1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

“আমি মরে গেলে বাইসাইকেলটি জাদুঘরে দিয়ে দিস”-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫
  • ২৭৯ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক :
“আমি মরে গেলে বাইসাইকেলটি জাদুঘরে দিয়ে দিস” এমনটিই বলেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে। ধানমন্ডির বাড়িতে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির নিবাসী আবদুল ওয়াজেদ মন্ডলকে প্রথম দেখাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ব্যবহৃত বাইসাইকেলটি জাদুঘরে রাখার অনুমতি ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত এই বাইসাইকেলটি জাদুঘরে হস্তান্তর করতে চান তিনি।

এ সময় আবদুল ওয়াজেদ মন্ডলকে কাছে তাঁর ব্যবহৃত সাইকেলটি কোথায় আছে জানতে চেয়েছিলেন। সাইকেলটি ফেরত না দিয়ে নিজের কাছে রাখার আবদার করেছিলেনও রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মৃত ওমেদ আলী মন্ডলের ছেলে আবদুল ওয়াজেদ মন্ডল(৭৫)।

রাজবাড়ীতে বঙ্গবন্ধুর আগমন সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুল ওয়াজেদ মন্ডল বলেন, ‘১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী ওয়াজেদ চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালাতে রাজবাড়ীতে এসেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওয়াজেদ চৌধুরীর বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু ১০-১২ সঙ্গী নিয়ে আমার বাইসাইকেল চালিয়ে গ্রামের পর গ্রাম চষে বেড়িয়েছেন, ভোট চেয়েছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচয়ের বিষয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে প্রথম দেখাতেই সারা জীবনের মতো তাঁর ভক্ত হয়ে যাই। ৫৮ বছর আগের যে মানুষটির সাথে দেখা হয়েছিল সেই দিনটির কথা আজো স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। বঙ্গবন্ধু ও তার সঙ্গীরা একদিন রাজবাড়ীর জেলা সদরের বেলগাছি এলাকায় পাশের জৌকুড়া এলাকার মোনাক্কা চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। আর মোনাক্কা চেয়ারম্যান ছিলেন আমার চাচাতো ভাই। আমি মাঝে মধ্যেও সেখানে বেড়াতে যেতাম। সেখানেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রথম পরিচয় হয়।

বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত সাইকেল সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, তখন আমি ৮ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করি আর বয়স মাত্র ১৫। ফরিদপুর শহরের সাইনোফোন নামের একটি দোকান থেকে ইংল্যান্ডের ডনলপ কোম্পানীর বিএসএ মডেলের ২২০ টাকা দিয়ে একটা বাইসাইকেল কিনি। সেই সাইকেলে করে বাড়ি থেকে আমি মোনাক্কার চেয়ারম্যান (ওয়াজেদের চাচাত ভাই)এর বাড়িতে গিয়ে উঠানে লিচুুগাচের সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখে আমার সাইকেলটি। বঙ্গবন্ধুর চোখে পড়ে উঠানে লিচুুগাচের সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখা আমার সাইকেলটির ওপর। বঙ্গবন্ধু মোনাক্কার কাছে জানতে চাইলেন সাইকেলটি কার? সাইকেলটি আমার জানতে পেরে বঙ্গবন্ধু আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন তোর সাইকেলটি কয়েক দিনের জন্য আমাকে দে।

বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত বাইসাইকেলটি ফিরে পাওয়া ও রাজনীতির কর্মী হওয়ার ঘটনা জিজ্ঞাসা করলে আবেগের স্বরে বলেন, বঙ্গবন্ধু আমার বাইসাইকেলটি নিয়ে যাওয়ার সময় বলে যান , আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত রাজবাড়ীর ওয়াজেদ চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে থাকবি। সেখানে তোর সাইকেল আমি ফেরত দিয়ে দেব। কী আর করা, আমি রাজবাড়ীতে গিয়ে ওয়াজেদ চৌধুরীর বাড়িতে থাকতে শুরু করলাম। এর ১৫ দিন পর বঙ্গবন্ধু সাইকেল ফিরিয়ে দিয়ে কাছে টেনে বললেন, ভালে থাকিস, মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করিস। আর মানুষকে ভালোবাসতে শিখিস। পারলে রাজনীতি করিস। সেই থেকে আমি বঙ্গবন্ধুর ভক্ত ও তার রাজনীতির কর্মী বনে গেলাম।

আবদুল ওয়াজেদ মন্ডলের সাংসারিক ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সাংসারিক অবস্থা খুব বেশি ভালো না। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান বকুল জায়গা-জমি দেখাশোনা করে। যেটুকু জমি আছে তা চাষাবাদ করে সংসার চলে । এখন তার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেতার নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ধানমন্ডির বাড়িতে প্রথম দেখাতেই বঙ্গবন্ধু আবদুল ওয়াজেদ মন্ডলের কাছে সেই সাইকেলটি কোথায় আছে জানতে চেয়েছিলেন। সাইকেলটি ফেরত না দিয়ে নিজের কাছে রাখার আবদার করলে হেসে তাঁকে অনুমতি দিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি মরে গেলে সাইকেলটি জাদুঘরে দিয়ে দিস।’ তিনি বঙ্গবন্ধুকে জানান, রাজাকাররা তাঁর বাড়ি লুট করে তাঁকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। জবাবে বঙ্গবন্ধু তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমার দেশকেও ওরা নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমার দেশও গরিব, তুইও গরিব। ভাবিস না, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত সাইকেলটি দেখতে তার বাড়িতে প্রায়ই লোকজন আসেন। কেউ কেউ সাইকেলটি জড়িয়ে ধরে আবেগে কেঁদে ফেলেন। তা দেখে তার বুক গর্বে ভরে ওঠে। ভাবেন, সাইকেলটি এবার জাদুঘরে দিয়ে যেতে পারলে দায়িত্ব শেষ। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত সেই বাইসাইকেলটিও রেখে দিয়েছি পরম যতেœ। আজ আমি জীবনের শেষ পর্যায়ে দাড়িয়ে। আমার জীবনের শেষ চাওয়া, সাইকেলটি জাদুঘরে পৌছে দেওয়া আর বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার সঙ্গে একটিবার সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া।
জানা গেছ, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত সেই বাইসাইকেলটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার জন্য গত ১৮ আগষ্ট ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগের কিপার ড. স্বপন কুমার বিশ্বাস রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক ও বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একপত্রে বিষয়টি যাচাই পুর্বক বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর অফিসকে অবহিত করার অনুরোধ জানান।

গতকাল (২৬ আগষ্ট) বুধবার সকালে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের এক চিঠি পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান সরেজমিন বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলী মন্ডলের বাড়ীতে যান। তিনি বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত সাইকেলটির বডি, সিট কভার, পিছনের চাকার রিং, মার্ডগার্ড, হ্যান্ডেল, ফরপাইপ দেখতে পান ওয়াজেদ আলী স্বযতেœ রেখেছেন। সাইকেলটি মূল কাঠামো আজো ঠিক আছে। যেন প্রয়োজনে যন্ত্রাংশ জোড়া দিয়ে সাইকেলটির কাঠামো ঠিক করা যায়। এসময় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর সাক্ষাৎকার গ্রহন করেন। বিষয়টি পরীক্ষা নিরিক্ষারসহ জাদুঘর কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র প্রেরণ করবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসলেই সাইকেলটি জাদুঘরে পাঠানো হবে।

এলাকার বয়োজেষ্ট ও ঘটনার স্বাক্ষী হানেফ আলী খান বলেন, আমি ওয়াজেদ মন্ডলের চেয়ে কমপক্ষে ১০ বছরের বড়। ওয়াজেদ আলী মন্ডলের ওই সাইকেলটি বঙ্গবন্ধু ব্যবহার করেছিল এটা আমার জানা। তিনিও সাইকেলটি সংরক্ষনের দাবী জানান। এসময় ওয়াজেদ আলী মন্ডলের বাড়ীর পার্শ্ববর্তী মোজাফফর হোসেন, ইকরাম হোসেন, মোস্তফা কামাল, জয়নাল আবেদীন জানান বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সাইকেলটি চালিয়েছেন তবে ছেলে বেলা থেকেই দেখছি এই বাইসাইকেলটিকে ওয়াজেদ মন্ডল স্ব-যতেœ রেখেছেন । তারা আরো বলেন, মাঝে মধ্যেই আবদুল ওয়াজেদ মন্ডল সাইকেলটি ঘর থেকে বের করে আনেন এবং পরম মমতায় তা পরিস্কার করেন। কখনো কখনো তাকে সাইকেলটি জড়িয়ে ধরে কাঁদতেও দেখেছেন। তারাও সাইকেলটি জাদুঘরে রেখে তা সাধারণ মানুষের দেখার জন্য রাখার আহবান জানান।

আবদুল ওয়াজেদ মন্ডলের সাংসারিক ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সাংসারিক অবস্থা খুব বেশি ভালো না। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান বকুল জায়গা-জমি দেখাশোনা করে। যেটুকু জমি আছে তা চাষাবাদ করে সংসার চলে । এখন তার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেতার নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। রাজনীতিতে হাতেখড়ি ১৯৬৬ সালের বাঙালির গণজাগারণ এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় বিহারি ও রাজাকারদের হাতে নির্যাতনের কথা। বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ট ভক্ত ওয়াজেদ মন্ডল জীবন সায়াহ্ এসে অতীত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কখনো কাঁদেন, কখনো বা হেসে ওঠেন শিশুর মতো।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com