1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :
শিরোনাম :
সাংবাদিক মামুনকে হত্যার চেষ্টা ঘটনায় জড়িদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী সাংবাদিক ইব্রাহীম খলিল মামুনকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবিতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন কলাতলী ডলফিন মোড় থেকে ইয়াবাসহ যুবক আটক কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিদর্শন করলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ঈদগাঁও থানার উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে নিহিত ছিল বাঙালীর মুক্তির ডাক-অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান এডঃ ওসমান গণি’র মৃত্যুতে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির শোক উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্তিতে র‌্যাবের আনন্দ উদযাপন 

ইউরোপের সমস্যা : অভিবাসীদের স্রোত

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৪০ দেখা হয়েছে

নুরিয়েল রুবিনি একজন মার্কিন অর্থনীতিবিদ। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্ট্যারন স্কুল অব বিজনেসের একজন শিক্ষক ও কনসালট্যান্সি ফার্ম রুবিনি গ্লোবাল ইকোনোমিকসের চেয়ারম্যান। তার জন্ম তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। বাবা-মা ইরানিয়ান ইহুদি। জন্মের পরপরই রুবিনির পরিবার ইরানে ফিরে আসে। পরে কিছু দিন ইসরাইলে বসবাসের পর তারা ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মিলানের একটি ইহুদি স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরে ওই শহরের বিখ্যাত বকোনি ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিকস’ বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে মার্কিন নাগরিক নুরিয়েল রুবিনি ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি ফারসি, হিব্রু, ফ্রেঞ্চ ও ইতালিয়ান ভাষাতেও পারদর্শী। কর্মজীবনে তিনি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইসরাইলে চাকরি করেছেন। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসনে তিনি ছিলেন একজন সিনিয়র অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। অর্থনীতি নিয়ে তার করা পূর্বাভাসগুলোর বেশির ভাগই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে গত দশকের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়ে তিনিই প্রথম সতর্ক করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি দুই সপ্তাহের সফরে ইউরোপে এসেছিলেন। এ সময় তিনি ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ সফর করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসে তিনি তার এই সফরের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। ‘ইউরোপ’স বারবারিয়ানস ইনসাইড দ্য গেট’ শিরোনামের লেখাটি অনুবাদ করেছেন আশরাফ হায়দার চৌধুরী


 

ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি খুবই হতাশ। গঠনমূলক কোনো চিত্র বা আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো কিছু আমি দেখতে পাচ্ছি না। নভেম্বরের শুরুতে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ফ্রান্স এখনো বিষণ্ন। ওই ঘটনার রেশ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ঘটনার জন্য মুসলমানদের দায়ী করে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের মুসলিম কর্মচারীদের বিদায় করে দিচ্ছে। অনেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব গিয়ে পড়বে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- এ ধরনের একটি সন্ত্রাসী ঘটনার পর উগ্র জাতীয়তাবাদীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। ফ্রান্সে কিছু দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে আঞ্চলিক নির্বাচন। নভেম্বরের ঘটনাকে পুঁজি করে মেরি লি পেলের উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল ফ্রন্ট ওই নির্বাচনে ফায়দা লুটতে চাইবে।
ইউরোপের জন্য আরেকটি দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে অভিবাসীদের স্রোত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নানা চেষ্টা ও কৌশল করেও অভিবাসী তথা উদ্বাস্তুদের জন্য সঠিক কোনো ব্যবস্থাপনা বা কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। বলতে গেলে ওই মুহূর্তে ইউরোপ যেসব সমস্যা মোকাবেলা করছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো এই উদ্বাস্তু সমস্যা। এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে আসা এসব উদ্বাস্তুকে আপনি কোথায় স্থান দেবেন? আপনি বড়জোর ২০ লাখ লোককে আশ্রয় দিতে পারেন। কিন্তু দুই কোটি! অসম্ভব। ইউরোজোনের বাইরে লন্ডনেও নেতিবাচক আর্থিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলগুলো এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা আর অভিবাসন সঙ্কটের ভয়েও ব্রিটেন আতঙ্কিত। অন্য দিকে স্কটিশদের স্বাধীনতা ঘোষণার সম্ভাবনা ও এর প্রভাব সম্পর্কে দুশ্চিন্তার বিষয়টি তো আছেই।
এ দিকে বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের নেতৃত্বের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গ্রিসকে ইউরো জোনে রাখার পক্ষে তার মতামতকে দেশের জন্য একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে অনেকে সমালোচনা করছেন। এ ছাড়া ফক্সওয়াগন কেলেঙ্কারি, রিফিউজিদের পক্ষে অবস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা- এসব বিষয়ে দলের মধ্যেই তার সমালোচনা বাড়ছে।
সরকারের করনীতি আর ইউরো জোনের নিয়মের মধ্যে টক্করের ফলে ফ্রাঙ্কফুট ইতোমধ্যে ‘বিভক্ত নগরে’ পরিণত হয়েছে। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক ট্যাক্স বৃদ্ধির মাধ্যমে অধিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। অন্য দিকে সরকার ব্যাংক-বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মিতব্যায়ী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। জার্মানির ব্যবসায়ীরা মূলত ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের নীতির প্রতি বিরক্ত। রাজনীতিবিদদেরও একই মত। জনপ্রিয় ডানপন্থী ও বামপন্থী উভয় পক্ষই ইউরো জোনের নীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে। ফলে সেখানে ইইউ, বাজার ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন, ইউরো জোন- ইত্যাদি সব বিষয়ের প্রতি একটা বিরোধী মনোভাব গড়ে উঠছে। তবে ইউরোপের জন্য এখন সবচেয়ে বড় যে সমস্যা তা হলো উদ্বাস্তুদের স্রোত। দিন দিন এই সমস্যা প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। রাজনৈতিক বা সামরিক কোনো উপায়েই এই সমস্যা মোকাবেলা করা যাচ্ছে না। অভিবাসীদের সাথে আরেকটি বিষয় জড়িয়ে গেছে। তা হলো সন্ত্রাস। অনেকের অভিযোগ অভিবাসীদের সাথে আইএস ‘জঙ্গি’রা ইউরোপে ঢুকে পড়ছে। তারা সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপ যদি উদ্বাস্তু গ্রহণ বন্ধ করে দেয়, অর্থাৎ সীমান্তে কঠোর নজরদারি শুরু করে তাহলে সন্ত্রাসীরা ইউরোপে প্রবেশের জন্য অন্য কোনো পথ বেছে নেবে। হয়তো তা হতে পারে আরো ভয়ঙ্কর কোনো পন্থা। মোট কথা উদ্বাস্তুদের স্রোত ঠেকানোর জন্য যদি সঠিক কোনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমাধান না পাওয়া যায়, তাহলে ইউরোপের দুর্দশা বাড়তেই থাকবে। পতন ঠেকাতে প্রয়োজনে ‘অসম্ভবকে সম্ভব করার’ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নেতাদের হতাশ ও ভেঙে পড়লে হবে না। সঙ্কট ও সমস্যা অনেক সময় ঐক্যের পথ খুলে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে একে অন্যকে দোষারোপ না করে সম্মিলিতভাবে সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। সমস্যা ও ঝুঁকিগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে হবে। আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদারে প্রয়োজনে একটি বড় ধরনের যৌথ তহবিল গঠন করতে হবে। এই তহবিলে ইউরোপের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোকেও সংযুক্ত করা যেতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াকেও এতে যুক্ত থাকতে হবে। এই পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান হয়তো ব্যয়বহুল হবে, কিন্তু এতে নিজেদের মধ্যে বিভক্তির অবসান ঘটবে। মনে রাখতে হবে, নিজেদের মধ্যে বিভক্তি আর ঝগড়াবিবাদ যদি বাড়তে থাকে, তাহলে পোপ ফ্রান্সিসের ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের’ আশঙ্কা সত্যে পরিণত হতে পারে।
সৌভাগ্যবশত ইউরোপের নেতারা মনে হয় বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। তাই ইউরো জোনের শেষ মাথায় আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে। প্যারিস হামলার পর সবাই এক হয়ে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, তাতে মনে হয় সমস্যার একটা সমাধান পাওয়া যাবে।
তবে মনে রাখতে হবে ‘সৌজন্য শুরু করতে হয় নিজের বাড়ি থেকে’। সবার সাথে একাত্ম হয়ে সমস্যা মোকাবেলার জন্য এটি খুবই জরুরি।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com