1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

কোমেনের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি : বাড়ি ফিরছে মানুষ

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫
  • ৭০ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো :
ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক কেটে গেলেও কক্সবাজারের জনজীবন এখনো স্বাভাবিক হয়নি। জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের নতুন করে দুর্ভোগে ফেলেছে টানা বৃষ্টিপাত ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ারের পানির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে।জেলার সমুদ্র সৈকত লাগোয়া ঝাউগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল জোয়ারের কারণে সৈকতের বালু ও মাটি ধুয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে।এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে জেলার উপকূলীয় এলাকার ঘরবাড়ির পাশাপাশি হাজার হাজার গাছপালা, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এ কারণে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যূৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।উপকূল রক্ষাকারী বেড়িবাঁধ ভেঙে পাঁচ শতাধিক চিংড়ি ও মাছের ঘের বিলীন হয়ে গেছে। জেলার মহেশখালীতে ২৩টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।এ সময় ৫০টি কাঁচাবাড়ির দেয়াল ধ্বসে পড়ে। আর জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে দুই শতাধিক চিংড়ি ঘেরের মাছ।এ ছাড়া চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় চারটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ১১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন লন্ডভন্ড হয়। নাফ নদীর বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে উপজেলার ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়।এদিকে দুর্যোগ মোকাবেলায় কক্সবাজারে প্রশাসনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও উপকূলীয় এলাকা থেকে জনসাধারণকে সরিয়ে নেওয়ায় ঝড়ো হতাহতের সংখ্যা এখনও তুলনামূলকভাবে কম। কোমেনের আঘাত শুরুর পরে গাছ চাপা পড়ে ও ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে বিভিন্ন স্থানে ৪ ব্যক্তির মৃত্যূর খবর জানা গেছে।এদিকে ঘূর্ণিঝড় কোমেনের আতঙ্ক কাটার পর বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা উপকূলীয় এলাকার মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার ২৮৮টি আশ্রয় কেন্দ্র থেকে দলে দলে মানুষ ফিরে যাচ্ছে।কক্সবাজার শহরের উপকূলীয় এলাকা নাজিরারটেক,ফদনার ডেইল, সমিতি পাড়া ও কুতুবদিয়া পাড়ার ১০ হাজার মানুষ বাড়ি ফিরছে।তবে টানা বৃষ্টির কারণে শাকসবজি, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মাছ থেকে শুরু করে প্রতিটি শাকসবজির দাম নেয়া হচ্ছে দ্বিগুন।
কক্সবাজার জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন,‘কোমেন’-এর প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ায় কক্সবাজারে ৫ হাজার ৭০০ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং আরও ১৬ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, কোমেন এর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেন্টমার্টিনে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় গাছ চাপা পড়ে মোহাম্মদ ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।তিনি আরো বলেন, জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। হারিয়ে গেছে ২টি ফিশিং ট্রলার, একটি সার্ভিস বোট, ছোট বড় ৮টি নৌকা ডুবে গেছে। উড়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ির চালা। সব মিলে অন্তত আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মহেশখালীর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কোমেন এর আঘাতে দ্বীপের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে গেছে।২৩টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।কাঁচাবাড়ির দেয়াল ধসে পড়ে  হুমাইরা বেগম (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যূ হয়েছে। আর জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে দুই শতাধিক চিংড়ি ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, ঘুর্ণিঝড় কোমন পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধি ও সিপিটি স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্যরা দুইদিন ধরে উপজেলার উপকুলীয় জনপদে কাজ করেছে। ফলে উপকুলের বেশির ভাগ মানুষ আগে থেকে সাইক্লোন সেল্টার গুলোতে নিরপদে আশ্রয়েথোকায় জানমালের তেমন ক্ষতি হয়নি।কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান,রাত থেকে কোমেন বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত কমিয়ে ৩ নম্বর  সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।তবে ঝড়ের প্রভাবে সাগর এখনও উত্তাল। ফলে সব ধরনের মাছ ধরা যানের সাগরে নামার ওপরে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।এদিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার সাধন কুমার মোহন্ত জানান,ঘূর্ণিঝড় কোমেন উপকূল অতিক্রম করায় এবং বিপদ সংকেত নামিয়ে ফেলার কারণে আবারো সচল করা হয়েছে বিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম।কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জানান,আগাম প্রস্তুতি থাকায় ঘূর্ণিঝড় কোমেন এর আঘাতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যেখানে ক্ষতি হয়েছে সেখানে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত হয়েছে।আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষদেরকেও পর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে লোকজন বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তাদের বাড়ি যেতে গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com