1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

কর্মচারীদের খুশি রেখে দলীয়করণের উদ্যোগ

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০১৫
  • ১৮ দেখা হয়েছে

140316_1

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে অনুমতি নেওয়ার বিধান রেখে ‘সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৫’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে বেশির ভাগ কর্মচারীর স্বপ্নপূরণ হলেও আইন প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন তাঁদের স্বপ্নভঙ্গের বেদনার কথা। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা যেসব বিধি-বিধান সংবলিত আইনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, সেগুলোর প্রায় সবই বাদ পড়েছে খসড়া আইনটি থেকে। আবার কিছু বিধি-বিধান আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে জটিল করা হয়েছে। যে খসড়াটি পাস হয়েছে, তা নিয়ম রক্ষার আইনে পরিণত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা। এ আইনে প্রশাসনে দলীয়করণ বাড়বে। যোগ্যরা সময়মতো পদোন্নতি পাবেন না। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৫’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

ফৌজদারি মামলায় আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে সরকারের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে সরকারের অনুমতি লাগবে। তবে আদালত অভিযোগপত্র অনুমোদন করলে আর অনুমতির প্রয়োজন হবে না। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, আইনে গ্রেপ্তার বিষয়ে বলা আছে, চার্জশিট হলে গ্রেপ্তারে কোনো সমস্যা নেই। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করার আগে যদি কাউকে গ্রেপ্তারের প্রয়োজন হয়, তাহলে সরকারের অনুমোদন লাগবে। গ্রেপ্তারের অনুমোদনের প্রয়োজন হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপরাধের অভিযোগ তদন্ত কিংবা মামলা দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান করতে পারবে বলে জানান তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আইনটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটি দুদকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। আইনে সরকারি কর্মচারীদের এমন কোনো প্রটেকশন বা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, যা সংবিধান পারমিট করে না।’

আইন প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, সংসদ খসড়া আইনের এ ধারাটি পাস করলেও উচ্চ আদালতে কী হবে, তা বলা মুশকিল। কারণ এর আগেও সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের হাত থেকে রক্ষা করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশোধনী আনা হয়েছিল, যা সংসদে পাসও হয়। কিন্তু উচ্চ আদালত পরে এ সংশোধনী বাতিল করে দেন। এর পরও আবার একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সরকারের প্রভাবশালী কর্মচারীদের চাপে।

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তার বিষয়ে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ‘কর্মচারীর দায়িত্ব পালন-সংক্রান্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ সম্পর্কে যথোপযুক্ত সংস্থা তদন্ত করিতে ও উপযুক্ত আদালতে অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন, তবে এ-সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার পূর্বে কর্মচারীকে গ্রেপ্তারের প্রয়োজন হইলে সরকারের অনুমতি লাগিবে।’

এ আইনটিকে ‘যুগান্তকারী’ উল্লেখ করে জনপ্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা মোশাররাফ বলেন, অনেক বছর ধরে আইনটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এত দিন রাষ্ট্রপতির জারি করা বিধি দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিচালিত হতো। সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদে এ আইনের কথা বলা হয়েছে।

আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় নব্বইয়ের দশকে। তখন এর নাম ছিল সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট। এ-সংক্রান্ত নানা উদ্যোগের মধ্যে ছিল ইউএনডিপির সহায়তায় প্রকল্প প্রণয়ন, বিদেশ ভ্রমণ এবং বিভাগীয় শহরে সেমিনার আয়োজন। স্টেকহোল্ডোরদের সঙ্গেও দিনের পর দিন বৈঠক হয়েছে। কিন্তু ২০১৩ সালে এসে সরকার হুট করেই সিদ্ধান্ত নেয়, সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট নয়, সরকারি কর্মচারী আইন করা হবে। সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট করলে শুধু ক্যাডার কর্মকর্তারাই অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাই সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি কর্মচারী আইনের খসড়া করা হয়। প্রাথমিক খসড়ার ভালো দিকগুলোর কিছুই নতুন খসড়ায় নেই। প্রাথমিক খসড়ায় ছিল, সরকার কাউকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারবে না। কারণ এ আইন প্রয়োগ করে কর্মচারীদের প্রতি অবিচার করা হয়। অথচ এ আইনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা প্রায় সব মামলায় সরকার হেরে যায়। সরকার ইচ্ছা করলেই সুনির্দিষ্ট কারণ বা অভিযোগ ছাড়াই একজন কর্মচারীকে বিদায় করে দিতে পারে। এ কারণে এ আইন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত কর্মচারীরা বাধ্যতামূলক অবসর বাতিল করার বিধান রেখে খসড়া তৈরি করেছিলেন। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকে যে আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে সেখানে বাধ্যতামূলক অবসরের বর্তমান নিয়মই বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সরকার চাইলে যে কাউকে অবসরে পাঠাতে পারবে।

প্রাথমিক খসড়ায় ছিল, কর্মকর্তারা প্রতিটি পদোন্নতির আগে পরীক্ষায় বসবেন। পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) নির্দিষ্ট সময় পর পর এ পরীক্ষার আয়োজন করবে। যাঁরা প্রথমবার উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হবেন, তাঁরা কমপক্ষে আরো দুইবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা অদক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত হবেন। তাঁরা যেকোনো সময় স্বেচ্ছা অবসরে যেতে পারবেন অথবা সরকারও তাঁদের অবসরে পাঠাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে অবসরসংক্রান্ত সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন তিনি। তবে অদক্ষ কর্মকর্তা চাকরি করতে ইচ্ছা পোষণ করলে তাঁকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করতে দেওয়া হবে। পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পদোন্নতি দিতে বাধ্য থাকবে সরকার। পদ শূন্য না থাকলেও পদোন্নতি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল প্রাথমিক খসড়ায়। কিন্তু গতকালের খসড়ায় এ বিধানটিও নেই। বর্তমানে পদোন্নতির জন্য কোনো পরীক্ষা দিতে হয় না। যাঁদের উচ্চপর্যায়ে লবিং আছে তাঁরাই পদোন্নতি পান। অদক্ষ কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাওয়ায় প্রশাসন দিন দিন গতিহীন হচ্ছে। পদোন্নতি পেতে হলে পরীক্ষায় বসার শর্ত থাকলে প্রকৃত মেধাবীরাই পদোন্নতি পেতেন।

মন্ত্রিপরিষদসচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা কালের কণ্ঠের এক প্রশ্নের জবাবে জানান, পদোন্নতির বিষয়টি বিধি দিয়ে নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা এবং কর্ম মূল্যায়ন-সংক্রান্ত বিধি প্রণয়ন করা হবে। আর যত দিন এ বিধি প্রণয়ন করা হবে না, তত দিন বর্তমান পদ্ধতিতেই চলবে।

এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে একজন কর্মকর্তা জানান, সরকার ইচ্ছা করলে বছরের পর বছর পার করে দিতে পারে এ-সংক্রান্ত বিধি তৈরিতে। অনেক আইন আছে, যেগুলোর বিধি নেই। বিধির অভাবে এসব আইন কার্যকর করা যায় না। প্রায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়েরই বিভিন্ন বিষয়ে আইন রয়েছে, কিন্তু বিধির অভাবে তা কার্যকর নয়।

প্রাথমিক খসড়ায় মন্ত্রণালয়গুলোর গুচ্ছায়নের বিষয়টি জায়গা পেলেও নতুন আইনে তা নেই। মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছায়ন বলতে কী বোঝায়, কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে করা। একজন কর্মকর্তা যদি একমুখী শিক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন, তাহলে তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বা তার অধিভুক্ত বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তরে পদায়ন করা হবে। তাঁকে কোনো অবস্থাতেই তাঁর অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হবে না। অথচ আমাদের দেশে দুর্যোগের ওপর বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে কৃষিতে পদায়ন নেন কর্মকর্তারা। এ ধরনের পদায়ন বন্ধ করার জন্য প্রাথমিক খসড়ায় ক্লাস্টার বা গুচ্ছায়ন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু খসড়া কর্মচারী আইনে এর জায়গা হয়নি।

সংবিধানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য আইন প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু কোনো সরকারই এ আইন প্রণয়ন করেনি। সরকারগুলো বিধি, নীতিমালা ও প্রয়োজনমতো নির্দেশনাপত্র জারি করে কর্মচারীদের পরিচালনা করছে। গত মহাজোট সরকারের সময় আইনটি করার জন্য কয়েক দফা খসড়া প্রণয়ন করা হলেও বিভিন্ন বিধান নিয়ে বিতর্ক ওঠায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি। বিশেষ করে জুনিয়র কর্মকর্তারা পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা পদ্ধতির বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ‘আমাদের সিনিয়ররা পদোন্নতি পেয়েছেন তদবির করে। আমরা কেন পরীক্ষা দিয়ে পদোন্নতি নেব? এ-সংক্রান্ত আইন করতে হলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ই জানাতে হবে।’

সরকারি কর্মচারী আইন বাস্তবায়নের জন্য ১০টি ক্ষেত্রে বিধি করার কথা বলা হয়েছে। চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা, ছুটি, পদায়ন, প্রেষণ, লিয়েনসংক্রান্ত বিধি, ক্যাডার সার্ভিসসংক্রান্ত, শৃঙ্খলা ও আচরণসংক্রান্ত, অবসর সুবিধাদি, পদত্যাগ স্বেচ্ছা অবসর ও অক্ষমতাজনিত অবসর, পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা ও কর্মমূল্যায়ন, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়েও বিধি করতে হবে। এ ছাড়া অধিকার, প্রণোদনা, মৃত্যু, অক্ষমতা ও কল্যাণমূলক বিষয়টি এবং অনগ্রসর, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ও কোটা সংরক্ষণ করার বিষয়েও বিধিমালা করতে হবে।

সরকার ইচ্ছা করলে কর্মচারীদের জন্য একটি স্থায়ী বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন করতে পারবে। সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ কর্মদক্ষতার জন্য সরকার তাঁদের পুরস্কার ও স্বীকৃতি দিতে পারবে বলেও আইনের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য এ আইন করা হলেও কিছু ক্যাটাগরির কর্মচারী এর আওতার বাইরে থাকবেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারী, প্রতিরক্ষা বিভাগের লোকজন এ আইনের আওতায় আসবেন না। প্রতিরক্ষা বিভাগের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য আলাদা আইন আছে। এ ছাড়া আলাদা আইন থাকায় রেলওয়ের কর্মচারী, সাময়িকভাবে গঠিত কোনো কমিশনের কর্মচারী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকারি কর্মচারী আইন প্রযোজ্য হবে না বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব।

গতকালের বৈঠকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অধ্যাদেশ-২০১৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আর্মি অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ও এয়ারফোর্স অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অবিহিতকরণ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচিত হয়েছে।

উৎসঃ   কালের কণ্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com