1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

আশার আলো

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৫
  • ৭ দেখা হয়েছে

মুহাম্মদ শামসুল হক শারেক :
দেশের মানুষের মনে আশার অলো জ্বালিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় বিশ কোটি মানুষের টানাপোড়নের বিশাল সংসার আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এত বিশাল একটি পরিবার সামাল দেয়া অনেক বড় কথা। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে ২য় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়ে শক্তহাতে সরকার পরিচালনা করেছেন তিনি। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছাড়াও কিছু কিছু কারণে দেশের বিশাল ইসলামী জনগোষ্ঠী হতাশ হয়ে পড়েছিল। সরকারের উপরের মহলের সাথে সম্পর্ক রাখেন এমন কিছু ব্যক্তিবর্গের ইসলামী বিধি-বিধান নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করা ছাড়াও কিছু বিপদগামী লেখক স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার নামে ধর্ম বিরোধী/ইসলাম বিরোধী আপত্তিকর লেখালেখী করে ক্ষুব্ধ করে তোলে দেশের ইসলামী জনতাকে। এতে করে দেশের ইসলামী জনতা আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে হতাশায় ভোগছিল।
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর পর ওআইসি সম্মেলনে যোগদিয়ে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে, তুরাগ নদীর পাড়ে তাবলীগ জামায়াতের বিশ্ব ইজতিমার জন্য জমি বরাদ্দ দিয়ে এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুর্কারম এর দৃষ্টি নন্দন সংস্কার করে ইসলামী চেতনায় বাংলাদেশকে যে মুসলিম উম্মাহর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলতে চেয়েছিলেন তা থেকে বাংলাদেশ সরে যাচ্ছে কিনা এ নিয়েও ইসলামী জনতা ছিল সন্দিগ্ধ। কিন্তু না, ইসলামী চেতনা ও ইসলামী বিধি-বিধানের পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুষ্পষ্ট অবস্থান দেশের ইসলামী জনতার হতাশা দূর করে তাদের মাঝে জ্বালিয়েছে ‘আশার আলো’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ভূমিকা প্রসংশিত হয়েছে দেশে-বিদেশে। অভিনন্দিত হয়েছে দেশবাসীর কাছে, ইসলামী জনতার কাছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয় এমন কথা বা কাজ না করতে সবার প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবান জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন নাগরিক সমাজ। পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য অনুরণিত হয়েছে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সব অর্গান থেকেও। এতে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে একটি বার্তা পেয়েছে দেশের মানুষ।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয় এমন কথা বা কাজ না করতে সম্প্রতি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১২ আগষ্ট ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ রাজধানীর রমনায় তথ্য ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘প্রত্যেক ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে। কেউ কারো ধর্মে আঘাত দিয়ে কোনো কাজ করবে না এবং বলবে না। সেইভাবেই আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই’। এসময় সমাজের ক্ষতি করে এমন তথ্য প্রচার না করতেও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘যেসব তথ্য মানুষের উপকারে আসে, সেসব প্রচার করুন। আর যেগুলো মানুষের ক্ষতি করে, সমাজে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং বিভ্রান্তিকর সেগুলো প্রচার করবেন না। শুধু সমালোচনা করবেন না। উন্নয়নের কথাও প্রচার করুন। বিশেষ করে শিশু মনে প্রভাব ফেলে এমন বিষয়ও প্রচারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য এর ক্ষতিকর দিকগুলো প্রচার করতে হবে’।
গত ১৩ আগষ্ট ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজ্জযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও চলতি সালের হজ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, এখানে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নারী নির্যাতন, মাদকসহ কোনো অপরাধের স্থান নেই। তারপরও এসব ঘটে। সরকার মানুষকে এসব বিষয়ে সচেতন করার কাজ করছে, বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, হজযাত্রীদের সঙ্গে কেউ যেন প্রতারণা করতে না পারে সরকার সে ব্যবস্থা নিয়েছে। কেউ হজ প্রতারণা করলে তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। হজযাত্রীদের নিবন্ধন নিয়ে জটিলতা এড়াতে সারা বছরই রেজিষ্ট্রেশন চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রী হজে গিয়ে হাজিদের দেশ, দেশের মানুষ ও নিজের জন্য দোয়া করতে বলেন।
হাজিদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র জায়গায় যাচ্ছেন, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আমার হাত দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণ করতে পারি। দোয়া করবেন যে গুরু দায়িত্ব আমি পেয়েছি যেন আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারি। বিশেষ করে দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন, এদেশের মানুষ যেন শান্তিতে থাকে, সুখে থাকে। মানুষকে যেন অশান্তির আগুনে পুড়তে না হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই ইসলামের সেবা করেছে। অতীতে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। আমরা চাই সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবে। ১৯৮৪ সালে প্রথম ওমরাহ পালন এবং ১৯৮৫ সাল থেকে ১২ বার হজ পালনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় কী কী অসুবিধা ছিল, তা দেখেছি। তা দূর করার চেষ্টা করেছি। সরকার গঠনের পর থেকে হজযাত্রীদের সব সমস্যা সমাধানের আন্তরিক চেষ্টা করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি সউদি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সউদি সরকার হাজিদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা করে দিয়েছে।
হাজিদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘তিনি ছিলেন একজন খাঁটি মুসলমান। মাত্র সাড়ে তিন বছরের সরকারে তিনি দেশের হজযাত্রীদের কল্যাণে নানাবিধ পদক্ষেপ নেন। কম খরচে হজে যাওয়ার জন্য তিনি হিজবুল বাহার জাহাজ ক্রয় করেন এবং বাংলাদেশ থেকে তিনিই প্রথম হজযাত্রী পাঠান। শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তিনি ইসলামের প্রচার, প্রসার ও গবেষণার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছেন। বঙ্গবন্ধু তাবলীগ জামাতের জন্য কাকরাইল মসজিদের জমি দান ও টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমার জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন’।
একইভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যও আশান্বিত করেছে নাগরিক সমাজকে। ‘ব্লগে বা অন্য কোনো মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিলে দেশের প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গত ১১ আগষ্ট ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকার আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় হত্যাকা-ের যথেষ্ট প্রমাণ ও ক্লু আমাদের হাতে আছে। আমরা অনুমান-নির্ভর কোনো কিছু করতে চাই না’।
যেসব ব্লগার মুক্তমনা পরিচয় দিয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে তাদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ৯ আগষ্ট ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আরো সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ব্লগাররা ব্লগে কী লেখেন সে বিষয়ে খোঁজ রাখবেন গোয়েন্দারা। যাঁদের ব্লগে ধর্ম বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, কটূক্তি পাওয়া যাবে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এ ছাড়া যারা ব্লগারদের হত্যা করেছে তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’। সরকারের এসব সিদ্ধান্ত গুলো অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।
এদিকে একই দিন বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ব্লগারদের ‘সীমা লঙ্ঘন’ না করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কেউ লেখালেখি করবেন না। এমন লেখালেখির প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা গুরুতর অপরাধ, এতে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সাজা হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘লেখালেখির সময় আমরা যেন সীমা লঙ্খন না করি, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আমি মুক্তমনাদের সীমা লঙ্ঘন না করার আহ্বান করছি।’
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সেদিন উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। এ ছাড়া আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, যুগ্ম সচিব মফিজুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে ধর্মীয় অনূভূতিতে আঘাতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের আইজিপি শহীদুল হক ও ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আওয়ামী ওলামা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলহাজ কাজী মাওলানা আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী ও সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি আলহাজ হাফিজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার। তারা সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে এ জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানান।
সরকারের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের পর ১৩ আগষ্ট ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘দৈনিক ইনকিলাব’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিশেষ এক ‘রাজনৈতিক ভাষ্য’ প্রকাশ করে। এতে বলা হয় ’ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হয় এমন কথা কাজ না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে। কেউ কারো ধর্মে আঘাত দিয়ে কোনো কাজ করবে না এবং বলবে না’। যথার্থই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদেশের মানুষের নাড়ির স্পন্দন তিনি বোঝেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূর-দৃষ্টিসম্পন্ন সময়োপযোগী এ বক্তব্যের জন্য তাকে অভিনন্দন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তার এ বক্তব্য মিডিয়ার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে প্রচার হয়েছে-হচ্ছে। এতে করে সারাবিশ্ব সরকারের বার্তা পেয়েছে। যারা তথাকথিত মৌলবাদী-জঙ্গীবাদীর উত্থানের নামে বাংলাদেশের গলা চেপে ধরতে চায় তারা হালে পানি পাবে না। দেশের কিছু সাংস্কৃতির ব্যক্তিত্ব ও ইসলামবিদ্বেষী তার (প্রধানমন্ত্রী) বক্তব্যে আশাহত হলেও সারাদেশের মানুষ স্বস্থিবোধ করছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রশাসনে কর্মকর্তাদের জন্য যেমন ‘বার্তা’ তেমনি ইসলামবিদ্বেষীদের জন্য সতর্কতাও বটে। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামের নামে যারা উগ্র চিন্তা-ভাবনা করেন বলে প্রচার রয়েছে তাদের সঙ্গে ইসলামের কতটুকু সম্পর্ক রয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় রয়েছে।
দেশে কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা প্রগতিশীলতার নামে ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করেন। বহু বছর ধরে তারা এটা করে আসছেন। কেউ কমিউনিস্ট কেউ পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা লালন করায় তারা কথায় কথায় মাদ্রাসা শিক্ষা, আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ শব্দগুলো গুলিয়ে ফেলেন। তৌহিদী জনতাকে তুচ্ছজ্ঞান করেন। ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখায় এরা আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন। ধর্মনিরপেক্ষতার ধোঁয়া তুলে ইসলামী শিক্ষার প্রচার ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। এদের অপপ্রচার, সমালোচনা, বিরোধিতার পরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদ্রাসা শিক্ষা ও ইসলামী শিক্ষার প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন স্বতন্ত্র ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় করেছেন। পেশাগত এবং সৃজনশীল সৃষ্টির কারণে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার মানুষের পরিচয় হয়। কিন্তু ব্লগার মানুষের কোনো পরিচয় হতে পারে না। নিলাদ্রি চট্টপাধ্যায় খুনের পর তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। যত না মানুষের মধ্যে তার চেয়ে বেশি কিছু মিডিয়ায়। তার হত্যাক- নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চলছে ব্যাপক। কোনো হত্যাই সমর্থন যোগ্য নয়। হত্যাকারীর বিচার হোক সবাই চায়। কিন্তু তদন্তের আগেই প্রচার করা হয় জঙ্গি, ইসলামী মৌলবাদীরা এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে।
তথাকথিত প্রগতিশীলদের পাল্লায় পড়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা বাগড়াম্বরপূর্ণ কথাবার্তা বললেও দলটির অধিকাংশ নেতাই ধর্মীয়ভাবে সচেতন। কখনো তারা ইসলাম নিয়ে কটাক্ষ করেনি এবং অন্যের কটাক্ষ সহ্য করেননি। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই ইসলামবিদ্বেষীদের প্রশ্রয় দেননি। বরং সব সময় তিনি ইসলামী অনুশাসনের কথা বলেছেন এবং নিজেও তা মেনে চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নিলাদ্রি খুনের পর প্রগতিশীলদের কেউ কেউ ‘মাওকা’ পেয়ে বসেছিল। তারা নিলাদ্রির প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও তাদের বিচারের দাবির চেয়ে বেশি উৎসাহী হন ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণায়। কিন্তু সরকার তাদের এই পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই সে ইঙ্গিত দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে সেটা দেশবাসীর কাছে আরো পরিষ্কার হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে যে বার্তা তাতে তথাকথিত প্রগতিশীল, মুক্তমত প্রকাশের নামে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে অভ্যস্ত এবং তাদের সমর্থনকারীরা আশাহত হলেও ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে দেশের ১৬ কোটি মানুষ আশাবাদী হয়েছেন। নাগরিক হিসেবে সংখ্যাগুরু হোক আর সংখ্যালঘুই হোক কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া বা ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করা সরকার বরদাস্ত করবে না। যথাসময়ে এই বার্তা দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবারো ধন্যবাদ’। ২৩ আগষ্ট ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ।
কক্সবাজার ব্যুরোচীফ দৈনিক ইনকিলাব, প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক হিমছড়ি। পরিচালক আল কুরআন সোসাইটি কক্সবাজার। মোবাইল : ০১৮১৯-১৭০১৯০, email : inqilab.cox@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com