1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

এরকম স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ আর ধিক্কার বাংলার মানুষ কখনো ঝাড়েনি

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০১৫
  • ৮৭ দেখা হয়েছে

s_88549

এরকম ক্ষোভ, এরকম প্রতিক্রিয়া- মানুষের একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে, এতো স্বতঃস্ফূর্ত, অন্তত সাম্প্রতিক সময়ে কোনো একটি ঘটনায় চোখে পড়েনি।

সিলেটে ভিডিও ক্যামেরার সামনে এক কিশোরকে পেটানোর পর তার মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ, ঘৃণা, যন্ত্রণা আর অসহায়ত্বের কথা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটটির হোম পেজে গেলেই স্পষ্ট বোঝা যায় এই নিষ্ঠুরতা মানুষজনকে কিভাবে নাড়া দিয়েছে।

তারা ছবি দিয়ে, স্ট্যাটাস লিখে, মন্তব্য করে, এমনকি নিজেদের মন্তব্য দিয়ে তৈরি করা ছোট ছোট ভিডিও করেও সেসব পোস্ট করছেন। প্রচুর মন্তব্য, প্রচুর।

তাদের ক্ষোভ এতোটাই তীব্র যে কেউ কেউ রাজন নামের ওই কিশোরকে যেভাবে ‘পিটিয়ে হত্যা’ করা হয়েছে, নির্যাতনকারীদেরকেও সেই একইভাবে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই দাবি জানিয়ে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আমার এ ইচ্ছায় মানবিকতা যদি আহত হয়, রাষ্ট্র যদি নাখোশ হয়, তবুও নড়বো না একচুল এ দাবি থেকে …।’

ভিডিওটি দেখে যে মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়েছে সেটিও তারা প্রকাশ করেছেন অকপটে।

একজন লিখেছেন, ‘পাড়ার এমন কোনো বাড়ি নেই যার গাছের ফল আমি বা আমার বন্ধুরা চুরি করিনি! রাজন হত্যার ভিডিওটি দেখে খুব কষ্ট পেলাম! আর সহ্য হচ্ছে না! তাই আমি চিৎকার করে বলছি; রাজনের মতো আমিও চোর! আমায় হত্যা করো!’

আরেকজনের মন্তব্য এরকম: ‘ভিডিওটি দেখে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। রাজনের অসহায় নিষ্পাপ মুখ দেখে মনে হল, পৃথিবীটা এত কদর্য হতে পারে, সেটি মৃত্যুর খানিক আগেও বোধহয় সে বুঝতে পারেনি।’

কেউ লিখেছেন তারা ভিডিওটি দেখতে চান নি। কারণ এটা দেখার সাহস নেই তাদের। যারা দেখেছেন তারাও লিখেছেন যে কিছুক্ষণ দেখার পর তারা সেটা আর দেখতে পারেননি।

একজন মন্তব্য করেছেন, ‘রাজন, যে মাটিতে তুমি শুয়ে আছো এ তোমার দেশ ছিল। এখানেই তুমি ভূমিষ্ঠ হয়েছো; হামাগুড়ি দিতে দিতে একদিন দাঁড়িয়ে এই দেশকেই তুমি দেখেছ। আজ মাতৃভূমি তোমাকে যে দাম দিল- এ আমার জাতির লজ্জা। তোমার জীবনের শেষ আর্তিগুলো ফ্রেম-বন্দি- কিন্তু আমি ভয়ে চোখ সরিয়ে নিয়েছি।’

কেউ কেউ লিখেছেন, তারা এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা না করেও থাকতে পারেননি।

একজনের স্ট্যাটাস: ‘একবার ভাবলাম কিছুই লেখার দরকার নেই। লিখে কী হবে? কিন্তু তারপর লিখলাম। হয়তো কাল রাত থেকে মাথার ভেতরে যে যন্ত্রণা কাজ করছে সেটা উগড়ে দেয়ার জন্যই লিখলাম। আমরা এভাবে অনেক কিছু লিখি, লিখে দায়মুক্ত হতে চাই হয়তো।’

অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনারও কোনো বিচার হবে না। তাই এই নিষ্ঠুরতার কোনো প্রতিবাদ, ক্ষোভ বা ঘৃণা কিছুই জানাতে চান না তারা।

এরকম অসহায়ত্ব প্রকাশ করে একজন লিখেছেন, ‘অপ্রকাশিত এরকম হাজারো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে। কিছুদিন হয়তো তা নিয়ে হৈচৈ হবে তারপর আরেক ঘটনার আড়ালে তা হারিয়ে যাবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিচার হয়তো শুরু হয় তারপর আর কোনো খবর থাকে না।’

কিশোর রাজনের ওপর নির্যাতনের ছবিতেও সয়লাব হয়ে গেছে ফেসবুক।

তার ছবি দিয়ে ব্যানার, গ্রুপ ইত্যাদি তৈরি করে সেখানে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করা হচ্ছে।

কেউ কেউ ঢাকার শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com