1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

ঈদ উল আযহাতে আশানুরুপ পর্যটক সমাগম হবে না : হোটেল-মোটেলগুলোতে বুকিং সংখ্যা অর্ধেকেরও কম

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৩০ দেখা হয়েছে

এস এম আরোজ ফারুক :
ঢাকা-কক্সবাজারের সাথে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রভাব, আইন শৃঙ্খলার অবনতি, অরোক্ষিত সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন কারনে দিন দিন পর্যটক সমাগম কমছে কক্সবাজারে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় এবং বৈরি আবহাওয়ার কারনে আসন্ন ঈদ-উল আযহায় বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমাগম হবে না বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বিগত তিন-চার বছর ধরে পর্যটন মৌসুমে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারেননি বেশির ভাগ পর্যটক। অন্য দিকে গত ঈদ-উল ফিতরে কিছু সংখ্যাক পর্যটক সমাগম হলেও বৃষ্টির কারনে তা ছিল ক্ষণস্থায়ী। এখন বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক তবে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় এবার কোরবানীর ঈদে পর্যটক সমাগম খুব একটা হবে না এমনটাই মত দিয়েছেন হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় এবার ঈদ-উল আযহাতে এক লক্ষেরও কম সংখ্যক পর্যটক আসবে কক্সবাজারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় মানুষ এখন কক্সবাজারে বেড়াতে না এসে ভারতে ভ্রমণ করছে। কক্সবাজারে পর্যটক কমে যাওয়ার এটিও একটি অন্যতম কারন। খুব কম খরচে মানুষ এখন ভারত, থাইল্যান্ড, নেপাল, মালয়শিয়াতে ভ্রমণে যেতে পারছেন। তাই পর্যটকরা এখন কক্সবাজার বিমুখ হয়ে বিদেশ ভ্রমনেই বেশি ঝুঁকছেন।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে সমুদ্রসৈকতসহ কক্সবাজারের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থানগুলো পর্যটক ও দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়। গেল ঈদ উল ফিতরের ছুটিতেও এসব স্থানে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়। কিন্তু হঠাৎ টানা বর্ষণের কারণে ফিরে যেতে হয়েছে পর্যটকদের। আসন্ন ঈদেও কক্সবাজার, মহেশখালী, টেকনাফ, রামু ও সেন্টমার্টিনের দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের বরণ করতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। তবে হোটেল, মোটেল আর বাংলোর বুকিং শুরু হলেও তা পর্যাপ্ত না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পর্যটকদের বরণ করতে সৈকতনগরী কক্সবাজারের চার শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস প্রস্তুত। এবারের ঈদের ছুটি দিয়েই কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুমও শুরু করার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন হোটেল-মোটেলের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবার অগ্রীম বুকিং সংখ্যা খুবই কম।
তারকা মানের হোটেল দি কক্সটুডের রুম ডিভিশন ম্যানেজার আবু তালেব শাহ্ বলেন, ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে আমরা খুব বেশি বুকিং পাইনি। অনেকে বুকিং দিচ্ছেন কিন্ত অগ্রীম টাকা পরিশোধ না করায় আমরা এখন পর্যন্ত অনুমান করতে পারছি না কি পরিমান পর্যটক হোটেলে অবস্থান করবেন। তবে সব কিছু ঠিক থাকলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে এক দিনে আমাদের হোটেলে অবস্থান করবেন প্রায় ১৫০ জনের মতো যদিও এখানে ৫৯২ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে সেই দিক থেকে এবার আশানুরুপ পর্যটক পাচ্ছি না।
আবাসিক হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাকদ আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বিভিন্ন কারনে ক্রমশই কক্সবাজার ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে পর্যটকরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় আসন্ন ঈদে খুব কম সংখ্যক পর্যটক আসবে কক্সবাজারে। আমরা ঢাকা বা অন্যান স্থানে যোগাযোগ করছি তবে ভাল সাড়া পাচ্ছি না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় মানুষ এখন কক্সবাজারে বেড়াতে না এসে ভারতে ভ্রমণ করছে। ৭ হাজার টাকা দিয়ে বিমানে করে কোলকাতা যাওয়া যাচ্ছে সেই তুলনায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বিমানে আসতে ৭, ৮ বা ৯ হাজার টাকা বিমান ভাড়া লাগছে। তাই পর্যটকরা এখন কক্সবাজার বিমুখ হয়ে বিদেশ ভ্রমণ করছেন। তিনি বলেন আমরা খবর নিয়ে জেনেছি ঈদের ২য় দিন থেকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমানে পর্যটক যাচ্ছে ভারতে। ঢাকা-কক্সবাজারের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক কর্মসূচির আওতা মুক্ত রাখা, আইন শৃঙ্খলার যথাযথ ব্যবহার, সমুদ্র সৈকতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা সহ বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন করলেই কক্সবাজারে বিপুল পরিমান পর্যটক সমাগম হবে।
কক্সবাজার ট্যুরিষ্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, পর্যটক সংখ্যা যতই হোক আমরা প্রস্তুত রয়েছি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চত করার জন্য। তিনি বলেন, ঈদ উল আযহার আগেই ট্যুরিষ্ট পুলিশের অবজারভেশন টাওয়ার চালু করা হবে। এছাড়াও সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ট্যুরিষ্ট পুলিশের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চালু করা হচ্ছে হটলাইন নাম্বারও। এছাড়াও কলাতলী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও সৈকতের লাবণী পয়েন্ট এবং দরিয়ানগর, হিমছড়ি ও ইনানী পর্যন্ত বিশেষ জোনে ভাগ করে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করা হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমাদের ২০০ জন ট্যুরিষ্ট পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। তিনি আরো বলেন, আমরা হোটেল-মোটেলে যোগাযোগ করে আশা করছি এবার ঈদে প্রায় এক লক্ষ পর্যটক আসবে কক্সবাজারে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com