1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

কক্সবাজারে শেষ মুর্হুতে জমে উঠেছে ঈদ বাজার : দাম বেশির অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০১৫
  • ২৪ দেখা হয়েছে

আমিনুল কবির :
ঈদের দিন যত গনিয়ে আসছে তথই কক্সবাজারের ঈদের বাজারে ভিড় বাড়ছে ক্রমেই। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ক্রেতাদের তেমন ভিড় লক্ষ্য করা না গেলেও শেষ সময়ে কেনাকাটায় বাজারে বেচাকেনা বাড়ছে। চাঁদ রাত পর্যন্ত এ ভিড় আরো বাড়বে। তবে বেশিরভাগ মার্কেট ও অভিজাত বিপনীকেন্দ্রগুলোতে বিত্তশালী টাকাওয়ালা পরিবারের তরুন-তরুনীদের ভিড়ই বেশি দেখা যায়। নিু ও নিু মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে সুনির্দিষ্ট কিছু মার্কেট ও ফুটপাতে। নির্দিষ্ট বাজেটে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এজন্য তারা মূলত: ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিশুসহ পরিবারের নারী ও বয়সীদের জন্য কিছু কিনতে। তবে বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতাদের নিকট থেকে অধিকমূল্য নেয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শহরের এক মার্কেটে যেসব পণ্য হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে অন্য মার্কেটে একই পণ্য তার চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। শহরের সালাম মার্কেট,ফিরোজা মার্কেট ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মার্কেট এবং সুপার মার্কেট ও আপন টাওয়ার মার্কেট এ প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, একেকটি মার্কেটের পজিশন ও বিক্রয়কর্মীর সংখ্যাধিক্যের জন্যেও মার্কেটভেদে পণ্যের দামের পার্থক্য রয়েছে। এজন্য বেশ কিছু দোকানে অধিক দামে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রয়কর্মীরা একেকজন ক্রেতার কাছে একেকরকম দামে পণ্য বিক্রি করছেন।
কক্সবাজারের বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে ভারতীয় পন্যের সামাহারই বেশি দেখা গেছে। জামাকাপড়ের দোকানগুলোতে ভারতীয় সিরিয়ালের নামে বিক্রি হচ্ছে ভারত হতে বৈধ ও অবৈধ পথে আসা বিভিন্ন থ্রি-পিচ, শাড়ি ও অন্যান্য জামাকাপড়। শাড়ি কাপড়ের দোকানগুলোতে ভারতের সুতি ও কাতান শাড়িসহ বিক্রি হচ্ছে দেদারছে।
শহরের সালাম মার্কেটের পিএমখালী বস্ত্র বিতানের সত্বাধিকারী মাওলানা আব্দুর রশীদ বলেন, এবারের ঈদে ক্রেতাদের বেশির ভাগ দেশীয় এবং ভারতীয় জর্জেট কাতান ও সুতি শাড়ির চাহিদা বেশি। দেশীয় সুতি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। টাঙ্গাইলের সুতি বালুচুরি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। জামদানি সিল্ক শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ঢাকার জামদানি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। ভারতের জর্জেট শাড়ি ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
দর্জি দোকানগুলোতে নতুন পোষাক তৈরি করতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন অনেকে। কক্সবাজার শহরের এক টেইলার ব্যবসায়ী জানান,নতুন জামাকাপড় তৈরির জন্য মেয়েদের টেইলারগুলোতে ব্যাপক ভিড় লেগেছে। তেমনি পাজামা বানানোর টেইলারেও। তবে জেন্টস তথা পুরুষের জামা তৈরির টেইলারগুলোতে এবার কাজের তেমন চাপ নেই। ঈদের আগেও এখনও একবেলা কাজ করছি। বিভিন্ন টেইলারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি পাঞ্জাবীর বা মেয়েদের জামা তৈরির মুজুরী পড়ছে ৩ শ’ টাকা থেকে ৭ শ’ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ছেলেদের জামার মুজুরী সাড়ে ৩ শ’ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা পযন্ত নেয়া হচ্ছে।
এই ঈদে মেয়েদের পছন্দের শির্ষে রয়েছে কিরণমালা নামের থ্রি-পিচ সেট। বাজারে ১ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে এ জামা। এছাড়া পাঞ্জাবির বাজারে ১ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে সুতি, ধুপিয়ানীসহ নানা ধরণের পাঞ্জাবি।
কক্সবাজারের সু-প্রাচীণ সুপারমার্কেটে রয়েছে শাড়ি কাপড়সহ প্রায় সব পণ্যের দোকান। জেলা ও শহরের বিভিন্ন প্রান্ত হতে আসা ক্রেতাদের সবেচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্রয়ের জায়গাও এই সুপারমার্কেট। এখানে ঈদ বাজারের বেঁচাকেনা নিয়ে রোজার মাঝামাঝি পর্যন্তও ছিল ব্যবসায়ীদের হা-হুতাশ। বিশেষ করে আষাড়ের বর্ষণ আর প্রতিদিন বিকেল হতে ব্যস্ততম পানবাজাররোড ও বড়বাজারে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ার প্রভাব পড়ে এখানে। আর মাসের শুরুতে বেতন হাতে পেয়ে চাকরীজীবীদের পরিবারগুলোও বাজারমুখো হতে শুরু করেছে। এতে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসায় এসব মার্কেট ও দোকানগুলোতেও ভিড় বাড়ছে ক্রমেই।
বাজারের বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেঁচাকেনা বাড়ছে ক্রমেই। তবে নিু ও নিু মধ্য আয়ের মানুষ সিমীত সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করছে। তবে বর্তমানে জেলা শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও উপজেলা সদরেও একাধিক মার্কেট গড়ে ওঠায় শহরমুখী ক্রেতাদের ভিড়ও কমেছে। বস্ত্র ব্যবসায়ী আরিফ এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাজারে তুলনামুলক কম মূল্যে পণ্য বিক্রি হলেও অনেকে হাতের কাছে পেয়ে যাওয়ায় বাইরের দোকানগুলোতে যাচ্ছে। অবশ্য ঈদ ঘনিয়ে আসায় ক্রেতার সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে নি¤œ ও নি¤œ আয়ের মানুষ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারছে না।
শহরের ফিরোজা মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে শাড়ি, কাপড়সহ কসমেটিক সামগ্রির বেশ কয়েকটি দোকান ও দিত্বীয় তলায় রয়েছে নামী দামী ব্যান্ডের একাধিক জুতার দোকান। এখানে নিু ও নিু মধ্য আয়ের মানুষের আনাগোনা বেশি। ক্রেতাগণ জানান, অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় এখানে পণ্য সামগ্রির দাম তুলনামুলক বেশী।
শহরের বিশেষ করে পান বাজার রোডস্থ মার্কেটে রয়েছে অনেকগুলো জুতার দোকান। এসব দোকানেও বাড়ছে বেঁচাকেনা। শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে একদরের জুতা। কম দামে এখান থেকে জুতা কেনার জন্য বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সমাগম ঘটছে। এছাড়া ফুটপাতে টুপি, কসমেটিকসের দোকানেও বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
জেলাসদর ছাড়াও অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও ঈদের বাজার জমে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদদাতাগণ।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com