1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

কাজী জাফরের জন্য শোক

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৫
  • ৪৫ দেখা হয়েছে

মুহাম্মদ শামসুল হক শারেক :
বালাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭ টায় তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
দেশের এককালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মরহুম কাজী জাফর আহমদ। তিনি যে দলের বা মতের হউক তিনি আমাদের সম্মানিত একজন জাতীয় নেতা ছিলেন। জাতীয় নেতাদের সম্মান শ্রদ্ধ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। তিনি এখন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন পরপারে। আমি মরহুম কাজি জাফরের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমীন।
মহান আল্লাহর অকাট্য ঘোষণা ‘কুল্লু নফসিন যাইকাতুল মওত’ সকল প্রাণী অবশ্যই মৃত্যু বরণ করবে। এতে কোন হের ফের নেই। ‘ইযা যা আ আজলুহা লা ইয়াস্তাখিরুনা সায়াতুঁউ অলা ইয়াস্তাকদিমুন’। কোন প্রাণীর মুত্যু যথা সময়ে আসবে। যখন এই মৃত্যু আসবে এক মুহুর্তুও আগে পরে করা হবে না। কোন রাজা-মহারাজা, বীর-মহাবীর এই মৃত্যু থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারেনি,পারবেও না। কোন সুরক্ষিত দুর্গও মৃত্যু থেকে রেহাই দেবেনা কাউকে। আমরাও কেউই রেহাই পাব না এই মৃত্যু থেকে। আমরা সবাই একদিন চলে যাব সেই না ফেরার দেশে।
মরহুম কাজী জাফরের সাথে ছোট্ট একটি স্মৃতি আছে আমার। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মাঝামাঝি সময়ে তিনি একবার কক্সবাজার এসেছিলেন। ওই সময় হোটেল সীপ্যালেসে তাঁর একটি সাক্ষাতকার নিয়েছিলাম আমি। তখন দৈনিক হিমছড়ি সম্পাদনা করতাম আমি। তিনি আমার পরিচয় পেয়ে বললেন, এই সাক্ষাতকার ইনকিলাবের জন্য নয়। স্থানীয় কাগজে ছাপা যাবে। বললেন ইনকিলাবে তিনি আরো বড় সাক্ষাতকার দেবেন। সেই কমিটমেন্টেই সাক্ষাতকারটি নিয়েছিলাম আমি। সমাজ সেবক মহেশখালীর মুহিববুল্লাহ ভাই জাতীয় পার্টির কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর সেই ঐতিহাসিক সাক্ষতকারের মূল কথা ছিল ‘রাজনীতিতে ওভার মেজরিটি একটি বিপদ সংকেত। বিএনপি-জামায়াতের ৪দলীয় জোট সরকার তখন যাচ্ছে তাই করছিল ওভার মেজরিটির কারণে।একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবদি হিসেবে তিনি বলেছিলেন ‘ওভার মেজরিটি ইজ এ রেড সিগন্যাল। টু থার্ড মেজরিটি ইজ নাম্বার টেন ডেনজারাস সিগনাল’।তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন নির্বাচনী রাজনীতিতে কোন দলের জন্য দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা ১০ নং মহাবিপদ সংকেত। তিনি আরো বলেছিলেন অতীতে উপমহাদেশের কোন রাজনৈতিক দল এভাবে সংখ্রাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পর পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে পেরেছে এমন নজির নেই।তখন তিনি আরো বলেছিলেন দেশের রাজনীতিতে মিরাকল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। বাস্তবে ঘটেছেও এরকম কিছু।
সেই রাজনৈতিক মিরাকলের মধ্য দিয়ে ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২য় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরকার গঠন করেন। ওই সরকারের মাঝামাঝি সময়ে কাজি জাফরের কক্সবাজার সফরকালে হিলটপ সার্কিট হাউজে আমি তাঁর সাথে সাক্ষাত করে তাঁর আরো একটি ইন্টারভিউ নিই। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ব্যাপারে তাঁর সেই মন্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমি জানতে চাইলাম এখন কি মনে করেন। তিনি বলেছিলেন ‘এটা আরো বিপদজনক’।যাক রাজনীতিবিদরা তো জোতির্বিদ নয়। তাদের সব মন্তব্য যথাযথ নাও হতে পারে।তিনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই।তাঁর কোন মন্তব্যও আমরা আর পাব না। আমি তাঁকে স্মরণ করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর ভাল কাজগুলো কবুল করুন। আর গুনাহ এবং ভুর-ক্রুটি গুলো ক্ষমা করে দিন।
জানাগেছে,১৯৩৯ সালের ১ জুলাই কুমিল্লার বিখ্যাত চিওড়া কাজী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন কাজী জাফর আহমদ। মেধাবী ছাত্র হিসেবে কাজী জাফর আহমদ খুলনা জেলা স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। পরবর্তীকালে রাজশাহী সরকাররি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. অনার্স ও এম.এ. (ইতিহাস) পাশ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম.এ. এবং এল.এল.বি. কোর্স সম্পন্ন করা স্বত্ত্বেও কারাগারে চলে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কাজী জাফর আহমদ ১৯৫৯-১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ১৯৬২-১৯৬৩ সালে অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (এপসু) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন ও শরীফ শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে কাজী জাফর আহমদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র জীবন শেষে কাজী জাফর আহমদ শ্রমিক রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন।
১৯৭২-১৯৭৪ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তখন ছিলেন ন্যাপের চেয়ারম্যান। এরপর ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনাইটেড পিপলস্ পার্টির (ইউপিপি) প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে চেয়ারম্যান হিসেবে সক্রিয় ভাবে পার্টির সাংগঠনিক দায়িত্ব ও জাতীয় রাজনীতিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পরিষদের শিক্ষামন্ত্রী হন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির জন্মলগ্ন থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬-১৯৯০ সালে তিনি জাতীয় পার্টির সরকারে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বন্দর-জাহাজ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক উপদেষ্টা, ১৯৮৯-১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের উপনেতা ও ১৯৮৯-১৯৯০ সালে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা ছিলেন। ১৯৮৬-১৯৯৬ পর্যন্ত পরপর তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ দিন যাবত কাজী জাফর আহমদ অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭ টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com