1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

কঠিন শর্ত: ঋণের ৭৫ শতাংশই যাবে ভারতে

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০১৫
  • ১০ দেখা হয়েছে
কক্সবাজার আলো  ডেস্ক: সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে ভারত বাংলাদেশকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ প্রদানের ঘোষণা দেয়। তবে ভারত যে ঋণ দিতে চাচ্ছে, কঠিন শর্তের বেড়াজালে তার সিংহভাগই আবার ফিরে যাবে ভারতে। এছাড়া এই ঋণের আওতায় গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে ভারতীয় কোম্পানি, নিয়োগ করা হবে ভারতীয় জনবল।
২০০ কোটি ডলারের এই ঋণ প্রস্তাবে রয়েছে শর্তের বেড়াজাল। এ ঋণে যে প্রকল্পই নেওয়া হবে, ওই প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ অর্থ খরচ করতে হবে ভারত থেকে মালামাল এনে।অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের এ শর্ত পূরণ করতে হলে নির্মাণকাজের সামগ্রী থেকে শুরু করে পরামর্শকও ভারত থেকে আনতে হবে।

গত জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে ২০০ কোটি ডলারের সমঝোতা চুক্তি হয়, যা দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) নামে পরিচিত। ভারতের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক বা এক্সিম ব্যাংক এ ঋণ দেবে।

এর আগেও ভারতের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই চুক্তির অর্থ ব্যবহারের শর্ত কিছুটা নমনীয় ছিল। তাতে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ৬৫ শতাংশ এবং অন্য প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ কেনাকাটা ভারত থেকে করার শর্ত ছিল।

সমঝোতা চুক্তির সময় বলা হয়েছিল, দ্বিতীয় পর্যায়ের এই সহায়তার শর্ত আগের মতোই থাকবে। তবে ভারতীয় পক্ষ থেকে এখন জানানো হয়েছে, এবারের ঋণের আওতায় নেওয়া যে কোনো প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ কেনাকাটাই ভারত থেকে করতে হবে। আর প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিতে হবে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো দেশের প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিতে পারবে না।

এ মাসে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করে ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে চিঠি দিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন।

এদিকে প্রথমবারের ঋণের আওতায় এ ধরনের শর্তের কারণে বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

এ ঋণ প্রস্তাব সম্পর্কে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রথম এলওসিতে কেনাকাটার শর্তের কারণে বেশ কিছু কাক্সিক্ষত প্রকল্প নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতবার প্রথমে শর্ত ছিল যে ৮০ শতাংশ কেনাকাটা ভারত থেকে করতে হবে, পরে তা কমিয়ে ৬৫ শতাংশ করা হয়।

তিনি বলেন, এবারের দর-কষাকষিতে তা আরো কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে এ ধরনের ঋণ অনেকটা সরবরাহকারী ঋণের মতো হয়ে যায়। তা ছাড়া এ ঋণের শর্ত মানলে কোন কোন প্রকল্প নিলে অপেক্ষাকৃত বেশি লাভবান হওয়া যাবে, হিসাব করে সেসব প্রকল্প বাছাই করতে হবে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে শর্তহীন ঋণ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। উন্নত দেশগুলো অনেকটা রাজিও হয়েছে। তাই ভারতের ঋণের ক্ষেত্রেও দর-কষাকষি করতে হবে।’

ভারতের ঋণের অর্থ দিয়ে ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে সরকার। প্রকল্পগুলো হলো— রেল যোগাযোগ খাতের পার্বতীপুর-কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথকে দ্বৈত গেজে রূপান্তর; খুলনা-দর্শনা দ্বিমুখী রেলপথ নির্মাণ; সৈয়দপুর রেল কারখানা উন্নয়ন; বিদ্যুৎ খাতের বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন নির্মাণ; পরিবহন খাতের বি আরটিসির ৫০০ ট্রাক কেনা; ৫০০ বাস (৩০০ দ্বিতল ও ২০০ আর্টিকুলেটেড) কেনা; সড়ক ও জনপদ বিভাগের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা; চারটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপন; ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন; আশুগঞ্জ নৌ কনটেইনার বন্দর স্থাপন ও আশুগঞ্জ নৌবন্দর-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। এ তালিকায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আরও দুটি প্রকল্প রয়েছে।

ভারতের শর্ত মেনে এসব প্রকল্প কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা নিয়ে আগামী ২ আগস্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সভা করবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করে সেই মতামতের ভিত্তিতে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করা হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শর্ত নমনীয় করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

ভারতীয় ঋণে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এর অর্ধেকের বেশি পূর্ত বিভাগীয় নির্মাণ প্রকল্প।

উদাহরণ হিসেবে ইআরডির সূত্র বলেছে, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ২৩ কোটি ডলার দেবে ভারত। ভারতীয় ঠিকাদারকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হলে কমপক্ষে সোয়া ১৭ কোটি ডলার খরচ করতে হবে ভারতীয় মালামাল কিনে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রায় ৪৭ কিলোমিটার সড়কের পাশে মাটি, ইট, বালু, সিমেন্টের মতো উপকরণ ভারত থেকেই আনতে হবে। এমনকি শ্রমিকও আনতে হবে ভারত থেকে। কেননা, এই রাস্তা নির্মাণে যে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে, তাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের টাকা দিতেই ব্যয় হবে প্রকল্পের বাকি ২৫ শতাংশ অর্থ।

এমতাবস্থায় নতুন ২০০ কোটি ডলার ভারতীয় ঋণের আওতায় গৃহীত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় অনকেটাই থেকে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com