1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. joaopinto@carloscostasilva.com : randaldymock :
  3. makaylabeaurepaire@1secmail.com : scotty7124 :
  4. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  5. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  6. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

“আশায় বেঁধেছি প্রাণ-সুখি হতে পারিনি” ক্ষোভ-আনন্দে চট্টগ্রাম জাপার সম্মেলন কাল

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ২৬ দেখা হয়েছে

এইচ এম এহসান, চট্টগ্রাম :
“আশায় বেঁধেছি প্রাণ সুখি হতে পারিনি” কন্ঠ শিল্পী আসিফের একটি গানের লাইনের সুরের সাথে অনেকটা মিল রয়েছে এ সম্মেলনের। কেননা দীর্ঘ ১৭ বছর পর নগর জাপার সম্মেলন করেছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সাবেক নগর সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ। ৩ বছরের জন্য তাঁর কমিটি গঠন হলেও তা মাত্র এক বছরেই ভেঙ্গে নতুন সম্মেলন প্রস্ততি কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তার দীর্ঘ দিনের শ্রম ও ত্যাগকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে মহাসচিব এ কমিটি দিয়েছে বলে তার ও তার অনুসারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ প্রবাহিত হচ্ছে। সোলায়মান শেঠ ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হওয়া ৩বছরের কমিটির দীর্ঘ আশা প্রাণ বাঁধলেও তিনি সুখি হতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। তার কমিটি এক বছরের মধ্যেই বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। মহানগরের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মেহজাবিন মোরশেদ এমপিকে আহবায়ক করে। কাল ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তার নেতৃত্বে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। এ উপলক্ষে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ড়, থানা ও মহানগর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে চলছে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা, কর্মী সভা, সংবাদ সম্মেলন।
জানা যায়, অনেকটা ঝিমিয়ে নগর জাতীয় পার্টিতে ২০০৪ সালে সোলায়মান আলম শেঠ দায়িত্ব নেওয়ার নতুন মোড় নেই। যোগ্যতার সাথে দীর্ঘদিন আহবায়ক ও সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে তার নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে গেলেও অভিযোগ রয়েছে ত্যাগী অনেক নেতা-কর্মীরা তার কমিটিতে স্থান পাননি। তাদের দাবী, শুধুমাত্র তাকে তোষামোদকারীরাই তার কমিটিতে স্থান পেয়েছিল। তাদের দীর্ঘদিন চেপে রাখা কষ্টের অবসান ঘটে কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিমের সহ ধর্মীনি জাতীয় পার্টি পরিবারের কন্যা মেহজাবিন মোরশেদ নগর আহবায়কের দায়িত্বভার নেওয়ার পর। এর পর থেকে চলছে পক্ষে- বিপক্ষে সভা-সমাবেশ, প্রেস বিফিং, পত্রিকায় শিরোনাম। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নেই। প্রতিযোগীতার পাল¬া দিয়ে চলছে দল ভারি করার মিশন। ১০ সেপ্টেম্বর সম্মেলনের ঘোষনা দিলেও নগরের প্রতিটি ওয়ার্ড়ে ও থানায় সম্মেলন শেষ না করে তড়িঘড়ি করে মান বাঁচাতে এ সম্মেলন বলে অভিযোগ সোলায়মান আলম শেঠের। তিনি নগর জাতীয় পার্টির দূর্গকে নেতৃত্ব শূন্য করতে এ সম্মেলন বলে ও অভিযোগ করেন। তবে সম্মেলনে কেউ কোন ধরনের বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম।
মহানগর জাপার সদস্য সচিব বলেন, প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড়ে আমাদের কমিটি রয়েছে। আমরা প্রত্যেকটি থানা থেকে বাছাইকৃত, যোগ্য ও ত্যাগীদের নিয়ে আগামীকালের সম্মেলন করতে যাচ্ছি। আগের কমিটিতে যে সব ত্যাগী নেত-কর্মী বঞ্চণার শিকার হয়েছিল আমরা তাদের মূল্যায়ন করেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা সুন্দর একটি সম্মেলন ও কমিটি পল¬ীবন্ধুকে উপহার দিব। যারা আমাদের নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ওটা তাদের স্বভাব দোষে পরিনত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড়ের নেতা-কর্মীরা আজ উজ্জিবীত। দীর্ঘদিন থেকে সম্মেলনকে ঘিরে আমাদেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে সফলভাবে। সবাইকে সম্মেলন সফল করার আহবান জানান তিনি।
এদিকে তিলে তিলে গড়ে তোলা জাতীয় পার্টিকে একজন বাবলুই নিষ্প্রান করতে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন দলের প্রেসিডিয়াম ও মহানগরের সাবেক সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ । তিনি বলেন, আমার শ্রম, ত্যাগ চট্টগ্রামবাসী জানে। নেতা-কর্মীদের সুখে-দুখে ছুটে গিয়েছি। ২০০৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর লাইফ সাপোর্টে থাকা নগর জাতীয় পার্টিকে রংপুরের পর আরেকটি দূর্গ হিসেবে গড়ে তুলেছি। স্যার ও মহা সচিব যদি পার্টিকে গলা টিপে হত্যা করে আমার কিছু বলার নেই। সম্মেলনে আসবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যার যদি আমাকে ডাকে অবশ্যয় যাব। তবে আমাকে বক্ততার জন্য সময় দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ও আমি নগরের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্মেলনের মাধ্যমে ৩ বছরের জন্য পূণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু বছর পার না হতেই কমিটি ভেঙ্গে দেই মহাসচিব। এখন জাতীয় পার্টি এসি রুমে বন্দি। পদ বাঁচাতে কোন থানা কমিটি না করে এ সম্মেলন। এ সম্মেলন অনেক ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা বর্জন করেছে। এ সম্মেলন স্বামী স্ত্রীর একটি সিনেমা ছাড়া আর কিছু নই।
তবে মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মাহজাবীন মোরশেদ এমপি বলেন, কাউকে মাইনাস করে রাজনীতি করার শখ মেহজাবিনের নেই। ত্যাগী অনেক নেতাকর্মী যারা এতদিন যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ছিল তারাই এখন বর্তমান চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সাথে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উক্ত সম্মেলন উপলক্ষে সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পল¬ীবন্ধু এরশাদের চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মহানগর নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করে দিন-রাত প্রচারণা চালাচ্ছেন। সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় কর্মী সমর্থকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা উদার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। তাই কারো প্রতি বিদ্ধেষ নয়, সবার সমন্বয়ে নতুন-পুরাতনকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরে দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। তিনি বলেন, যারা মূলধারা থেকে এতদিন দূরে ছিলো তারাও এখন ফিরে এসেছে। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। জাতীয় পার্টি আমাদের পরিবার আমরা সবাই তার সদস্য। আমাদের মহান নেতা পল¬ীবন্ধু এরশাদ সকলের অবিভাবক।
রাত পোহলেই সম্মেলন। মূল সংগঠনের পাশাপাশি নির্ঘূম ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জাতীয় যুব সংহতি, সেচ্ছাসেবক পার্টি ও ছাত্র সমাজের নেতা-কর্মীরা।
মহানগর জাতীয় ছাত্র সমাজের আহবায়ক নজরুল ইসলাম জানান, সম্মেলনকে ঘিরে নগরের প্রতিটি থানায় থানায় তাদের প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নেতা-কর্মীরা উৎফুল¬ভাবে সম্মেলনে অংশ গ্রহন করবে। তবে পল¬ীবন্ধুকে আজ বিমানবন্ধর থেকে ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে বিশাল শো ডাউনের মাধ্যমে অভিনন্দন জানাবেন বলে জানিয়েছেন সদস্য সচিব এন এম সেলিম জাহাঙ্গীর।
একটি সম্মেলনেই সব শেষ নই। যোগ্য নেতৃত্বে সাথে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিতে না পারলে সে সভাপতির কোন দাম নেই এমনটি মন্তব্য এরশাদ প্রিয় মানুষের। তাদের দাবী, দলের হাল যেই ধরুকনা কেন, নেতা-কর্মীদের সুখে-দু:খে, বিপদাপদে, সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ মেয়াদী একটি রোড়ম্যাপ তাকে তৈরি করতে হবে। যাতে জাতীয় পার্টির হারানো গৌরব ফিরে আসে।

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com