ষে ঘরে-ঘরে জনে-জনে শুরু হয়েছে আনন্দ। আজ চাঁদ দেখা গেলে বুধবার সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজের পরই কোলাকুলিতে ঘোষিত হবে সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের মহিমা।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ঈদুল ফিতর উদযাপনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। এতে ইমামতি করবেন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক। জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার পৌরসভার আয়োজনে প্রধান ঈদ জামাতে বৃষ্টি হলেও যদি মাঠে পানি না জমে তাহলে ঈদের জামাত আদায় করা যাবে বলে জানান পৌর কর্তৃপক্ষ।
মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই আনন্দ-উৎসব সামাজিক সম্প্রীতি আর সাম্যচেতনায় ভাস্বর। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই ঈদের আনন্দে শামিল হবে-এটাই এই উৎসবের মূল মর্মবাণী। মাসজুড়ে রোজা পালনের মাধ্যমে সংযম আর ত্যাগের শিক্ষা অর্জন এই আনন্দের জন্য প্রস্তুত করেছে প্রতিটি মুসলমানকে।
ধনী-গরিব সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করছে স্বজন-পরিজন নিয়ে দিনটি উদযাপনের। ঈদের কেনাকাটা সেরে তাই সবাই ছুটেছে মাটি ও নাড়ির টানে শহর ছেড়ে গ্রামে। স্বজন-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মিলনের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে পথে পথে।
এখন ঘরে ঘরে চলছে পিঠা-পায়েস বানানোর তোড়জোড়। শিশু-তরুণ-বৃদ্ধ সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে ঈদগায়ে গিয়ে নামাজ আদায়ের। কিশোরী-তরুণীরা বসছে মেহেদিতে হাত রাঙাতে।
সরেজমিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে ঈদে জামাতের জন্য সুসজ্জিত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানকে। পুরো মাঠে বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন ওপর দিয়ে ত্রিপল টাঙ্গানোর কাজ চলছে। যা আজকের মধ্যে সম্পন্ন হবে। বৃষ্টিতে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য ওপরে দেওয়া হচ্ছে মোটা ত্রিপলের ছাউনি। পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও।
কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের চারপাশ জুড়ে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে আইনশৃংখলা বাহিনী। ঈদগাহ ময়দানের কাজ পাওয়া খরুলিয়া আরিফ আজিজ ডেকোরেশনের পরিচালক নুরুল আবছার জানান-এবছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পুরো শহরজুড়ে ১৫ টি গেইট, ঈদগাহ মাঠে মেইন গেইটসহ তিনটি দৃষ্টিনন্দন গেইট থাকবে। মাঝখানে টেন্ডার জটিলতার কারনে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও তা আবার সমাধান হয়ে কাজ শুরু করেন এই ডেকোরেশনের ২৫ জন শ্রমিক। এবারে মাইক, প্যান্ডেল, স্টেইজসহ বিভিন্ন সাজ সাজ্জার কাজ ৫ লাখ টাকায় নিলাম হয়েছে পৌরসভার পক্ষ থেকে। সেই অনুযায়ী সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সোমবার কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেছেন।
কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইতোমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮ টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ঈদ জামাতের যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে। উপরে ত্রিপল লাগানো হয়েছে যাতে বৃষ্টি হলেও নামাজ আদায় করা যায়। তবে অতিবৃষ্টির কারণে যদি মাঠে পানি জমে যায় তাহলে নিজ নিজ এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে। এবারেও ঈদের প্রধান জামাতে একসাথে প্রায় ২০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে যথারীতি ঈদের জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করবো পৌরবাসী সকাল সাড়ে ৮ টার আগেই ঈদের মাঠে চলে আসবেন।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com