1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. joaopinto@carloscostasilva.com : randaldymock :
  3. makaylabeaurepaire@1secmail.com : scotty7124 :
  4. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  5. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  6. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

আজ রক্তাক্ত ২১ আগস্ট

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৯ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক :
আজ রক্তাক্ত ২১ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া আরেকটি রক্তাক্ত ও কলঙ্কিত অধ্যায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। এই দিন ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ গ্রেনেড হামলার প্রধান টার্গেট ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চালানো হয় বর্বরোচিত ও পৈশাচিক এ গ্রেনেড হামলা। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। শেখ হাসিনাসহ ৫ শতাধিক মানুষ আহত হন সেদিনের সে ঘটনায়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সেই ভয়াল রক্তাক্ত গ্রেনেড হামলা দিবস।
দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা এবং তত্কালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে ওইদিন সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খোলা ট্রাকের ওপর স্থাপিত উন্মুক্ত মঞ্চে বক্তৃতা করছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
বিকেল তখন ৫টা ২২ মিনিট। বক্তব্য শেষ করে শেখ হাসিনা যখন সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই অতর্কিতে গ্রেনেড বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্তান, পুরানা পল্টন ও এর আশপাশের এলাকা। চারদিক থেকে সভাস্থলে গ্রেনেড এসে পড়তে থাকে।
মুহূর্তের মধ্যে শান্তি সমাবেশ রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। পরিণত হয় মৃত্যুর জনপদে। শত শত মানুষের চিত্কার, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকা ছিন্নভিন্ন দেহ, রক্ত আর বারুদের পোড়া গন্ধে বীভত্স পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ সময় সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশও রহস্যজনক আচরণ করে। আহতদের সাহায্য করার পরিবর্তে ভীত-সন্ত্রস্ত এবং আহত মানুষের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। মুহূর্তের মধ্যে এলাকার দোকানপাট ও রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই গ্রেনেড হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান; কিন্তু গ্রেনেডের আঘাতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি (দলের তত্কালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য) মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন এই হত্যাযজ্ঞ থেকে রক্ষা পাননি। শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন তাকে শ্রবণজনিত সমস্যায় ভুগতে হয়।
গ্রেনেড বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য ট্রাকের ওপর মানববর্ম রচনা করেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রিয় নেতাকে বাঁচাতে মরিয়া নেতাকর্মীরা দ্রুত তাকে গাড়িতে তুলে দেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে বের হওয়ার পথেই শেখ হাসিনার ব্যবহৃত বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িতেও ঘাতকরা অবিরাম গুলিবর্ষণ করে।
সেদিনের গ্রেনেড হামলার সেই ভয়াল স্মৃতি আর দলের নেতাকর্মীদের হারানোর বেদনা শেখ হাসিনাকে আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রেনেড হামলায় ২৩ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় নারী নেত্রী আইভি রহমান সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করে ২৪ আগস্ট শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
২১ আগস্টের এই গ্রেনেড হামলায় যারা নিহত হন, তারা হলেন- মোস্তাক আহমেদ সেন্টু, ল্যান্স. কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, রফিকুল ইসলাম আদা চাচা, সুফিয়া বেগম, হাসিনা মমতাজ রীনা, লিটন মুন্সী ওরফে লিটু, রতন সিকদার, মো. হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, মামুন মৃধা, বেলাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, আতিক সরকার, নাসিরউদ্দিন সরদার, রেজিয়া বেগম, আবুল কাসেম, জাহেদ আলী, মমিন আলী, শামসুদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, ইছহাক মিয়া এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুজন।
আহতদের মধ্যে ছিলেন- প্রয়াত রাষ্ট্রপতি (দলের তত্কালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য) জিল্লুর রহমান, আমীর হোসেন আমু, প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফ, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, কাজী জাফরউল্যাহ, ওবায়দুল কাদের, মাহমুদুর রহমান মান্না, আবদুর রহমান, আখতারুজ্জামান, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, সাবের হোসেন চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট রহমত আলী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌসী, সাহেদা তারেক দীপ্তিসহ পাঁচ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ।
অনেক দিন চিকিত্সা নিয়ে অনেকে কিছুটা সুস্থ হলেও পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে বহু মানুষকে। যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের সারাজীবন শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বহন করে চলতে হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com