1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

ঈদগাঁওতে কালের আবর্তে বিলুপ্তির পথে সমাজ ব্যবস্থা

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৩৪ দেখা হয়েছে

এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও :
অতিতে কয়েকটি পরিবার নিয়ে একটি সমাজ গঠিত হয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে বসবাস সহ বিয়ে-শাদি, ছেলে-মেয়েদের আকিকা, সামাজিক অনুষ্ঠানে আনন্দমুখর পরিবেশে সমাজের মানুষজনের উপস্থিতি, অপরাধ দমন, বিচার-শালিস, রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের খোজখবর নেওয়া ও মৃত্যু ব্যক্তির কাপন-দাফনের ব্যবস্থা গ্রহন করার দায়িত্ব পালনে একাগ্রতা ছিল সমাজের মানুষদের। কালের বিবর্তনে আজ সেই সুসংঘটিত সমাজ ব্যবস্থা রাজনৈতিক দলের প্রভাব, আধুনিকতা ও একক পরিবারের ভয়াল থাবায় বিলুপ্তির পথে। যে সমাজ ঠিক একটি রাষ্ট্রের ন্যায় পরিচালিত হতো, সেই সমাজ এখন অবহেলার পাত্র। বিগত এক দশক আগেও গ্রাম-অঞ্চলের মানুষরা সমাজের নেতাদের কথামত জীবন পরিচালিত করত। সমাজপতিদের কথার অবাধ্য হলেই সাধারন লোক সাধারণের শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। তখন অপরাধীদের অপরাধ দমনে সমাজপতিরা একাট্টা ছিল। যার কারণে সমাজে অপরাধ করে কেউ পার পেত না। নিজেদের গ্রামের মানুষদের নিয়ে ব্যস্ত গ্রাম্য শালিস ঠিক যেন একটি আদালত। যে আদালতে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হতো না কোন নিরপরাধ ব্যক্তি। গরীব অসহায় খেটে খাওয়া কোন ব্যক্তির মেয়ে বিবাহ দেওয়ার উপযুক্ত হলেই গ্রাম্য উচ্চ শ্রেণির লোকজন ও সমাজপতিরা নিজেদের উদ্যোগে বিবাহের ব্যবস্থা করত। কেউ অসুস্থ হয়ে বিছানায় কাতরাতে থাকার সুযোগ ছিল না। অসুস্থ হলেই সমাজপতি ও এলাকার লোকজনরা নানা ধরনের খাবার নিয়ে উপস্থিত হয়ে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ভাল-মন্দ বিষয়ে খবর নিত। আধুনিকতার আকর্ষণ এত বেড়ে গেল যে, সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটল। যৌথপরিবার ভেঙে একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি হতে লাগল। যার কারণে মানুষে মানুষে ভালবাসা কমে গিয়ে বড়রা ছোটদের ¯েœহ ও ছোটরা বড়দের সম্মান করা থেকে বিরত থাকলেই যেন বাঁচে। বর্তমানে সমাজে সর্দার, মাতবর, কারবারীদের প্রভাব খাটে না। যারা এতদিন সমাজের নিচু শ্রেণির অসহায়, গরীব সাধারন লোকদের জোর-জুলুম করে নিজেদের কাজগুলো বিনা পয়সায় সেরে নিত সেই সব এলিট শ্রেণির লোকদের কারণে সমাজপ্রথা আজ ধ্বংসের পথে। তবে অতিতের ন্যায় সর্দার, মাতবর ও কারবারীদের ধাপট নেই। আগের মত এখন আর বিয়ে-শাদী, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠাণে লোকজন আনন্দ করে যায় না। সমাজ এখন দুই ঈদে সীমাবদ্ধ। তবে প্রথা রক্ষার্থে আজো গ্রাম অঞ্চলে সমাজ ব্যবস্থা ঠিকে আছে। এলাকার প্রবীন কয়েকজন মুরব্বীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্বে সমাজপতি ও সাধারন লোকজন ধর্মকে গুরুত্ব দিত এবং কোন অপরাধকে আশ্রয় দিত না। মানুষে মানুষে সম্মানহানী হয় এমন কোন কাজ করত না। কিন্তু বর্তমানে সমাজপতি সহ সাধারন মানুষজন ধর্মকে ভূলে অশ্লীল গান-বাজনা, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারী-হানাহানি ইত্যাদি অপরামূলক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ায় মানুষরা সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করার ছেয়ে একক ভাবে বেঁচে থাকতে চেষ্টা করছে। সামাজিক ভাবে অপরাধ দমন সহ বিচার-শালিস, আচার-অনুষ্ঠান, বিয়ে-শাদী, স্বেচ্ছাশ্রম, রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের খোজখবর নেওয়া ও মৃত্যু ব্যক্তির কাপন-দাফনের ব্যবস্থা সহ ইত্যাদি কাজ গুলো সম্পন্ন করার জন্য অতীতের ন্যায় বর্তমানে তেমন আর চোখে পড়ে না। বলতে গেলে কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁওতে কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে সমাজ ব্যবস্থা।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com