কক্সবাজার থেকে সোনাদিয়া : নতুন নৌপথে জাহাজ চলাচল শুরু

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটি’র ঘাট থেকে ভার্জিন দ্বীপ সোনাদিয়ায় নতুন নৌ-পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল উদ্বোধন করেন কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।
টুয়াক সূত্র জানায়, ২৩ নভেম্বর শুক্রবার থেকে প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে নতুন নৌ-পথে জাহাজ চলবে। “এসটি শহীদ সুকান্ত বাবু” জাহাজ এই পথে চলাচল করবে। নতুন এই নৌপথে যাত্রীরা যাতে নিরাপদে জাহাজ থেকে তীরে ওঠানামা করতে পারে, সে জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। জাহাজে নিরাপত্তার জন্য প্রতিদিন থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় এসটি সুকান্ত বাবু জাহাজ চলাচল উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন-বর্তমান সরকারের আমলে আরো একটি পর্যটনের দ্বার উম্মোচন হয়েছে। যেটি প্রথম এই যাত্রা স্বপ্নের সোনাদিয়ায় জাহাজ চলাচল। দেশি-বিদেশী পর্যটকরা যাতে নিশ্চিন্তে চলাফেরা-দর্শনীয় স্থান দেখতে পারে সেজন্য এসটি সুকান্ত বাবু নামে জাহাজ চালু করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন-এসটি সুকান্ত বাবু জাহাজ’র চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন-ট্যুরিষ্ট পুলিশ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান, জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, টুয়াক এর ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এমএ হাসিব বাদল, সাংবাদিক মো: আলী জিন্নাত, মহিলা কাউন্সিলর শাহেনা আক্তার পাখি, ইয়াছমিন আকতার, টুয়াক সহ সভাপতি ও ফারহান এক্সপ্রেস ট্যুরিজমের সত্বাধিকারী হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।
এসটি সুকান্ত বাবু’র পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: আবদুল্লাহ জানান-অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনাদিয়ায় এই প্রথম জাহাজের যাত্রা। পর্যটকদের সুবিধার্থে জাহাজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্যাকেজ ঘোষনা করা হয়েছে। প্যাকেজ মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ১২০০ টাকা। এই প্যাকেজে খাবারসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
সংবাদকর্মী এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন-সমুদ্র পথে সোনাদিয়া-মহেশখালী জাহাজ সুকান্ত দিয়ে যে শুভ সূচনা হয়েছে তা পর্যটকদের নতুন আনন্দের বার্তা দিবে, কারন সোনাদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের প্রতি মুহুর্তের হাতছানি দিয়ে ডাকলেও যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। দীর্ঘদিন পর হলেও পর্যটন শিল্প প্রসারে বিশাল জাহাজ সুকান্তের যাত্রা শুরু করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরো বলেন-পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার নতুন ধুয়ার খুলল। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তার প্রয়োজনের ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ ক্যাম্প সোনাদিয়ায় প্রয়োজন রয়েছে। একই সাথে সোনাদিয়া দ্বীপের জীববৈচিত্র রক্ষায় পর্যটক ব্যবসায়ীদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।
প্যাকেজে যা থাকছে :
বাঁকখালী নদী ভ্রমন, বিশে^র দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের মোহনা দর্শন, বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালী ভ্রমন, সুন্দরবনের আদলে ম্যানগ্রোভ বন ভ্রমন, ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির দর্শন, ভার্জিন দ্বীপ সোনাদিয়া ভ্রমন, এতে থাকছে লাল কাকড়ার দল, উড়ন্ত গাংচিলের মনোরম দৃশ্যসহ নিঝুম দ্বীপ, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনুভুতি, সমুদ্র ভ্রমন, জাহাজে চড়ে সুর্যাস্ত যাওয়ার দৃশ্য ও সমুদ্র সৈকত উপভোগ। দেশের বৃহৎ শুটকিমহাল নাজিরারটেক দর্শন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দর্শন, দুপুরবেলার খাবারে থাকছে সামুদ্রিক মাছ কোরাল, চিংড়ী, শুটকি ভর্তা, ডাল, মিক্স সবজি, সফট ড্রিংক, মিনারেল ওয়াটার ও মহেশখালীর মিষ্টিপান। বিকালে জাহাজে নাস্তার ব্যবস্থা এবং জাহাজে লোকাল ডিজে পার্টি।
সোনাদিয়া দ্বীপ : অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি যেখানে :
বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের সর্বশেষ জেলা কক্সবাজার। কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত। পর্যটন নগরী এ কক্সবাজার। কক্সবাজার জেলার অন্যতম একটি দ্বীপের নাম সোনাদিয়া। স্থানীয় ভাষায় সোনাদিয়ার চর বলে। এটি মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত। কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের একটি প্রাচীন সমৃদ্ধ শহর। রামু উপজেলা তার আদি নিদর্শন। রামুতে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধের আগমনের অস্তিত্ব সংরক্ষিত আছে রামকোট বিহারে। প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় সভ্যতার স্মারক ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দির, মহেশখালী সাগর দ্বীপ আদিনাথ পাহাড়ে অবস্থিত।
চট্টগ্রাম ও বাংলায় মুসলমান আগমন ও মুসলমান মিশনারী হিসেবে পরিচিত হযরত বদর আউলিয়া (বদর পীর) সমুদ্র পথে আগমনের চিহ্ন বদর মোকাম কক্সবাজারে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রাচীন আরাকানী সভ্যতার স্মারকসহ পুরো কক্সবাজারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্মারক নিয়ে এই শহর পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। কক্সবাজারের আকর্ষনীয় স্থানসমূহের মধ্যে সোনাদিয়া দ্বীপ অন্যতম। এরপরেও সেন্টমার্টিন দ্বীপ, মহেশখালী দ্বীপ, কুতুবদিয়া দ্বীপ, মাতারবাড়ী দ্বীপ, ছেঁড়া দ্বীপ উল্লেখযোগ্য। নয়নাভিরাম দ্বীপ সোনাদিয়া পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। কক্সবাজার যারাই আসেন তারা যদি সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ না করেন তাহলে পরিপূর্ণতা আসবে না। সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রকৃতির অদ্ভুত সব সৌন্দর্য মানুষকে প্রতিনিয়ত কাছে টানছে। যেন সৃষ্টার সৃষ্টি সব কিছু দিয়ে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে জেগে ওঠা সোনাদিয়া দ্বীপ। কক্সবাজার জেলা থেকে মহেশখালীর দূরত্ব ১২ কিলোমিটার মাত্র। কক্সবাজার থেকে উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালি দ্বীপের দক্ষিণে সোনাদিয়া দ্বীপটির অবস্থান। আর মহেশখালী থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে সাগরের বুকে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। দ্বীপটির আয়তন ৯ বর্গকিলোমিটার।
ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বনের সমন্বয়ে গঠিত এই সুন্দর দ্বীপটি। সাগরের গাঢ় নীল জল, লাল কাঁকড়া, কেয়া বন, সামুদ্রিক পাখি সবমিলিয়ে এক ধরনের রোমাঞ্চিত পরিবেশ সবসময় বিরাজ করে এই দ্বীপে। এ দ্বীপের পানি এতোটাই স্বচ্ছ ও টলটলে, দেখে মনে হবে যেনো কোনো কাঁচের ওপর দিয়ে নৌযানটি এগিয়ে চলেছে। যা দেখলে শত বছরের দুঃখ-কষ্ট এক নিমিষেই ভুলে যেতে বাধ্য। সমুদ্র থেকে সৃষ্টি হয়ে ভিতরের দিকে গিয়ে নদীটি কয়েকটি শাখা প্রশাখায় ছড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে সম্ভবত। দুপাশে সবুজ বন। এসব বনে রয়েছে কেওড়া, হারগোজা, উড়িঘাস এবং কালো ও সাদা বৃক্ষ।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com