1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

উপকূলীয় সৈকতের ঝাউবাগান অবৈধ রোহিঙ্গাদের দখলে

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৩৪ দেখা হয়েছে

ছৈয়দ আলম,কক্সবাজার আলো :
কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলীয় সৈকতের ঝাউবাগান এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। ঝাউবাগানের গাছ কেটে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বসতবাড়ি নির্মাণ করছে। কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতার নামে কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় এসব নতুন নতুন রোহিঙ্গা বসতি নির্মাণ করায় এসব বসতি উচ্ছেদ করা হচ্ছেনা বলে অনেকেই মনে করেন। অন্য দিকে রোহিঙ্গা বসতির আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডও পরিচালিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর ওই সব রোহিঙ্গাদের খাদ্য সামগ্রী ও নগত অর্থ বিতরণও করছে কতিপয় এনজিও সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধি।
তথ্য সুত্রে জানা গেছে, জেলার ঈদগাঁও, ঈদগড়, চকরিয়া, মহেশখালী, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ, উখিয়ার ইনানী পয়েন্ট, মনখালী, টেকনাফের বাহারছড়া, শামলাপুর, রাজারছড়া, বড় ডেইল, শীলখালী, লম্বরী, মহেশখালীয়া পাড়া, তুলাতলী, সাবরাং মুন্ডারডেইল, খুরের মুখ প্রভৃতি উপকূলীয় সমুদ্র এলাকায় নতুন ও পুরাতন মিলে রোহিঙ্গারা এসব বসতি গড়ে তুলেছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে উপকূলীয় বন বিভাগ সবুজ বেস্টনি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা বাহারছড়া, টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়নের ৩৭ কিলোমিটার সৈকতে ঝাউবাগান করা হয়। দীর্ঘ ২০ বছরে ওই বাগান বড় বাগানে পরিণত হয়েছে। আর ওখানেই আস্তানা গেড়ে বসেছে রোহিঙ্গারা।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়ার মনখালী, টেকনাফের শামলাপুর, বাহারছড়া এবং রাজারছড়া এলাকার ঝাউবন এখন রোহিঙ্গাদের দখলে চলে গেছে। দিনের বেলা ওই রোহিঙ্গা বসতিতে কেউ না থাকলেও কতিপয় সন্দেহভাজন লোকদেরকে নড়াচড়া করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে অহরহ। মাঝে মাঝে কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী ও শিশুকে দেখা যায়। এক্ষেত্রে কক্সবাজার জেলে পার্ক ময়দানের দক্ষিন পার্শ্বে পাওয়া এমন একজনের নাম মফিজ কামাল। যে গত ৫ বছর ধরে ঝাউবাগানের ওই রোহিঙ্গা বসতিতে বসবাস করছে। কিভাবে বসবাস করছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে শুধু আমরা বসবাস করছিনা। গত ৭ বছর আগে আসা রোহিঙ্গারাও বসবাস করছে। তিনি আসার আগে একজনকে ২০ হাজার টাকার মাধ্যমে এখানে বসবাস করে আসছে। কিছুদিন আগেও টেকনাফের উত্তর লম্বরী বীচ এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝাউবাগানের ভিতরে অর্ধ শতাধিক বসতি। ওখানে বসবাসকারী আমজু আরা নামের এক মাহিলার সাথে কথা বলতে চাইলে প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে সে স্পষ্ট বলেই ফেলে, এখানে ৫০ টি ঝুপড়ি বাড়ি। কয়েক বছর ধরে এসব রোহিঙ্গারা এখানে বসবাস করে আসছে। কেউ কোন দিন বাঁধা দেয়নি। কি করে জীবিকা নির্বাহ করা হয় তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ কেউ মাছ ধরে, আর কেউ রিক্সা চালায় আবার কেউ কেউ মাদক ব্যবসা এবং কেউ কেউ চুরি ডাকাতি করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বাধা আসে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি এখন পর্যন্ত কোন প্রশাসনের কর্মকর্তাকে আমরা দেখিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রোহিংগারা মিয়ানমারের বিভিন্ন সমাস্যাকে কাজে লাগিয়ে নতুন রোহিঙ্গারাও এসে বসতি গড়ে তুলেছে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়। টেকনাফের নাফ নদী পার হয়ে এসব রোহিঙ্গারা নতুন নতুন বসতি গড়ে তোলে। তবে বিজিবির কড়া নজরদারীর ফলে বর্তমানে কিছুটা অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। টেকনাফের নাফ নদী পেরিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশের নজরদারির কারণে তা কিছুটা রোধ হয়। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন কৌশলে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় সৈকতের ঝাউবাগানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেছে।
রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয়রত হাসিনা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধু জানায়, এলাকার স্থানীয় ফিশিং বোটের মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের সহায়তায় তারা মিয়ানমার থেকে এসে ঝাউবাগানে আশ্রয় নেন। তার স্বামী ফিশিং বোটে মাছ ধরেন। তার স্বামীর মতো আরও অনেক পুরুষই সাগরে মাছ ধরতে যান।
সাবরাং মুন্ডারডেইল এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভের ফাঁদে ফেলে ফিশিং বোটের মালিকরা তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। পরে তাদের ও স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় বাহারছড়া, লম্বরীপাড়া, সাবরাং-শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নতুন নতুন বসতি গড়ে তুলেছে। তিনি আরো বলেন, প্রথমে উপকূল এলাকায় আশ্রয় নিয়ে এসব রোহিঙ্গারা সাবরাং, বাহারছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের সহায়তায় বাংলাদেশী জাতীয় পত্র পর্যন্ত সংগ্রহ করে ফেলেছে। প্রতিবছর বাহারছড়ায় নতুন ভাবে স্থাপিত হওয়া রোহিঙ্গা বসতিতে কতিপয় বিতর্কিত এনজিও সংস্থার লোকজন খাদ্য সামগ্রী বিতরণও করেন।
শুধু টেকনাফ বাহারছড়া, উত্তর লম্বরী এবং মুন্ডারডেইল নয় কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় সৈকতের ঝাউবাগানে ভিতরে ভিতরে এরকম অসংখ্য বসতি রয়েছে। যে বসতিতে মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এসব রোহিঙ্গা বসতি অচিরেই উচ্ছেদ করা না হলে অপরাধকর্মকান্ড বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলের ঝাউবাগান বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করছে সচেতন মহল।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com