1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :
শিরোনাম :

কক্সবাজার জেলায় নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলের ছড়াছড়ি

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৬৬ দেখা হয়েছে

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :
কক্সবাজার শহর সহ জেলার সর্বত্র ছেঁয়ে গেছে নিবন্ধনহীন ও চোরাই মোটরসাইকেল। অপরাধ কিংবা মাদক বহনে ব্যবহারের পাশাপাশি সেই সাথে চুরিও হচ্ছে অবৈধ মোটর সাইকেল। অবৈধ মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চললে রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য নয়, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারদের আখের গোচানোর জন্যে। অবৈধ যানবাহন আটকের নামে এখানে চলছে গণহারে চাঁদাবাজি।
সুত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আনা চোরাই মোটর সাইকেল কক্সবাজার শহর ছাড়া জেলার চকরিয়া, রামু, উখিয়া,টেকনাফ, ঈদগাঁও,ঈদগড়,পেকুয়া,কুতুবদিয়া, মহেশখালী এলাকায় ছেয়ে গেছে। এসব চেরাই মোটর সাইকেলে নেই কোন নিবন্ধন। এছাড়া বিভিন্ন শো রুম থেকে কেনা মোটর সাইকেল গুলোর অধিকাংশই লাইসেন্স নেই। বছরের পর বছর নিবন্ধনহীন ভাবে চালানো হচ্ছে জেলার বিভিন্ন সড়ক উপ-সড়ক গুলোতে ।
এসব মোটর সাইকেল নিত্য দাপিয়ে বেড়ালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে এলাকায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিসহ সড়ক দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। সমস্যা এখানেই শেষ নয় নিবন্ধনহীন এসব অদক্ষ রোমিওদের কারণে স্কুল , কলেজ ও মাদ্রাসাগামী নারী শিক্ষার্থীদেরকে ইভ্টিজিংয়ের কবলেও পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া , গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় এসব গাড়ি ও গাড়ির চালক বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দূর্ঘটনার পর পরই পালিয়ে যেতে সুযোগ পাচ্ছে। বার বার অধরাই রয়ে যাচ্ছে অপরাধী কিংবা রোমিওরা।
এক সমিক্ষায় দেখা গেছে, চোরই মোটরসাইকেল গুলোর চালকদের মধ্যে বেশীর ভাগই উঠতি বয়সের তরণ। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী মোটর সাইকেল চোরাচালানী সিন্ডিকেট ভারত থেকে চোরাই পথে আনা মোটর সাইকেল যত্রতত্র বিক্রি করে রাতারাতি অনেকে ধনী লোক বনে গেছেন। স্থানীয় ভাবে এসব চোরাই মোটর সাইকেলকে টানা গাড়ি নামে ডাকা হয়।
প্রচলিত বাজার মূল্যের চেয়ে এসব চোরাই গাড়ি অনেক কম মূল্যে পাওয়া যায় বলে ক্রেতাদের দৃষ্টিও এখন সেদিকে। আইনী কোন ঝামেলা পোহাতে হয়না বলে কথিত ক্রেতারা এসব চোরাই গাড়ি স্বাভাবিক গাড়ির মতোই ক্রয় করে থাকেন । অবাধে চোরাই গাড়ি বিকিকিনির কারণে সরকার প্রতি বছর বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে, কক্সবাজার জেলা শহর ছাড়াও জেলার সড়ক উপ-সড়কে কি পরিমাণ নিবন্ধনবিহীন ও চোরাই মোটর সাইকেল চলাচল করছে তার সঠিক পরিসংখ্যান খোদ কক্সবাজার ট্রাফিক কিংবা পুলিশের কাছেও নেই। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবী, এ ধরণের মোটর সাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি হবে বলে তাদের ধারণা।
এক সমীক্ষায় জানা গেছে, গত এক বছরে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হয়েছে অন্তত ৩০টির অধিক মোটর সাইকেল। পুলিশের একটি সুত্র জানিয়েছেন, চোরাই কিংবা রেজিষ্ট্রেশন বিহীন কোন মোটরসাইকেল আটক করা হলেই রাজনৈতিক নেতাদের তদবির বেড়ে যায়। কতিপয় নেতাদের বাড়াবাড়ির কারণে অনেক সময় অবৈধ মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান কিংবা আটক করা সম্ভব হয় না।
কক্সবাজার যানবাহন নিয়ন্ত্রণ শাখায় বর্তমানে একজন সহকারী পুলিশ সুপার, ৩জন টিআই ও দুইজন সার্জেন্টসহ ১০জন কনষ্টেবল রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজার শহর ও শহরতলিতে অবৈধ মোটরসাইকেল্ আটক অভিযান চলছে। কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল আটকের পর একদেড় হাজার টাকা নগদ্ উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। গত ৩ বছরের অধিক সময়ে কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত আছেনসার্জেন্টআদেল। শহরের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন আটক করে গণহারে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে এই আদেল।
কক্সবাজার শহর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মোস্তফিজ জানান, চোরাই কিংবা রেজিষ্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শহর যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং সদর মডেল থানা পুলিশ গত এক বছরে অন্তত ১০০টি মোটর সাইকেল আটক করেছে। এর বেশীর ভাগ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিলামে বিক্রিও করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই নিবন্ধনবিহীন মোটর সাইকেল ও চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামীতে অপরাধ ও চোরাচালানের মাত্রা গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেলেও তখন অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে এলাকার সচেতন মহলের অভিমত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Site Customized By NewsTech.Com