1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

কক্সবাজারে বেড়েছে শীত : কাঁপছে মানুষ

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৩৯ দেখা হয়েছে

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
পর্যটন জেলা কক্সবাজারে হঠাৎ শীতের তীব্রতা একটু বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পুরো জেলাজুড়ে বাড়ছে শীত, কাপছে মানুষ। বিশেষ করে শীতের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত তিনদিন ব্যাপী ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চরম কষ্ট দেখা দিয়েছে। যার ফলে ছোট ও বৃদ্ধ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে ঠান্ডা জনিত রোগ। এদিকে ঠান্ডা তীব্রতর হওয়ায় ইজতেমায় আসা কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী এলাকার মো: ইসলাম নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
ইজতেমায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হঠাৎ দু-একদিনের মধ্যে শীত বেশী বৃদ্ধি পাওয়ায় খরকুটো, লাকড়ি ও চায়ের দোকানে গিয়ে চুলায় আগুন জ্বালিয়ে মুসল্লিরা শীত নিবারনের চেষ্টা চালায়। আবার পর্যাপ্ত শীত বস্ত্র না থাকার কারনে অনেকেই শীতের কষ্ট পোহাচ্ছে। এই শীতের কবলে ইজতেমার আশপাশ এলাকা, রাস্তা ঘাট ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সারাদিন কুয়াচ্ছন্ন ও দিনে সুর্যের আলো দেখা যায়নি। আর গত ২/৩ দিন ধরে বৃষ্টির মত টিপ টিপ করে পড়তে থাকে কুয়াশা। যার ফলে শীতের আরো তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইজতেমায় শহরের পাহাড়তলী থেকে আসা মহসিন নামের এক বৃদ্ধ জানান, সরকারীভাবে তাদেরকে কোন তেমন শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়নি। এতে তারা শীত নিবারনের কোন ব্যবস্থাই খুঁজে পাচ্ছেন না। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে শীত কষ্ট থেকে বাচাঁর চেষ্টা করছেন। তবে তাতেও কাজ হচ্ছে না তাদের। তিনি আক্ষেপ করে দৈনিক হিমছড়িকে বলেন, একটা পাতলা কম্বল ছিল তা নিয়ে ইজতেমায় এসেছি তাও এখন কাজ হচ্ছেনা। এরকম শুধু মহসিন নয় বেশির ভাগ মানুষের ভাগ্যেই জটেনি শীতের গরম কাপড়। দরিদ্র এসব মানুষ শীত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এদের কারোরই শীতের বস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই। এদিকে, গতকাল ইজতেমায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত হওয়া একটানা বৃষ্টিতে ইজতেমায় চরম বিঘœ ঘটে। বৃষ্টির সাথে তীব্র ঠান্ডায় মুসল্লিরা কাবু হয়ে যায়। এর মধ্যে বয়স্করা চরম বেকায়দায় পড়ে যায়। শীতের তীব্রতার কারণে ইজতেমায় ঠাঁই হওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অনেক মুসল্লি স্থল ছাড়ছে। বিকেল নাগাদ অনেক মুসল্লি ইজতেমা ছেড়ে গেছে। কমে গেছে ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের জায়গা।
অপরদিকে গতকাল কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীতের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষ ছুটছে গরম কাপড় ও লেপ তোসক কিনতে।
শহরের এন্ডারসন রোডের শীতের কাপড় ব্যবসায়ী খায়রুল জানান, শীত বাড়ার সাথে সাথে এবার সকল পর্যায়ের মানুষ প্রচুর গড়ম কাপড় কিনছেন। তাই ব্যবসাও ভাল হচ্ছে।
অপরদিকে খবর নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার অধিকাংশ এলাকায় কাপছে দরিদ্র অসহায় মানুষ। শীত নিবারনে ব্যবস্থা না থাকায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে ওই সব মানুষের জন জীবনে। তবে সরকারীভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে এখনো কোন কম্বল বিতরন করা হয়নি।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে ঠান্ডা, নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ শীতজনিত নানা রোগ। এতে শিশুরা ব্যাপকহারে আক্রান্ত হচ্ছে। জেলার সব সদর হাসপাতালেগুলোতে এখন এসব রোগীদের ভীড়। সামনে আরো শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা: নোবেল কুমার বড়–য়া জানান, গত দুই একদিন ধরে ঠান্ডাজনিত রোগের অনেক শিশু ও বৃদ্ধ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, শীতের কারনে হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চাপ একটু বেশী। তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও উপকরন সরবরাহ রয়েছে। ডাক্তার ও নার্স তাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com