1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

কক্সবাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২ শতাধিক ছিনতাইকারী

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৭ দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পর্যটন জেলা কক্সবাজার শহর, হোটেল মোটেল জোন ও সমুদ্র সৈকতে অন্তত দুই শতাধিক পেশাদার ছিনতাইকারী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শহরের দুর্গম এলাকায় আস্তানা গড়ে শহরজুড়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে তারা। এদের মধ্যে সরাসরি ক্ষমতাসীনদলের নেতাদের ইন্ধনে, নিজস্ব পুলিশের সোর্স ও স্থানীয় আওয়ামীলিগের নেতাদের ছত্রছায়ায় এধরনের জগন্যতম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তারা এতই শক্তিশালী সম্প্রতি ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা ট্যুরিষ্ট পুলিশের দায়িত্বরত কনস্টেবল পারভেজ হোসেন (৩০) কে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকে অল্প কয়েকদিন চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা এলাকা ছাড়া হলেও বর্তমানে কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে আবারও মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে শহর কেন্দ্রি ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের সঙ্গে জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের কিছু নেতার দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দলের ওইসব নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় অনেক চিহ্নিত অপরাধীকে আটক করতে পারে না পুলিশ। আবার কোন চোর-ছিনতাইকারী পুলিশের হাতে ধরা পড়লেই সে হয়ে যায় আওয়ামী লীগ বা সহযোগী কোন সংগঠনের নেতা বা কর্মী। নেতারা প্রভাব বিস্তার করে চোর-ছিনতাইকারীদের ছাড়িয়ে নেয়। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া, মোহাজেরপাড়া, বাসটার্মিনাল এলাকা, বাদশাঘোনা, হালিমা পাড়া, সমিতি পাড়া, সার্কিট হাউস এলাকা, হোটেল মোটেল জোন, লাইটহাউস পাড়া, সাহিত্যিকা পল্লী, পাহাড়তলী, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, পেশকারপাড়া ও কলাতলী আদর্শ গ্রাম কেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি ছিনতাইকারী চক্র রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে দুই শতাধিক ছিনতাইকারী দলে দলে বিভক্ত হয়ে সমুদ্র সৈকতসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার নির্জন স্থানে ছিনতাই করে থাকে। বিশেষ করে ভোরে ও রাতে এরা তৎপর থাকে সবচেয়ে বেশি। পর্যটন মওসুমে এরা শহরের সমুদ্র সৈকত, ডায়াবেটিকস পয়েন্ট ও ঝাউবাগানসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ওৎপেতে থাকে। অন্য সময় এরা বৃহত্তর পাহাড়তলী, হোটেল মোটেল জোন, রুমালিয়ারছড়া ও ঘোনারপাড়ায় পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন সেটসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে থাকে। কেউ বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এসব ছিনতাইকারীর হাতে এমন কোন দিন নেই যেদিন ছিনতাই কিংবা অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সরকারি দলের কিছু নেতার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকায় পুলিশ এসব ছিনতাইকারীকে আটক করেও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
কক্সবাজার থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পেশাদার চোর ছিনতাইকারী ধরলেও সে হয়ে যায় আওয়ামীলীগের কর্মী! তাদের ছাড়িয়ে নিতে শহর আওয়ামী লীগের নেতারা তদবির করে। নেতাদের তদবিরের কারণে ধৃত অধিকাংশ অপরাধীকে কোর্টে পাঠানো সম্ভব হয় না। এমনও ঘটনা ঘটে, ছিনতাইকারীকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসার আগেই নেতারা থানায় এসে তদবির শুরু করে।
সূত্র আরও জানায়, মূলত মদ, গাজা ও ইয়াবার টাকা যোগাতেই উঠতি বয়সের কিছু ছেলে ছিনতাই করে থাকে। ছিনতাইকারী দলে রয়েছে ১৬ বছরের কিশোর থেকে ৩০ বছরের যুবকও। শহরের দুর্গম এলাকায় এদের বসবাস হলেও মূল আস্তানা হোটেল মোটেল জোনের কটেজগুলো। ছিনতাই কর্ম সেরে এসব কটেজে জড়ো হয় তারা।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, কক্সবাজারের কোন জায়গায় ছিনতাইকারীদের স্থান হবেনা। তাদের আটকের জন্য সবসময় পুলিশ সতর্ক আছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com