আজ পহেলা বৈশাখ : বর্ষবরণে সৈকতে বসবে পর্যটকের আসর

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশে^র দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে ভীড় করছে অগণিত পর্যটক। গত শুক্র, শনি ও আজ রবিবার সরকারি ছুটিকে কাজে লাগিয়ে আগত অনেক পর্যটক ও স্থানীয়রা এ উৎসব পালন করছে। সেই সাথে সমুদ্র সৈকতে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম হবে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’ সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে সূচি করে তুলতেই আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ।
আজ রবিবার নতুন বাংলা সালের শুরু। শুভ নববর্ষ। স্বাগত ১৪২৬। নতুন বছরের প্রথম দিনটি চিরায়ত আনন্দ-উদ্দীপনা আর বর্ণাঢ্য উৎসবের মধ্য দিয়ে হাজির হবে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে।
গ্রীষ্মের দাবদাহ এড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাঠ-ঘাট, পথে-প্রান্তরে ও সমুদ্র সৈকতে ঢল নামবে লাখো উচ্ছসিত পর্যটকের। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে গত কয়েক দিন ধরে কক্সবাজারে বিপুল পরিমান পর্যটক আসতে শুরু করেছে।
ঢল নেমেছে কক্সবাজার শহরের রাস্তা ও সমুদ্র সৈকতে। শুধু তাই নয়, শহর, গ্রাম-গ্রামান্তর সর্বত্রই বইছে বর্ষবরণের প্রাণোচ্ছল উৎসব-তরঙ্গ। গ্রীষ্মের দাবদাহ তুচ্ছ করে, অস্বস্তি উপেক্ষা করে ভোর শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। দিনের বেলায় সবখানে পাতলেই শোনা যাবে গান, ঢাক-ঢোল-বাঁশির শব্দ, শোনা যাবে নাগরদোলার শব্দ, পায়ে পায়ে উত্থিত ধূলিপুঞ্জের মধ্যে মানুষের গুঞ্জরণ-ধ্বনি, নাগরদোলায় ঘূর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে ভয় জাগানো কিছু শব্দ, শিশুর কলরব উচ্ছ্বাস। সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে জেলাবাসী খাবে গ্রামবাংলার নিত্যদিনের খাবার ‘পান্তা-ইলিশ’।
চৈত্রের শেষ দিনে গ্রাম ও কক্সবাজার শহরের ব্যবসায়ীরা হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে দিয়েছেন। তাই ব্যবসায়ীরা খুলবেন নতুন হালখাতা।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটিজ ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক ফজলুল কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা সব ধরনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনবে অনাবিল আনন্দ। দেশে ফিরে আসবে শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বস্তি, গতিময়তা। নতুন আশার আলো প্লাবিত করবে মানুষের মন, বাংলাদেশের দিগন্ত।’
তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস’র পরিচালক আবদুল কাদের মিশু জানান, ওশান প্যারাডাইস হোটেলই কক্সবাজারে বেসরকারিভাবে সর্বপ্রথম বাংলা নববর্ষ নিয়ে পৃথক অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিল। অর্ধযুগ আগের সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আগের চেয়ে আলাদা আয়োজন থাকছে। অন্য বছরের মতো, পহেলা বৈশাখের পরিবর্তে চৈত্র সংক্রান্তির দিন থেকে ২রা বৈশাখ তিনদিন বৈশাখী মেলার আয়োজন থাকছে।
আরেক তারকা হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্টের ফুডস্ অ্যান্ড বেভারেজ (এফ এন্ড বি) ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেন বলেন, বিগত বছরগুলোর ন্যায় বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে এবারও হোটেল প্রাঙ্গণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে। সাশ্রয়ী রেটে ছাড়া হচ্ছে বৈশাখী খাবারের বিশেষ আয়োজন।
এছাড়াও পৃথক আয়োজন করছে তারকা হোটেল কক্স-টু-ডে, সী-গাল, লংবীচ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন, মারমেডসহ সবকটি বড় হোটেল-মোটেলে। তারকা হোটেলগুলো ইনডোরে নিজেদের মতো উৎসব আয়োজন করলেও অন্যান্য হোটেল গেস্ট হাউসগুলো প্রশাসন আয়োজিত র‌্যালি ও অনুষ্ঠানে যোগ দেবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেষ্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও তারকা মানের হোটেলগুলোতে নিজেদের মতো করে বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে।
তিনি জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে কক্সবাজার শরের অধিকাংশ হোটেল-গেষ্ট হাউজ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন হোটেল রুম বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়ও দিচ্ছে। এতে করে এবছর পর্যটক কক্সবাজারের প্রতি আরো বেশী আগ্রহী হয়েছে। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও সেন্টমার্টিন, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও মহেশখালীর আদিনাথে পর্যটকদের পদচারণা পড়বে বলে আশা করছেন এ হোটেল মালিক।
এদিকে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন বৈশাখী মেলার খাবার স্টলে ইলিশ পান্তা খাবারের আয়োজন করেছে বিভিন্ন হোটেল। শহরের অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলো থেকে শুরু করে কলাতলি ও সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্টে থাকবে ইলিশ-পান্তার আয়োজন। প্রতি বছরই বর্ষবরণ উৎসবে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
কক্সবাজার শহরের স্বাংস্কৃতিক সংগঠক অধ্যাপক ফরিদুল আলম জানান, আমরা বাঙালির ঐতিহ্যকে যুগ যুগ বাঁচিয়ে রাখতে চাই। বাঙালির শিল্প-সাহিত্য-ঐতিহ্য নিয়েই মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপকের মাধ্যমে অশুভ শক্তিকে তাড়াবে এই দানব। কক্সবাজারে বাঙালী জাতির অন্যতম অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলা নববর্ষ অন্যান্য বারের মতো পালিত হবে সবচেয়ে বেশী কক্সবাজারে। বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বিদায় ও ১৪২৬ বরণ উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচী পালিত হবে।
কক্সবাজারে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে, বর্ষ বিদায়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন ঝিনুকমালা খেলাঘর আসর, বেলাভূমি খেলাঘর আসর, সিমুনিয়া খেলাঘর আসর, উদীচী সংগীত নিকেতন, কক্সবাজার শিল্পী গোষ্ঠী, জাগো বাংলাদেশ ও গানবাজ। মঙ্গল শোভাযাত্রা, ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা সকাল ৮টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করবে।
এছাড়া কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়, তারকামানের হোটেল ওশান প্যারাডাইস, হোটেল কক্স-টুডে, সী-প্যালেস, কক্সবাজার সরকারী কলেজ ও সিটি কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্টানে বনার্ঢ্য আয়োজনে নববর্ষ উৎযাপন করা হবে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন.‘ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে কক্সবাজারে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা হয়েছে। শহরের প্রবেশ মুখগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোষ্ট। যাতে পর্যটক নির্ভয়ে পর্যটন স্পটগুলোতে চলাফেরা করতে পারে।’
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় শিল্প। পর্যটন বিকাশে বৈশাখের বৈচিত্র্যময় আয়োজন এবারও থাকছে কক্সবাজারে। জেলা প্রশাসন বৈশাখ বরণে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করবে। এরপর শহীদ দৌলত ময়দানে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এ আয়োজনে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com