এক বছরেও জেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি

তারেকুর রহমান
সম্মেলনের পর এক বছরের বেশি হয়ে গেলেও এখনো জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি আওয়ামীলীগের যুবসংগঠন কক্সবাজার জেলা যুবলীগ। এদিকে কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীরা সাবেক ও বর্তমান নেতাদের পেছনে লেগেই আছেন।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর গত বছরের ২৯ মার্চ জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সোহেল আহমদ বাহাদুর সভাপতি এবং শহীদুল হক সোহেল জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
কিন্তু সম্মেলনের দিন থেকে আজ ১৪ মাস পার হয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে ঘুম ভাঙ্গেনি দুই সোহেলের।
পদপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, কারা নেতা হবেন, তাঁরা কার অনুসারী, কোন এলাকার নেতা, এসব হিসাব শেষ হচ্ছে না সাবেক ও বর্তমান নেতাদের। তাই কমিটি গঠনে দেরি হচ্ছে। আবার কমিটিতে পদ-পদবী নিয়ে অর্থের লেনদেন হচ্ছে এমন অভিযোগেরও শেষ নেই।
এ ব্যাপারে সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর বলেন, আমার জানা মতে কেউ অর্থ দিয়ে পদ-পদবীর জন্য তদবির করে নাই। ভবিষ্যতে তদবির করলেও কমিটিতে তাদের ঠাঁই হবেনা। যারা অর্থ দিয়ে কমিটির পদ নিতে চায় তারা প্রকৃত নেতা নয়। তাদের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা নেই তারা সাময়িক ফায়দা লুটার জন্য রাজনীতিতে প্রবেশ করে বলে টাকা দিয়ে পদ নেয়ার দুঃসাহস করে। এমন নেতাদের যুবলীগে দরকার নেই।
কবে নাগাদ কমিটি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই কমিটি হয়ে যাবে। যাচাই বাছাই চূড়ান্ত করে ঈদের পর পরই  পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হবে।
গত দুই দিনে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের কমিটির পদপ্রত্যাশী পাঁচজন ও সাবেক কমিটির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রত্যেকেই বলেছেন, যুবলীগ কীভাবে চলবে, কত দিন কমিটি থাকবে, তার সবই উপর থেকে বলা আছে। কিন্তু এতোদিনেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করাটা উপেক্ষিত। ফলে সংগঠনে সংকটের শেষ নেই।
সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল বলেন, সাধারণত ৩ বছর পর্যন্ত কমিটির মেয়াদ থাকে, এতোদিন কমিটি দিতে না পারার কারণ হচ্ছে- জাতীয় নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে ব্যস্ততা।
তিনি আরো বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মাদকের সাথে যুবলীগ নামধারীদের সনাক্তকরণে একটু সময় নিতে হচ্ছে। জেলা যুবলীগের কমিটিতে কোন মাদক ব্যবসায়ীর ঠাঁই হবেনা। যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে পূণার্ঙ্গ কমিটি দিতে হচ্ছে বলে  এতোদিনে কমিটি দিতে পারিনি তবে অতি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হতেই যুবলীগের বড় নেতা এবং বড় পদ প্রত্যাশী অনেক নেতারা গায়ের জোর কাটিয়ে যাচ্ছেন, এমনকি এসব নেতাদের বিরুদ্ধে প্রভাব কাটিয়ে দখলবাজি, দোকানপাট ভাংচুর, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে।
তাদের ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুবলীগের কোন নেতা দখলবাজ ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত আছে এমন খবর যদি আমাদের কাছে আসে তবে তাৎক্ষণিক সেই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন নেতা দিয়ে যুবলীগের কমিটি সাজাতে চাই না।
উল্লেখ্য, ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ২৯ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জেলা যুবলীগের এ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের পর গত এক বছরেরও বেশি সময়ে কমিটি না হওয়ায় কোনো বৈঠক হয়নি বলে জানা যায়। যুবলীগের নেতা-কর্মীদের অনেকেরই অভিযোগ, কমিটির মেয়াদ নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিলেও কখনো চার, কখনো বা পাঁচ বছর পর নতুন কমিটি হওয়া অনেকটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে, জেলা যুবলীগকে শক্তিশালী ও সুগঠিত করতে হলে অতি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
গত সম্মেলনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩১১ জন কাউন্সিলর। এর মধ্যে সভাপতি পদে দুথজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দুথজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সভাপতি পদে ভোট যুদ্ধে সোহেল আহমদ বাহাদুর পেয়েছেন ২০৯ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শহীদুল্লাহ পেয়েছেন ১০২ ভোট। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে শহীদুল হক সোহেল পেয়েছেন ১৮৫ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শোয়েব ইফতেখার পেয়েছেন ১২৬ ভোট।
উক্ত সম্মেলন পরিচালনা করেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এতে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com