1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

কারাগারে প্রবীর সিকদার, রিমান্ড শুনানি মঙ্গলবার

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৩ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক :
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে (আইসিটি) ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় কোতোয়ালি থানা থেকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতে হাজির করা হয় প্রবীর সিকদারকে। তাকে দশদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান।
শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালতের বিচারক হামিদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালত প্রাঙ্গণে ফরিদপুরের সাংবাদিক এবং প্রবীর সিকদারের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিরাজুর রহমান ও কোর্ট পরিদর্শক এনায়েত হোসেন জানান, সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। রিমান্ডের শুনানি  হবে মঙ্গলবার।
প্রবীর সিকদারের ভাই সুবির সিকদার বলেন, আমার বাবাসহ পরিবারের ১৪ স্বজন একাত্তরে শহীদ হয়েছেন। দাদা এর আগে সন্ত্রাসী হামলায় পা হারিয়েছেন। এরকম একজন সাংবাদিকের প্রতি এ আচরণ আমানবিক ও দুঃজনক।
এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়।
প্রবীর সিকদার নিউজপোর্টাল উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ, বাংলা দৈনিক বাংলা ৭১ এবং উত্তরাধিকার নামের ত্রৈমাসিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পত্রিকাগুলোর কার্যালয়।
ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ নেতা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা এপিপি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার পাল রোববার বিকেলে ওই মামলা করেন। রাতে প্রবীর সিকদারকে তার রাজধানীর ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
লিখিত এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ১০ আগস্ট বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ‘আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’ শিরোনামে জনসমক্ষে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। এই পোস্টটি পড়ে আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, উক্ত প্রবীর সিকদার ইচ্ছাকৃতভাবে গণমানুষের প্রিয় নেতা মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি সম্পর্কে মিথ্যা অসত্য লেখা লিখে সেটি তার নিজস্ব ফেসবুকে পোস্ট করে মাননীয় মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন এবং উক্ত লেখাটি জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে উস্কানি প্রদান করে শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। এর ফলে মাননীয় মন্ত্রীর মানহানি ঘটেছে। যা একটি ফৌজদারি অপরাধ।
মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে প্রবীর সিকদার বলেন- তার মৃত্যু হলে স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার দায়ী থাকবেন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কবির বলেন, ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে আইসিটি আইনের ৫৭ (২) ধারায়  মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ওই মামলায় প্রবীর সিকদারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
যদিও বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারনেট নিউজপেপার দাবিদার একটি অনলাইনে প্রবীর সিকদারের গ্রেফতারের পেছনে অন্য কারণ আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে ব্যর্থ হয়ে প্রবীর সিকদার ওই স্ট্যাটাস দেন।
ওই স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের পর রোববার সন্ধ্যায় প্রবীর সিকদারকে নিয়ে যান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তার ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে শেরেবাংলানগর থানা পুলিশের একটি দল প্রবীর সিকদারকে নিয়ে যায়। পরে তাকে মিন্টো রোডে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, প্রবীর সিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে গোয়েন্দা বিভাগ জানায়, গ্রেফতারের পর প্রবীর সিকদারকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তথ্য প্রযুক্তি আইনে সুনির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে প্রবীর সিকদারকে ঢাকা পুলিশ গ্রেফতার করে। আমরা সোমবার সকালে প্রবীর সিকদারকে বুঝে নেই।
সাংবাদিক প্রবীর সিকদার মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তান। তার বাবাসহ পরিবারের ১৪ জন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শহীদ হয়েছিলেন। দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুরের নিজস্ব সংবাদদাতা থাকাকালে পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সেই রাজাকার’ কলামে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুসা বিন শমসেরের বিতর্কিত ভূমিকার বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। এরপর ২০০১ সালের ২০ এপ্রিল সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন। বর্তমানে একটি পা হারিয়ে পঙ্গু জীবন যাপন করছেন তিনি।
ফরিদপুরের কানাইপুরের ঐতিহ্যবাহী জমিদার সিকদার বাড়ির সন্তান প্রবীর সিকদার দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুরের নিজস্ব সংবাদদাতা ও পরে পদোন্নতি পেয়ে স্টাফ রিপোর্টার পদে কর্মরত ছিলেন দীর্ঘদিন। পরে ঢাকায় এসে দৈনিক সমকাল ও দৈনিক কালের কণ্ঠে কাজ করেছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com