1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

আবারো বন্যায় ককসবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৫
  • ১৬ দেখা হয়েছে

নুরুল আমিন হেলালী, কক্সবাজার :
কয়েক দিনের ভারী ও টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ী ঢলে ফুলে ফেঁপে প্রমত্তা রূপ ধারণ করেছে বাঁকখালী, মাতমূহুরী, ঈদগাঁওসহ ছোট-বড় নদী। ফলে ঈদগাঁও’সহ সদরের বিস্তীর্ণ এলাকা ফের কোমর পানিতে নিমজ্জিত। বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ। পূন:রায় ভেঙ্গে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট। সরেজমিনে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো ঈদগাঁও বাজার। এছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পালপাড়া, কানিয়াছড়া, ভোমরিয়াঘোনা, দরগাহপাড়া, শিয়াপাড়া, জাগিরপাড়া, সওদাগরপাড়া, হিন্দুপাড়া, বাঁশঘাটা, ছাতিপাড়া, বঙ্কিমবাজার, উত্তর মাইজপাড়া, ও খোদাইবাড়ীর হাজার হাজার পরিবার। ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের পালপাড়া অংশের উপর দিয়ে প্রবল বেগে ঢলের পানি উপচে পড়ছে। যে কোন সময় আগের ভাঙ্গা অংশ ভেঙ্গে ঈদগড়-ঈদগাঁওর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েতে পারে।  ঈদগাঁও-দরগাহপাড়া সড়কের উপর নির্মিত কালভার্টের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ ইতিমধ্যেই ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঈদগাঁও নদীর ঢলের পানি ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের উপর দিয়ে পালপাড়া বিল হয়ে মেহেরঘোনা জলনাশী দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাজাখালী বিলের পানির স্রোতে ভেঙ্গে গেছে শিয়াপাড়া ও দরগাহপাড়া সড়কের কয়েকটি অংশ। ওই পানি জলনাশী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে তলিয়ে গেছে পশ্চিম ভাদিতলা, মেহেরঘোনা, উত্তর মাইজপাড়া, মধ্যম মাইজপাড়া ও জাগিরপাড়াসহ ঈদগাঁও’র নিম্নাঞ্চল। পালপাড়া-শিয়াপাড়া সড়ক ও ঈদগাঁও-দরগাহপাড়া সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ঈদগাঁও’র পাহাড় অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চলের সাথে যাতায়াতে সীমাহিন দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দেখা যায়, ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের উপর দিয়ে ঈদগাঁও নদীর ঢলের পানি উপচে পড়ছে। পাহাড়ী ঢলে ঈদগাঁও নদীর প্রবল স্রোত সরাসরি আঘাত হানছে ওই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে। যেকোন মুহুর্তে আরো বড় ধরণের ভাঙ্গনঝূঁকির আশংকা করছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, বাঁকখালী, মাতামূহুরী ও ঈদগাঁও নদীর পাহাড়ী ঢলের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঈদগাঁও বাজার রক্ষাবাধেঁর উপর দিয়ে প্রবল বেগে ঢলের পানি উপচে পড়ে ঈদগাঁও বাজার ও তৎপার্শ্বস্থ এলাকাসমুহ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে ঈদগাহ হাই স্কুল, ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ কেজি স্কুল, দারুল ফাতাহ একাডেমী, ঈদগাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ, ঈদগাঁও ভূমি অফিস, জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ, ঈদগাঁও টিএন্ডটি অফিস, জালালাবাদ সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির, শহীদ মিনার, সরকারী খাদ্য গুদাম, ঈদগাঁও বাজারের বিপনী বিতান, মাছ বাজার, কাঁচা বাজারসহ ঈদগাঁও বাজারের বিভিন্ন অলিগলি ও আবাসিক ভবন। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঈদগাঁও বাজারের শত শত দোকানপাট বন্ধ হয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকা ভোমরিয়াঘোনার বাসিন্দা এডভোকেট জসিম উদ্দিন জানান, ভোমরিয়াঘোনার ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ঈদগাঁও বাসষ্টেশন থেকে ঈদগাঁও বাজারের প্রধান সড়ক ডিসি রোডে ৪ ফুট উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। পণ্যবোঝাই ট্রাক, মিনিট্রাকগুলো পণ্যখালাসের অপেক্ষায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। চৌফলদন্ডীর বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন জানান, ঈদগাঁও নদীর ঢলের পানি জলনাশী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে চৌফলদন্ডীর নতুন মহাল, ঘোনাপাড়া, খামারপাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার ওই অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের কার্যকরী ব্যবস্থা না থাকায় চৌফলদন্ডীর লবণ মাঠ, চিংড়িঘের, আবাদি জমি, ঘরবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার নারী-পুরুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। জানা যায়, দখল, দুষন ও পলিতে ঈদগাঁও নদীর পানিধারণ ও পানি প্রবাহের ক্ষমতা নাই বললেই চলে। ঈদগাঁও নদীর প্রমত্তা রূপ ও পাহাড়ী ঢল নিয়ন্ত্রণে ইতোপূর্বে কখনো কোন টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ঈদগাঁও ইউপি”র মানবাধিকার শান্তি পদক প্রাপ্ত ৩নং ওয়ার্ড়ের মেম্বার মোহাম্মদ রশিদ জানান, মেহেরঘোনা জলনাশীকে খনন করে দু’পাশে ১০-১৫ ফুট উচ্চতার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে ঈদগাঁও নদী থেকে চৌফলদন্ডী খাল পর্যন্ত সংযুক্ত করে দিলে বন্যার অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের জনগণ, হাজার হাজার একর আবাদি জমি, লবণ মাঠ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। অপরদিকে বাঁকখালী নদীর ঢলের পানিতে ইতিমধ্যেই পিএমখালী, খরুলিয়া, মুহুরিপাড়া, রামুর রাজারকুল, চাকমারকুলসহ কয়েকটি এলাকার শত শত বাড়ি-ঘর পানিতে ডুবে গেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ওই সব এলাকার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com