1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. joaopinto@carloscostasilva.com : randaldymock :
  3. makaylabeaurepaire@1secmail.com : scotty7124 :
  4. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  5. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  6. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :
শিরোনাম :
রিপোর্টার্স ইউনিটি কক্সবাজার’র নির্বাচন কাল দুদকের মামলায় কারাগারে টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সিটি নির্বাচন বানচাল করতে আ’ লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে: খসরু  ইসলামাবাদে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১ নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ দারোয়ান-গৃহকর্মী নিয়োগ দিলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান বাগদাদের বুকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ২৮ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৫৮৪ মুজিববর্ষে জমিসহ নতুন ঘর পাচ্ছে ৮৬৫ গৃহহীন, শনিবার হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, হাঁড়িসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কক্সবাজারে কালোবাজারি থেকে নিম্নমানের চাল ক্রয়ের অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৮ দেখা হয়েছে

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :
কক্সবাজার জেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ন্যায্য মুল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের পর মিল মালিকদের নিকট হতে চাল সংগ্রহ অভিযানে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে খাদ্য বিভাগের লোকজন। প্রকৃত কৃষকদের আড়াল করে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও দালাল সিন্ডিকেট খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গুদামে নিম্নমানের চাল সরবরাহ করা হয়েছে। এতে জেলার কৃষকরা সরকারি গুদামে চাল বিক্রি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বন্ধ ও পরিত্যক্ত রাইস মিল এবং কালোবাজারিদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।  ফলে স্থানীয় প্রকৃত মিল ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে রামু উপজেলায় খাদ্য গুদামে ৪৩ মেট্রিক টন চাল সহ ২টি ট্রাক জব্দ করার ঘটনায় মামলা দায়ের ও ৫ গুদামে চাল সংগ্রহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, ১ আগস্ট ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পুরো একমাস জেলার ৫টি উপজেলায় সরকারিভাবে চাল কেনা সংগ্রহ শুরু হয়। চাল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকা।  চাল সংগ্রহ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা ছিলো।  কিন্তু ২০ আগষ্টের পরেই দুর্নীতি অনিয়ম সহ বিভিন্ন কারণে তা বন্ধ করা হয়।
জেলায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৪’শ ৯২ মেট্রিক টন । গত ২০ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন। জেলার ৬টি উপজেলায় চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ২৮ টি চালকল (রাইচমিল)। খাদ্য গুদামের চাল সরবরাহের নীতিমালা অনুযায়ী, চলমান রাইসমিল এবং মিলে আলাদা চাতাল, গুদামঘর আছে কিনা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃক তা যাচাই-বাছাই করে রাইস মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করার কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসব রাইসমিলে সঙ্গে খাদ্য গুদাম চুক্তি করেছে সেগুলোর অধিকাংশই পরিত্যক্ত এবং বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কালোবাজারিদের সাথে যোগসাজশে পরিত্যক্ত ও বন্ধ চালকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলার কৃষকদের কাছ থেকে মিল মালিকরা ধান সংগ্রহের পর তা মিলিংকরে খাদ্য গুদামে সরবরাহের কথা থাকলেও তা এখানে করা হয়নি।
সরেজমিন জেলার ছয় উপজেলায় ২৮টি রাইস মিলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও বাস্তবে দেখা গেছে, ওই স্থানে শুধু একটি গুদাম ছাড়া আর কিছুই নেই। এছাড়া অধিকাংশ মিলই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং অনেক মিলের কোনো অস্তিত্বই নেই। এভাবে চাল সংগ্রহের সরকারি নীতিমালা না মেনে পরিত্যক্ত ও বন্ধ রাইসমিলের নামে এবং ঘুষ-দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে এ জেলায় চাল সংগ্রহ অভিযান চালানো হয়েছে। গত ২০ দিনে প্রায় ১৩ কোটি টাকা মুল্যের সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন চাল গুদামজাত করা হয়েছে। যা অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ আছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ও দালাল খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা ও সদস্যদের যোগসাজশে রাতের আঁধারে গুদামে চাল সরবরাহ করছে অনেক স্থানে। রামু উপজেলায় খাদ্য গুদামে ৪৩ মেট্রিক টন চাল সহ ২টি ট্রাক জব্দ করার ঘটনা মামলায় হলেও বাদী হয়েছেন, দূর্নীতির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজিত বিহারী সেন। বৃহস্পতিবার বিকালে রামু থানায় এ মামলা (নং-১৯) দায়ের করা হয়।
কয়েকজন মিল মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দূর্নীতির এ অভিযোগ থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যেই তাকে বাদী করা হয়েছে। এর ফলে নিয়মনীতি উপেক্ষা ও কমদামের নিম্নমানের চাল সরবরাহে জড়িত সিন্ডিকেট মোটা অংকের মিশন নিয়ে এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার যে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে তা সফল হতে চলেছে। কালোবাজারি সিন্ডিকেট এর সদস্যরা হলো উখিয়ার রহিম, কক্সবাজারের আকতার, রফিক, সাগর ও বুলবুল।
মিলাররা জানান, এভাবে অন্য এলাকার ধান সংগ্রহ করা যাবে না। নিয়ম মতে স্থানীয় মিলারদের স্ব স্ব এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত ধান ক্রয় করে মিলে চাল প্রস্তুত করে গুদামে সরবরাহ করতে হবে। অথচ তা না করে রামুর ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার নেতৃত্বে এ সিন্ডিকেট হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বগুড়া, আশুগঞ্জ, চাক্তাই সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে নিম্নমানের ও কম দামের সরকারি বিধিনির্দেশ বহির্ভূত চাল খাদ্য গুদামে সরবরাহ করছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সুজিত বিহারী সেন নিজেই সিন্ডিকেট এর সাথে অবৈধ ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছেন।
প্রকৃত চাল সরবরাহকারি কয়েকজন মিলার জানান, চাল সরবরার অভিযানের প্রথম থেকেই মিলারদের সাথে কালোবাজারি সিন্ডিকেট এর সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ এবং লেনদেনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন সুজিত বিহারী সেন।
জেলা খাদ্য বিভাগের হিসেব মতে, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে খাদ্য অধিদপ্তর সারা দেশে অভ্যন্তরীন বোরো চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। বাজার দাম স্থীতিশীল ও কৃষকদের ন্যার্য্য মূল্য নিশ্চিত এবং আপতকালীন খাদ্য সংকট মোকাবেলা করার লক্ষ্যে মূলত চাল সংগ্রহ কর্মসূচী চালু করা হয়। প্রতিকেজি চাল ৩১ টাকা হারে সরকার মিলারদের কাছ থেকে এ চাল ক্রয় করছে।
১ আগষ্ট থেকে ২০ আগষ্ট পর্যন্ত ছয়টি উপজেলার ৫টি খাদ্যগুদামে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কারণ হিসেবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তানভীর হোসেন দাবী করেন, গত ২০ আগষ্ট থেকে সরকারী খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি দাবী করেন, রামু ঘটনা নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের মৌখিক নির্দেশে  রামু ও সদর উপজেলায় চাল সংগ্রহ বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া উখিয়ায় গুদাম সংকটের কারণে চাল সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শশীধর চাকমা, খাদ্য কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি ) আবু বক্কর সিদ্দিক যোগসাজশ করে ৪২৬ মেট্রিক টন নিম্নমানের চাল ক্রয় করেছে। কক্সবাজার সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহ জামাল, রামু উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা সুজিত বিহারী সেন, উখিয়া খাদ্য পরিদর্শক (ওসি এলএসডি) সুনিল দত্ত ও টেকনাফ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট খাদ্য পরির্দশক, ওসিএলএসডি ও মিল মালিক সমিতির নেতাদের যোগসাজশেই উৎকোচ আদায় করা হয় । ৬টি উপজেলায় ১৩ কোটি টাকার চাল ক্রয়ে ৩ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বিভিন্ন ভাবে। বিশাল অংকের এই উৎকোচ বাণিজ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তরসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট ভাগ বাটোয়ারা অনুযায়ী বন্ঠন করা হয়।
কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তানভীর হোসেন অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সঠিক নিয়মে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান সংগ্রহ চলছে। আর সংগ্রহ কমিটির পরামর্শে চালকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এবং চুক্তিবদ্ধ রাইস মিল মালিকদের কাছ থেকেই চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com