1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
শিরোনাম :
হ্নীলায় টেকনাফ সাংবাদিক সমিতি (টেসাস) এর কার্যালয় উদ্বোধন আমি মরে গেলে আমার সব সৃষ্টি ধ্বংস করো- কবীর সুমন রাত ৮টায় এল ক্লাসিকো যুদ্ধে বার্সা-রিয়াল করোনায় আরও ১৯ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৯৪ সাংবাদিকনেতা গাজীর মুক্তির দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কক্সবাজার প্রধান সড়ক বিএস মতে সড়ক বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমিতেই নির্মিত হবে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির শোক দুঃসময়ে আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক: প্রধানমন্ত্রী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই টেকনাফ পৌর-ছাত্রলীগের বিশেষ জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

আলীগ সন্ত্রাসীদের জন্য রেড অ্যালার্ট

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৪ দেখা হয়েছে

বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী। প্রায় প্রতিদিনই তারা জড়িয়ে পড়ছেন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ঝুট-মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেই মূলত তাদের এই খুনোখুনি। নিজেদের মধ্যে সংঘটিত এসব সন্ত্রাসী ঘটনায় নেতাকর্মীসহ নিরীহ মানুষকেও প্রাণ দিতে হচ্ছে। এমনকি তাদের বুলেট থেকে রক্ষা পায়নি মাতৃগর্ভের শিশুও। শুধু তাই নয়, জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে সংগৃহীত চাঁদা নিয়েও ঘটেছে খুনের ঘটনা। সব মিলিয়ে লাগামহীন হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। পাশাপশি সব অর্জন ও সাফল্য ম্লান হচ্ছে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড। তাদের ধারণা সরকারকে বিতর্কিত করতেই দলের কিছু নেতাকর্মী এসব অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে। এরা বাইরে থেকে দলে ভিড়ে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে অপকর্ম করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সোমবার আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ মহল। পাশাপাশি ‘সন্ত্রাসী নেতাকর্মীদের’ পক্ষে তদবির না করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও এমপিসহ মহানগর, জেলা-উপজেলা নেতাদের দেয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশ। এসব নির্দেশের পরপরই সোমবার রাতেই ঢাকা ও মাগুরায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ছাত্রলীগের দুই নেতা। এর আগে রোববার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম বাইপাস রোডে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন কক্সবাজারের এক যুবলীগ নেতা। এসব ঘটনা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসী নেতাকর্মী’দের জন্য একরকম ‘রেড অ্যালার্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নীতিনির্ধারক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রীদের হুশিয়ার করে দেয়ার পর রাতেই র‌্যাব ও পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। এতে ঢাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আরজু মিয়া এবং মাগুরায় আরেক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান আজিবর শেখ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। ছাত্রলীগের এ দুই নেতা নিহত হওয়ার পর শাসক দলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সন্ত্রাস প্রতিরোধে সরকারের কঠোর এ অবস্থানে খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র আতংক। নিজেদের গুটিয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের অনেকে জীবন রক্ষায় আত্মগোপন ও বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে নিজ দলের নেতাকর্মীদের অব্যাহত সন্ত্রাস এবং খুনোখুনিতে অতিষ্ঠ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ‘ক্লিন হার্ট অপরাশেন’ শুরু করলে কমপক্ষে ৪৫ থেকে ৫০ জন মারা যায়। এর মধ্যে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক সন্ত্রাসী নেতাকর্মীও ছিল। শাসক দলের আরজু মিয়া ও মেহেদী হাসান আজিবর শেখ ছাড়াও এর আগে, ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সিদ্দিকী তারেক। তিনি যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে খুন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুগান্তরের কাছে সরকারের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি পরিষ্কার করেন। ঢাকাসহ সারা দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শাসক দল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের লাগামহীন সন্ত্রাস এবং খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। হঠাৎ করেই যেমন সন্ত্রাস বেড়েছে, তেমনই হঠাৎ করে তা কমে যাবে। এখন দেখতে পাবেন। এর বাইরে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান সরকার ও আওয়ামী লীগের এ প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক।

এর আগে দুপুরে রাজধানীর বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক নেতাকে আমরা চিনিও না। অনেক নতুন মুখ আছে। বিল বোর্ড দেখলে মনে হয়- বাংলাদেশ এখন নেতা উৎপাদনের কারখানা। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের মূলমন্ত্র কারও কণ্ঠে উচ্চারিত হয় না। তারা ছাত্র রাজনীতি বা ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে কথা বলে না। ছাত্ররা বক্তব্য শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি দিয়ে। তারপর তারা জাতীয় রাজনীতির কথা বলে। তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করে আরও বলেন, কেন ডাকসু নির্বাচন বন্ধ? এত বছরে ৪৮ জন ভিপি-জিএস হতো। ডাকসুসহ সারা বাংলাদেশের ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে এমনটা হতো না। ছাত্র রাজনীতিতে যে অসুস্থ ধারা তা পরিবর্তন হয়ে সুস্থতা ফিরে আসত। সুবাতাস বইত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সোমবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশ পাওয়ার পর বিকালে পুলিশ সুপারদের কাছে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে ই-মেইল বার্তা পাঠানো হয়। সূত্র বলেছে, এরপরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। এক রাতেই রাজধানীর হাজারীবাগ ও মাগুরায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতা।

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের খুনোখুনির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যুগান্তরকে বলেন, এগুলো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঘটেনি। ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এমনটি বলা যাবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগুলোকে ক্রসফায়ার বলছি না, এগুলো প্রকৃতপক্ষে বন্দুকযুদ্ধ। তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটে। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অনেক সময় অনেক কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়।’

এদিকে সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের লাগামহীন সন্ত্রাস ও খুনোখুনিতে ভীষণ ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে ২৩ জুলাই মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নাজমা খাতুন ও তার পেটের শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ায় এ ক্ষোভ এবং অসন্তুষ্টি আরও বাড়ে। সূত্রটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরার ঘটনার ওপর সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সার্বক্ষণিক তথ্য অবহিত হয়ে আসছেন। শুরুতেই তিনি গুলিবিদ্ধ নাজমা খাতুন এবং তার শিশুর সুচিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানোর নির্দেশ দেন তিনি। এ কারণে ঘটনার পরপরই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

কিন্তু এরপরও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বুধবার সিলেট, বৃহস্পতিবার ঢাকার বাড্ডা এবং শনিবার কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক দুটি ঘটনায় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকর্মী নিহত হন। নিজ দলের প্রতিপক্ষ গ্র“পের হাতেই তারা নিহত হয়েছেন। বুধবার সিলেটের মদন মোহন কলেজে ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্র“পের ছুরিকাঘাতে আবু আলী, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডায় হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামা, আওয়ামী লীগ নেতা শামসু মোল্লা এবং চাকরিজীবী ফিরোজ আহমেদ মানিককে, শনিবার কুষ্টিয়ায় সবুজ হোসেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে রবিউল ইসলাম নামের দুই আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হন। সর্বশেষ সোমবার রাজধানীর হাজারীবাগে রাজা মিয়া নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয় ছাত্রলীগের সভাপতি। এর আগে রোববার চাঁদপুরের কচুয়ায় জাতীয় শোক দিবসের চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় যুবলীগ নেতাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, গত কয়েক বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্র থেকে শুরু করে থানা পর্যায়ের নেতাদের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা না থাকলেও নানামুখী তদবির-সুপারিশে তারা এখন বৈধ অস্ত্রের মালিক। অবৈধ ছাড়াও এসব বৈধ অস্ত্রও ব্যবহার হচ্ছে খুন-খারাবিতে।

১৫ আগস্ট কুষ্টিয়ার মজমপুরে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে দু’গ্র“পের গোলাগুলির ঘটনায় আওয়ামী লীগ কর্মী টুটুলসহ বেশ কয়েকজনকে শটগানসহ হামলা চালাতে দেখা যায়। পরে প্রশাসন জানতে পারে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বেশিরভাগই লাইসেন্সকৃত। এ তথ্য পাওয়ার পর সরকারে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সোমবার কুষ্টিয়ায় ১২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্ত্রগুলো জব্দ করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২৩ জুলাই মাগুরায় যুবলীগের দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগমের গর্ভে থাকা শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে প্রথম। এ ঘটনা দেশ ছাপিয়ে বিশ্ব মিডিয়াতেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পায়। এতে বাংলাদেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামি ছাত্রলীগের মেহেদী হাসান ওরফে আজিবর শেখ সোমবার বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

এর আগে সোমবার ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের বাইপাস এলাকায় র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম আলোর কাছ থেকে র‌্যাব ১৯ লাখ টাকা ও ২ লাখ ১৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। জাহিদুল ইসলাম আলো কক্সবাজার এলাকার সরকার দলীয় এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। মূলত তার ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ছিলেন জাহিদুল ইসলাম আলো।

১৩ এপ্রিল দিবগত রাত পৌনে ২টার দিকে মদ্যপ অবস্থায় নিজের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র দিয়ে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডে প্রাডো গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান নীরিহ রিকশাচালক আবদুল হাকিম ও দৈনিক জনকণ্ঠের সিএনজি চালক ইয়াকুব আলী।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ইস্কাটনে সংসদ সদস্য পিনু খানের মদ্যপপুত্রের হত্যাকাণ্ড এবং মাগুরায় নাজমা খাতুন ও তার পেটের শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পরপরই সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ও দলের সিনিয়র মন্ত্রী এবং নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তার অসন্তুষ্টির কথা জানান। নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনা এই পরিস্থিতিতে কি করণীয় তাও জানতে চান। তখন নেতারা তাকে হার্ডলাইন অনুসরণের পরামর্শ দেন। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের বৈঠকে মাগুরার গঠনায় তীব্র সমালোচনা করেন শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। তারা দ্রুত ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানান। গণভবনসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো যুগান্তরকে জানিয়েছে, নিজ দল আওয়ামী লীগ ও মিত্রদের অসন্তুষ্টির পরপরই সরকারের মনোভাব মন্ত্রিসভার সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়। এ সময় সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় যা যা করণীয় তা বাস্তবায়নে নির্দেশ দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দলে যোগদানের বিষয়েও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কারণ এসব ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাই সহসাই যোগদানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের পক্ষে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠানো হবে। চিঠি অথবা মৌখিক নির্দেশনায় বিএনপি-জামায়াত এবং ছাত্র-শিবিরের অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ছাড়াও তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হবে। প্রশাসন বিশেষ করে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও সরকারের পক্ষ থেকে একই নির্দেশনা দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে সরকার ও ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করেছেন বলে তিনি মনে করেন। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ বিভিন্ন রকম সংঘাত ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। তবে এই সংঘাতের পেছনে অন্য কারণ রয়েছে বলে তার ধারণা। ফজলে হোসেন বাদশার মতে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দরজা বিএনপি, জামায়াত এবং ছাত্র-শিবিরের নেতাকর্মীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এর ফলে শাসক দলে আদর্শগত রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সংঘটিত হচ্ছে খুনাখুনি। তাই চিহ্নিত অপরাধী, বিএনপি-জামায়াত ও ছাত্র-শিবিরের নেতাকর্মীদের যোগদান বন্ধ এবং যারা যোগ দিয়েছে তাদের বের করে দেয়া ও অপরাধীদের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলোকে মতাদর্শগতভাবে পুনর্গঠনে মনোযোগী হতে হবে। তাহলেই এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর নির্লিপ্ততায় অপরাধ বাড়ছে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতার মোহে বেশির ভাগ সময় অন্ধ থাকে। রাতারাতি অর্থ প্রতিপত্তির জন্য তারা মরিয়া ওঠে। এ কারণে নিজেদের মধ্যে খুন-খারাবি করতেও দ্বিধাবোধ করে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ ব্যাপরে সরকারকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

উৎসঃ   যুগান্তর

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com