1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :
শিরোনাম :
সাংবাদিক মামুনকে হত্যার চেষ্টা ঘটনায় জড়িদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী সাংবাদিক ইব্রাহীম খলিল মামুনকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবিতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন কলাতলী ডলফিন মোড় থেকে ইয়াবাসহ যুবক আটক কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিদর্শন করলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ঈদগাঁও থানার উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে নিহিত ছিল বাঙালীর মুক্তির ডাক-অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান এডঃ ওসমান গণি’র মৃত্যুতে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির শোক উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্তিতে র‌্যাবের আনন্দ উদযাপন 

আলোর মশাল

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৫
  • ৫৯ দেখা হয়েছে

মুহাম্মদ শামসুল হক শারেক :
ছাত্র জীবনে পড়ালেখার সময় যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমার কাছে হ্দৃয়াগ্রহী ছিল তার মধ্যে একটি কক্সবাজার সরকারী কলেজ। টেকনাফ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে ১৯৮৪/৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ভর্তি হয়েছিলাম কক্সবাজার সরকারী কলেজে। তখনো প্রিন্সিপ্যালের দায়িত্বে ছিলেন এই অঞ্চলের অন্যতম শিক্ষাবিদ এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপ্যাল মরহুম স আ ম শামসুল হুদা চৌধুরী। অবশ্য ইন্টারের পরে আমার আর এখানে পড়া হয়নি। বাকি লেখা পড়া চট্টগ্রাম সরকারী কলেজেই শেষ করি। চট্টগ্রাম সরকারী কলেজও ছিল আমার কাছে অন্যতম হ্দৃয়াগ্রহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই দুই প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে গেলেই ভাবতাম ভবিষ্যতে আমার ছেলে মেয়েরা ওখানে পড়তে পারলে আমার ভাল লাগবে।
শিক্ষা দীক্ষায় অনগ্রসর কক্সবাজার জেলায় ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ‘কক্সবাজার কলেজ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই অঞ্চলে ‘আলোর মশাল’ জ্বালিয়েছিলেন কক্সবাজারের সন্তান একদল শিক্ষাবিদ ও কিছু শিক্ষানুরাগী। তাঁদের কেউ কেউ এখনো বেঁেচ আছেন। আবার অনেকেই চলে গেছেন পরপারে। তাঁদের সে প্রচেষ্টা আজ মহিরুহে পরিনত হয়েছে। ০১.০৩.১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে কক্সবাজার কলেজ সরকারী করণ হয়। আজ ১০টি বিষয়ে অনার্সসহ এটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। বর্তমানে কক্সবাজার সরকারী কলেজেরে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১০ হাজারের অধিক। ১৫/১৬ জন শিক্ষক ঘাটতি থাকলেও শিক্ষক সংখ্যা এখন ৪৬ জন। এপর্যন্ত এ কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন শেষে সমাজের অনেক উচুঁ এবং গুরুত্বপুর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন সমাজের বিভিন্নস্তরে।
আল্লাহর মেহেরবাণীতে আমার একমাত্র পুত্র সন্তান মুহাম্মদ নাঈম শারেক গতবছর ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে কক্সবাজারের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে (বিজ্ঞান বিভাগে) কৃতিত্বের সাথে দাখিল পাশ করে বিজ্ঞানে অধিকতর ভাল করার আশায় মাদ্রাসা থেকে কলেজে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমের সুফলই! বলতে হয়। নাঈম কক্সবাজার সরকারী কলেজ ও চট্টগ্রাম সরকারী কলেজে সান্স পেয়ে যায়। তবে বিপত্তি ঘটে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। তাই সিদ্ধান্ত হয় অন্তত ইন্টার পর্যন্ত আমার কাছে রাখার। সে ভর্তি হয় কক্সবাজার সরকারী কলেজে।
দিনের অধিকাংশ আমার সময় চলে যায় কলেজ পড়–য়া ছেলে ও মাদ্রাসা পড়–য়া আরো দুই মেয়ের দেখাশুনা ও তদারকী করতে। গত কয়েক বছর ধরে সময় কেটেছে, সকালে হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসায় ও দুপুরে ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায়। এসুবাদে হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসায় গভার্নিং বডিতে সদস্য এবং ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষক অভিভাবক কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় আমাকে। এখন আবার কক্সবাজার সরকারী কলেজেও আমার যাতায়াত বেড়ে যায় বাচ্চার কারণে। আমি যদ্দুর বুঝি শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয়ের মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের পড়া লেখার অগ্রগতি হয়। নাঈমের পড়া-লেখার খোঁজ নিতে গতকাল কক্সবাজার কলেজ ক্যাম্পাসে অনেকক্ষণ সময় দিতে হয়েছে আমাকে।
কলেজের বর্তমান প্রিন্সিপ্যাল মহোদয় প্রফেসর ফজলুল করিম সাহেব অত্যন্ত স্বজ্জন ও অমায়িক ব্যক্তিত্ব। একটি বিশবিদ্যালয় কলেজের প্রিন্সিপ্যাল হিসেবে তাঁর কাছে তেমন কোন ভাব সাব নেই। শিক্ষক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সকলের সাথে তাঁর অমায়িক আচরণ মুগ্ধ করে সবাইকে। তাঁর অফিস কক্ষে বসে নাঈমের পড়া লেখা বিষয়ে কথা তুলতেই ডেকে পাঠালেন নাঈমকে। সাথে সাথেই তার সমস্যা গুলো খুঁজে বের করে প্রতিদিন সকালে কলেজ টাইমের আগে কয়েক মিনিট স্যারের সাথে তার পাঠ নিয়ে আলাপ করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর এই ভূমিকায় কিছুটা আশ্বস্থ হলাম আমি। প্রিন্সিপ্যাল মহোদয়ের অফিসেই তখন দেখা হয়ে যায় অনেক আগের এক বন্ধু কাশেম ভাইয়ের সাথে। তিনি এখন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সহকারী কলেজ পরিদর্শক। আরো দেখা হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন সাহেব ও ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ উল্লাহ সাহেবের সাথে।
একটি খুশির খবর হলো বর্তমান সরকার সম্প্রতি দেশের শতাধিক কলেজে ৪টি বিদেশী ভাষা শেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এই সুযোগে কক্সবাজার সরাকারী কলেজেও ‘ফরেন লে্গংুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার’ খোলা হয়েছে। এখানে আরবী, ইংরেজী, ফ্রান্স ও কুরিয়ান ভাষা শিক্ষা দেয়া হবে। এটি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও সর্ব সাধারণের জন্য খোলা থাকবে। এর সার্টিফিকেট বিদেশগামীদের কাজে লাগবে। এধরণের একটি আরবী ভাষা সেন্টার খোলার জন্য কক্সবাজারের তিনটি কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে আমি দীর্ঘদিন থেকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলাম। এ ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহ দেখা গেলেও তা বাস্তবে হয়ে উঠেনি।
প্রিন্সিপ্যাল সাহেব কথা প্রসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরলেন। যেগুলো নিরসন করা দরকার। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ও কিছু কিছু ভুলের কথা স্বীকার করছেন। যেমন তিনি পয়েণ্ট আউট করলেন শিক্ষা সচিবের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। এই পদে একজন শিক্ষা ক্যাডারের লোক থাকলে তিনি শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো বুঝতে এবং নিরসন করতে সহজ হয়। তাছাড়া শিক্ষা সচিব পদে যিনি থাকবেন তিনি অবসরে যাওয়া পর্যন্তই শিক্ষা সচিব থাকলে অনেক সুবিধা হয়। বারবার শিক্ষা সচিব পরিবর্তন হলে কাজ বুঝতে, সমস্যা চিহিৃ‎‎‎ত করতে এবং সমাধান দিতে সমস্যা হয়ে থাকে। একইভাবে গতবারের ডিজিটাল ভর্তি পদ্ধতি নিয়েও কথা হয়। প্রিন্সিপ্যাল সাহেব সুন্দর মতামত দিলেন এব্যাপারে। তিনি বললেন এব্যাপারে দেশের গুরুত্বপুর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মতামত নেয়া যেত। এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রজেক্ট করে এর সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করে পরবর্তীতে ব্যাপক আকারে করা যেত। তাতে এখন যেসব অসঙ্গতি দেখা গেছে তা আর থাকত না। তাঁর কলেজে শিক্ষক সংকট নিয়েও কথা বললেন তিনি।
আরো একবছর আগে শহরের আদর্শ একটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ তিতুমীর ইনস্টিটিউটের অভিভাবক সমাবেশে ফজলুল করিম স্যারের সাথে আমিও অতিথি ছিলাম। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ শফিকুল হক সাহেবের অনুরোধে গিয়েছিলাম সেখানে। প্রিন্সিপ্যাল সাহেব তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সমাজের নৈতিক অবক্ষয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনামূলক একটি কথা বলে ছিলেন সেদিন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, টিভিতে নাটকের সিরিয়াল দেখা আর নৈতিকতা সম্পন্ন ছেলে-মেয়ে একসাথে পাওয়া সম্ভব নয়। যেসব পরিবারে এসব সিরিয়াল দেখা চলবে সেখানে নৈতিকতা সম্পন্ন ছেলে-মেয়ে পাওয়া দুরাশার ব্যাপার।
গতকাল ক্যাম্পাসে ঢুকেই দেখা হয় ভাইস প্রিন্সিপ্যাল জনাব সলিমুর রহমানের সাথে। তাঁর অফিস কক্ষে আরো দেখা হয় পদার্থ  বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মুফিদুল আলম সাহেব ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল আহসান সাহেবের সাথে। অবশ্য তাঁদের সাথে হৃদ্যতা ও পরিচয় অনেক আগে থেকেই। অনেকের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনও আছে।
কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়েই মনে পড়ে সেই ত্রিশ বছর আগের কথা। কলেজ ক্যাম্পাসের মসজিদটি তখন নির্মাণ করা হবে। মসজিদের তলায় মাটি ভরাট করা হবে। আমরা ছাত্ররা দায়িত্ব নিয়ে মসজিদের তলায় মাটি ভরাট করেছিলাম। আর স্যারেরা তদারকী করছিলেন। আজ কলেজের মান বেড়েছে। শিক্ষার্থী বেড়েছে, ভবন বেড়েছে। কিন্তু মসজিদটি এখনো জরাজির্ণ। এপ্রসঙ্গে প্রিন্সিপ্যাল সাহেব বললেন, শিক্ষার্থী বেড়েছে। মসজিদে নামাজ আদায়ের জায়গার সংকুলান হচ্ছেনা। মসজিদটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না পেয়ে তা সংস্কার করা যাচ্ছে না। নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণে অনুমতির কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
আমার বড় মেয়ে মারজান বিনতে শারেক ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা থেকে (বিজ্ঞান বিভাগে) কৃতিত্বের সাথে দাখিল পাশ করার পর ভর্তি করতে গিয়েছিলাম কক্সবাজার সরকারী কলেজে। তৎকালনি প্রিন্সিপ্যাল প্রফেসর জনাব বাবুল কান্তি পাল আমার মেয়েকে খুবই সময়োচিত একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি কলেজে শিক্ষক ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন ‘বাবা আমি একটি সরকারী অনার্স কলেজের পাওয়ারফুল প্রিন্সিপ্যাল। কিন্তু আমি চাইলেই এগুলো পূরণ করতে পারি না। তুমি মেয়ে মানুষ বিজ্ঞানের বিষয় গুলো কভার করতে তোমার কষ্ট হবে। ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় এত শিক্ষক ঘাটতি নাই। তাই সেখান থেকেই ইন্টার পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি’। আল্লাহর মেহেরবাণীতে মারজান ইসলামিয়া কামিলা মাদ্রাসা থেকেই আলিম (ইন্টার) পাশ করে এখন ঢাকার একটি বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে ৩য় বর্ষ কমপ্লিট করছে।
নাঈমকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে মনে হয় আমি একটু বেশী সচেতন। তাই তার পড়া লেখা, স্বাস্থ্য, খাওয়া দাওয়াসহ সব ব্যাপারে আমার উদ্বিগ্নতার অন্ত নেই। মহান আল্লাহর কাছে কামনা করি নাঈম যাতে একজন আদর্শ মানুষ হয়ে ইহকাল ও পরকালে আমার মুক্তির উসিলা হয়। একজন সফল মানুষ হয়ে দেশ গড়ার কাজে যেন আত্ম নিয়োগ করতে পারে।
কক্সবাজার জেলায় আরো ১৫টির মত কলেজ থাকলেও অনার্স কলেজ একটিই, কক্সবাজার সরকারী কলেজ। এর ঐতিহ্য এবং শিক্ষার্থী সংখ্যা বিবেচনা করে দ্রুততার সাথে এর সমস্যা গুলো সমাধান করার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি। ১৮.০৮.২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ। # ‎
কক্সবাজার ব্যুরোচীফ দৈনিক ইনকিলাব, প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক হিমছড়ি । পরিচালক আল কুরআন সোসাইটি কক্সবাজার। মোবাইল ঃ ০১৮১৯-১৭০১৯০, email : inqilab.cox@gmail.com

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com