1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

কক্সবাজারে সরকারী খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহ নিয়ে চালবাজির শেষ নেই

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ২২ দেখা হয়েছে

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :
কক্সবাজার জেলার সাতটি উপজেলার ৬টি সরকারী খাদ্যগুদামে আতপ চাল সংগ্রহ নিয়ে চালবাজির শেষই হচ্ছে না। একের পর কেলেংকারির ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।  বোরো (আতপ) চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় কক্সবাজার জেলায় ৮ হাজার ৪৯২ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চাল সংগ্রহের শুরুতে রামু, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ উঠে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে। এরই ধারাবাহিকতায়
রামু খাদ্যগুদামে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ কালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের হাতে ৪৩ মেট্রিক টন চাল ভর্তি দু’টি ট্রাক আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছে কালোবাজারি সিন্ডিকেট। এনিয়ে চলছে জেলা ব্যাপী তোলপাড়। উখিয়া খাদ্য গুদামে সরবরাহ কালে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের আটকানো ১৫০ মেট্রিক টন চাল বোঝাই ৯ টি ট্রাক শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছে। নিম্নমানের চাল ক্রয়সহ বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে চাল সংগ্রহ বন্ধ ঘোষণা করা হলেও রাতের আধারে চলছে নিম্নমানের চালগুদামজাত করার কাজ।
সূত্র জানায়, বোরো (আতপ) চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় কক্সবাজার জেলায় ৮ হাজার ৪৯২ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৫৩৩ মেট্রিক টন, চকরিয়ায় ৩৫০ মেট্রিক টন, পেকুয়ায় ৩৫৪ মেট্রিক টন, মহেশখালীতে ২০৯ মেট্রিক টন, রামুতে ৩০৭৬ মেট্রিক টন, উখিয়ায় ৩৪৭২ মেট্রিক টন ও টেকনাফে ৪৯৮ মেট্রিক টন। এসব চাল সরবরাহের জন্য কক্সবাজার জেলার ২২ জন রাইচ মিল মালিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তানভীর হোসেন। চুক্তি নিয়েও প্রতি টনে আড়াই হাজার টাকা হারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও উঠে তার বিরুদ্ধে। গত ১ আগষ্ট থেকে নির্ধারিত পরিমান চাল সংগ্রহ শুরু হয়। কিন্তু জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর হোসেন ও অফিস সহকারী রোকসানার যোগসাজসে সংশি¬ষ্ট উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, খাদ্য পরির্দশক ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তারা কক্সবাজারের শীর্ষ কালোবাজারি তাজরেজা ফ্লাওয়ার মিলের ম্যানেজার সাগর-রফিক, শহরের চাউলবাজারের এসবি এন্টারপ্রাইজের বুলবুল, লিংকরোডের আকতার ও উখিয়ার আবদুর রহিমের সাথে সিন্ডিকেট করে খাদ্য গুদাম গুলোতে উত্তরাঞ্চল থেকে আনা নি¤œমানের কম দামের চাল মজুদ করা হয়। এসব বিষয়ে শত শত বঞ্চিত কৃষক রামুতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মোঃ আলী হোসেন ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা ও মতিউর রহমানকে নিয়ে কমিটি গঠন করেন। ১৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৯টায় তারা রামু খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ কালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা অভিযান চালিয়ে ৪৩ মেট্রিক টন চাল ভর্তি দু’টি ট্্রাক আটক করেন। এঘটনায় মামলাও হয়। মামলা দায়েরের মাত্র ৫ দিনের মাথায় আদালতে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে আদালতের সাথে প্রতারণা করে জব্দকৃত ৪৩ মেট্রিক টন চাল ছাড়িয়ে নেন। এক্ষেত্রে ওই সিন্ডিকেটটিকে স্বয়ং মামলার বাদী রামু খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সুজিত বিহারী সেন, রামু আদালতের জেনারেল রেজিষ্ট্রার অফিসের (জিআরও) উপ-পরিদর্শক মিসেস পলি মজুমদার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন মিলে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্রীমন্ত পাল নামের যে ব্যক্তি জব্দকৃত চাল নিজের বলে দাবী করে কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে সেই কাগজপত্রেও রয়েছে নানা অসঙ্গতি। কাগজপত্রে চট্টগ্রামের চাকতাইয়ের মের্সাস মুছা এন্টারপ্রাইজ ও খাতুনগঞ্জের মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ থেকে ৪৩ মেট্রিক টন চাল ক্রয় করে আনার কথা বলা হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন খোদ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
রামু উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মোঃ মাসুদ হোসেন বলেন, ‘একজন নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেটসহ আমি ৪৩ মেট্রিক টন চালসহ দুটি ট্রাক জব্দ করি। এসময় একটি ট্রাকের চালানও জব্দ করা হয়। একই সাথে ট্রাকের মালিক ও হেলপারদের জবানবন্দিও নেয়া হয়। কিন্তু শ্রীমন্ত পাল নামের একজন এসব চাল চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছে বলে আদালতে ভুয়া ও মিথ্যা কাগজপত্র জমা দিয়ে জব্দকৃত চাল ছাড়িয়ে নিয়েছে। অথচ এসব চাল আনা হয়েছে বগুড়া ও ময়মনসিংহ থেকে। এ সংক্রান্ত আমাদের সব কাগজপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে দাখিল করা হবে।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার পর দারোয়ানকে ওই ট্রাকগুলোসহ লোকজনকে আটকাতে বলেছিলাম। একই সাথে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও তাদের আটকের কথা বলেছি। কিন্তু তারা পালিয়ে যায়।
এদিকে, সরকারের ক্রয়নীতি লংঘন করে সস্তা দামের নি¤œমানের চাল সরবরাহ দেয়ার সময় উখিয়া খাদ্য গুদামে ২৯ আগষ্ট স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের আটকানো ১৫০ মেট্রিক টন চাল বোঝাই ৯ টি ট্রাক শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা থেকে এসব নি¤œ মানের চাল সরকারি খাদ্য গুদামে ভরার জন্য আনা হয়েছিল। এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ মিল মালিক ও কালোবাজারি সিন্ডিকেট ক্রয় নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফ্রি ষ্টাইলে রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ায় খাদ্য বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মীদের যোগসাজসে গুদামে কক্সবাজার জেলার কৃষকদের বঞ্চিত করে চাল সরবরাহ করে আসছে। সরকারি নিয়ম না মেনে মিল মালিক ও অসাধু খাদ্য কর্মকর্তারা রাতারাতি বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com