1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

কক্সবাজারে ত্রিমুখী বাধায় নৌকার প্রার্থীরা

  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩৬৫ দেখা হয়েছে
ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো : 
দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম কক্সবাজারের তিন উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ। জেলার ২১ ইউনিয়নের সবটিতেই রয়েছেন প্রায় বিদ্রোহী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী।
তারা ইউনিয়নগুলোতে শক্ত অবস্থানে থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঝাঁপিয়ে পড়েছেন নিজেদের প্রার্থীকে জয়ী করতে। বিএনপি-জামায়াত সবচেয়ে প্রকাশ্যে ভোট করছেন সদর ও রামু উপজেলায়। উখিয়ায় নৌকার বিপরীতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই। আগামী ১১ নভেম্বর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ ও পুলিশ সুপার ভারপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
খবর নিয়ে জানা গেছে, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী এমএ মনজুরের বিরোদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী ও এমএ মালেক। সেখানে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট হলে বর্তমান চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন আবারো জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে নৌকা চাওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন জুয়েলও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন।
রাজাপালং ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। এখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদমান জামী চৌধুরী। সমানে সমানে লড়াই চলছে বর্তমানে।
জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর পক্ষে সবসময় মাঠে দেখা যাচ্ছে দোলাভাই সাবেক দুইবারের সাংসদ আবদুর রহমান বদি। সাদমান জামী চৌধুরীর পক্ষে তাঁর চাচা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী রয়েছে। উখিয়ায় তাদের দুই গোষ্ঠি বড় হওয়ায় কেউ কারো কম নই।
রত্মাপালং ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা। তার বিপরীতে প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী ও স্বতন্ত্র আব্বাস উদ্দিন রয়েছে। তাদের মাঝে নুরুল কবির চৌধুরীর অবস্থান ভালো রয়েছে বলে জানা গেছে।
হলদিয়াপালংয়ে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ইমরুল কায়েস চৌধুরী। তিনি বলেন, সংগঠনে সক্রিয় থেকেও মনোনয়ন পাই না। গতবারও আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম নৌকা না পাওয়ায় ভোট করিনি। মাঠে আমার অবস্থান অনেক ভালো। নৌকার প্রার্থী শাহ আলম বর্তমান চেয়ারম্যান। সাবেক সচিবের ভাই হওয়ায় এবারেও নৌকার টিকেট পেয়েছেন তবে ভোটের মাঠে পিছিয়ে রয়েছেন।
অপরদিকে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান টিপু সোলতান এবারও নৌকার প্রার্থী। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা আবুল কাসেম ও বিএনপির রাশেদুল করিম রাশেদ। তাদের ত্রিমুখি লড়াই এখন সমানে সমান রয়েছে।
শহরের পার্শোক্ত খুরুশকুল ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বর্তমান স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো: শাহজাহান ছিদ্দিকী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াত মনোনিত মাষ্টার আবদুর রহিম ও বিএনপির নুরুল আমিন। বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর কারনে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই নৌকার প্রার্থী।
সদরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন ভারুয়াখালীতে নৌকার প্রার্থী কামাল উদ্দিন। সেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে জামায়াতের মোস্তাফিজুর রহমান। মূলত তাদের দুজনের মধ্যে লড়াই হবে এবারের ভোটে।
এভাবে সদর ও রামুর সব ইউনিয়ে নৌকার বিদ্রোহী, বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী হওয়ায় চরম বেকায়দায় রয়েছে নৌকার মনোনিত প্রার্থীরা। ভোটারদের আশা শুধুই সুষ্ঠু ভোট।
বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার যুক্তি তুলে ধরে আওয়ামী লীগের অনেকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নৌকা সঠিক জায়গায় যায়নি। গিয়েছে হাইব্রিড ব্যক্তির কাছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকায় নির্বাচনে তাদের বিজয় কঠিন হয়ে পড়েছে। দলীয় প্রধানসহ আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতারা হুঁশিয়ার করলেও তাতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তা আমলেই আনছে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ মুজিবুর রহমান বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নাম, পদবী ও মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করে জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে বহিস্কারের সুপারিশসহ পত্র পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। তারপরেও না সরলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার সদর, রামু ও উখিয়ার ২১ ইউনিয়নের ২য় ধাপের নির্বাচনের প্রচারের প্রায় শেষ সময়। মাত্র ৫ দিন সময় থাকায় ১২৪৯ জন প্রার্থী এখন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে ভোটারের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের প্রচার ততই বাড়ছে। অনেক প্রার্থী ভোট নেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আবার দলীয় নেতাকর্মীরা এলাকার মহল্লায় গিয়ে ছোটখাটো পথসভা করে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি অনুরোধ করছেন।
এখন সাধারণ ভোটাররা প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। তবে অধিকাংশ ভোটার দলের চেয়ে বরং তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন, তাকেই ভোট দেবেন বলে চায়ের দোকানে আলাপ আলোচনা চলছে।
পাড়া-মহল্লার প্রতিটি চায়ের দোকানে চলছে নির্বাচন নিয়ে নানা বিশ্লেষণ। কে এলাকার উন্নয়ন করবেন এমন বিশ্লেষণে সরগরম চায়ের দোকানগুলো। নির্বাচনী এলাকায় মাইকিং চলছে দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। চলে মোটরসাইকেল শোডাউন, মিছিল-মিটিং।
২১ ইউনিয়নে ১২৪৯ জন প্রার্থী প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। যদিও দলীয় প্রার্থীদের প্রতীক আগে থেকেই চুড়ান্ত ছিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৭৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এরমধ্যে ১৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৩ জন সংরক্ষিত আসনের  সদস্য প্রার্থী এবং ৫৬ জন সাধারণ সদস্য প্রার্থী। প্রত্যাহার শেষে ২১ ইউনিয়নে প্রার্থীর সংখ্যা ১২৪৯ জন দাঁড়ালো।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ২১ ইউনিয়নে ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৬ অক্টোবর ২১ ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র  প্রত্যাহারের শেষদিনে ১৩২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২৪৯ জন প্রার্থী প্রত্যাহার শেষে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ১৪ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৭৩ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এরমধ্যে ৫৬ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত সদস্য রয়েছে ।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ৩ উপজেলার ২১ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে ১৪১ জনে প্রত্যাহার করেছেন ১৪ জন, মহিলা সদস্য পদে ২৩৫ জনে প্রত্যাহার করেছেন ৩ জনের এবং সাধারণ সদস্য পদে ৯৪৭ জনের ৫৬ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন।  জেলায় প্রার্থী ১২৪৯ জন।
সদরে ভারুয়াখালীতে ৬ জন চেয়ারম্যান, ১২ জন মহিলা মেম্বার, ৫২ জন সাধারন সদস্য।
চৌফলদন্ডীতে চেয়ারম্যান ৭ জন মহিলা ১৮ জন, পুরুষ ৩৭ জন। ঝিলংজায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, মহিলা ৭ জন, পুরুষ ৪২ জন। খুরুস্কুলে চেয়ারম্যান ৪ জন, মহিলা ১৫ জন, পুরুষ ৫৩ জন। পিএমখালীতে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, মহিলা ১৪ জন, পুরুষ ৪২ জন।
রামু উপজেলার চাকমারকুলে চেয়ারম্যান ৮ জন, মহিলা ৭, পুরুষ ৩০ জন। ফতেখারকুলে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, মহিলা ৭ জন, পুরুষ ৩৭ জন। র্গজনিয়া চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, মহিলা মেম্বার ১২ জন, সাধারণ সদস্য ৪৪ জন। ঈদগড় চেয়ারম্যান ৭ জন, মহিলা ৯ জন, পুরুষ ৩৬ জন। জোয়ারিয়ানালা চেয়ারম্যান ৬ জন, মহিলা ১২ জন, পুরুষ ৪৪জন। কচ্চপিয়া চেয়ারম্যান ৭জন, মহিলা ৮ জন, পুরুষ ৩২ জন। খুনিয়াপালং চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, মহিলা ১৩ , পুরুষ ৪৩ জন। কাউয়ারখোপ চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮ জন, মহিলা মেম্বার ১১ জন, পুরুষ ৪০ জন। রশিদনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন, মহিলা ১১ জন, পুরুষ ৩৯ জন। রাজারকুলে চেয়ারম্যান প্রার্থী ১০ জন, মহিলা ১৩ জন পুরুষ ৪৩ জন।
দক্ষিণ মিঠাছড়িতে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন, মহিলা ৯ জন পুরুষ মেম্বার ৪২ জন। উখিয়ার হলদিয়াপালং এ চেয়ারম্যান পদে ৯ জন, মহিলা মেম্বার পদে ১৪ জন এবং পুরুষ মেম্বার পদে রেকর্ড ৭১ জন। জালিয়াপালং এ চেয়ারম্যান পদে ১১ জন, মহিলা ১৪ জন, পুরুষ ৫১ জন। রাজাপালং এ চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, মহিলা ৮ জন, পুরুষ মেম্বার ৬২ জন। রত্নাপালং এ চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, মহিলা ৮ জন, পুরুষ মেম্বার পদে ৪৭ জন। পালংখালীতে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, মহিলা সদস্য ১৩ জন এবং পুরুষ সদস্য পদে ৬৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মোট ৩ পদে ১৩২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৪১ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ২৩৫ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৯৪৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র স্ব স্ব রিটার্নিং অফিসার বরাবরে জমা দেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন সদর উপজেলায় ৪ জন, রামু উপজেলায় ৮ জন এবং উখিয়া উপজেলায় ২ জন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: শাহাদাত হোসেন জানান, ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। তিনি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্টানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Site Customized By NewsTech.Com