ইলিশের গায়ে বৈশাখের গরম হাওয়া

তারেকুর রহমান
“আয়ন, আয়ন তাজা ইলিশ লই’যন, সুন্দর গরি রাঁধি মজা গরি হায়ন”
কক্সবাজারের স্থানীয় ভাষায় মনোযোগ আকর্ষণে সারি সারি পসরা সাজিয়ে ইলিশ, ইলিশ বলে এভাবেই স্লোগান দিচ্ছেন কক্সবাজার শহরের বড়বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। এমন বাহারি কথার ফুলঝুরি পুরো মাছ বাজার জুড়ে।
আগামীকাল রবিবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা বর্ষবরণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। সে উৎসবকে ঘিরে সবাই কমবেশি নিচ্ছেন প্রস্ততি। এসব প্রস্তুতির মধ্যে অন্যতম অনুসঙ্গ ইলিশ। নববর্ষের প্রথম দিনে পান্তা ভাতের সঙ্গে অনেকেই খান ইলিশ। কিন্তু পহেলা বৈশাখের সবেমাত্র আজ একটা দিন বাকি থাকলেও এরই মধ্যে ইলিশের গায়ে লেগেছে বৈশাখীর গরম হাওয়া। আর সে হাওয়ায় ইলিশের দাম এখনই বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে বড়বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সব ইলিশের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
শহরের সবচেয়ে বড় এই বাজারে, সাড়ে ৭শ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিলো ৮০০-৯০০ টাকা, ৫শ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৬০০-৭০০ টাকা। সাড়ে ৭শ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪০০-১৫০০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিলো ৯০০-১০০০ টাকা।
ইলিশ কিনতে আসা সাজ্জাদ ইসলামের কাছে দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পান্তার সাথে ইলিশ নিয়ে বৈশাখটা উদযাপন করতে চাই কিন্তু ইলিশের দাম শুনলে পান্তা- ইলিশের বৈশাখ পালন মন থেকে উঠে যায়। বৈশাখে ইলিশের ব্যাপারটা যেহেতু আমাদের কাছে ঐতিহ্য হয়ে গেছে সেহেতু বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশ তো কিনতেই হবে বলে বাজারে আসলাম ইলিশ কিনতে কিন্তু ইলিশ বিক্রেতার গলাকাটা দাম শুনলে ইলিশ কিনতে মন চায় না।
আরেক ক্রেতা আমিন উল্লাহ বলেন, সবেমাত্র ঘরে নতুন বউ তুললাম, নববধুকে নিয়ে বৈশাখ উদযাপন করবো আর ঐতিহ্য হিসেবে বৈশাখের অংশ পান্তা আর ইলিশের চাহিদা মেটাতে বাজারে আসলাম ইলিশ কিনতে। বাজারে এসে দেখি ইলিশের চড়া দাম যা নির্দিষ্ট বাজেটের বাইরে। এখন কি করি নতুন বউয়ের চাহিদা মেটাতে ইলিশ তো কিনতে হবে। তারপরও ৭শ গ্রামের এক হালি নিলাম ৪৮০০ টাকা নিলো।
ক্রেতা অনিল শর্মা জানান, আমি প্রতি সপ্তাহে ইলিশ কিনি কারণ আমার ছোট মেয়েটা ইলিশের পাগল। ইলিশ ছাড়া বাবুটা আমার ভাতই খাই না। তাই আমার কাছে শুধু বৈশাখ নয় সবসময় ইলিশের দরকার হয়। গত সপ্তাহে যে ইলিশ কিনেছি ১ কেজি ওজনের ৮০০ টাকা দিয়ে সেই ইলিশ আজ কিনলাম ১৭০০ টাকা দিয়ে। এটা নিঃসন্দেহে খারাপ দিক। কোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে কেনো জিনিসের দাম বাড়বে এটা কেমন কথা। এখানে ব্যবসায়ীদের হাতে আমাদের জিম্মি হয়ে দ্বিগুণ দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। এটা শুভ দিক নয়।
কথা হয় ইলিশ কিনতে আসা নুরুল আলমের সঙ্গে, দাম বেড়েছে নাকি কমেছে এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, ভাই দুপুর থেকে ঘুরছি বাজারে। যে দাম তাতে আর ইলিশ কেনা হলো না। প্রতি সপ্তাহে আসি বড়বাজারে বাজার করতে। গত সপ্তাহে ইলিশ কিনব বলেও কেনা হয়নি। আজ ইলিশের নিয়ত করে আসলাম কিন্তু দাম পাক্কা দ্বিগুণ। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের ইলিশ খাওয়া সাজে না। মুখটা গোমরা করেই কথাগুলো বললেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে ১ কেজি ওজনের ইলিশ চেয়েছিলো ৭৫০ টাকা আজ চায় ১৫০০-১৭০০ টাকা। এতো টাকা দিয়ে কিভাবে ইলিশ খাব ভাই বলেন। প্রাইভেট চাকরি করি সব কিছু মিলিয়েই তো চলতে হয়। তাই যেকোনো উৎসব আমাদের জন্য নয়, উৎসব হলো ধনীদের জন্য, যাদের সামথর্য আছে তাদের জন্য।
এদিকে ইলিশের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বড়বাজারের ইলিশ মাছ ব্যবসায়ী ফোরকান আহমদ বলেন, ৫ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করি। বৈশাখ আসার সময় হলেই দাম শুধু দ্বিগুণ নয় তিনগুণ হয়ে যায়। কারণ, মাছের ঘাটে কিন্তু দাম বাড়ে না। মাছের দাম বাড়ায় আড়ৎ ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছ থেকে আমাদের মাছ কিনতে হয়। সুতরাং ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে আমাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। অন্যান্য দিনের চেয়ে আজকে দাম আরও বাড়ছে কারণ একদিন পর পহেলা বৈশাখ।
আরেক ব্যসায়ী নুরুল আজিজ বলেন, বড়বাজারে মাছের চাহিদা বেশি কিন্তু মাছ কম। অন্যদিকে, বৈশাখ মানে বড় মাছ। এখন সবাই বড় মাছ কেনে। যাদের স্টকে মাছ ছিলো তারাও দাম বাড়িয়ে দেবে। তবে বাজারে যদি ইলিশ বেশি আসতো আর ক্রেতা যদি কম হতো তাহলে হয়তো দাম একটু কমতো। একদিন পর বৈশাখ বলে তিনি দাম কমার সম্ভাবনা নেহায়েত উড়িয়ে দিচ্ছেন।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com