1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

কোরবানির মাঠ সঙ্কুচিত করার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৫
  • ৫৯ দেখা হয়েছে

আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় যেখানে-সেখানে পশু কোরবানি বন্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তৎপর রয়েছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও মসজিদ-মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। কোরবানির পশুর চামড়া মসজিদ-মাদ্রাসার আয়ের একটি বড় উৎস। একই স্থানে অনেক পশু জবাই হলে সব চামড়া প্রভাবশালীদের দখলে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের। ফলে মসজিদ-মাদ্রাসাগুলো আর্থিক সংকটে পড়বে বলে মনে করছে এসব দল ও সংগঠন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে দলগুলো আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

গত ৬ আগস্ট সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ঈদুল আজহায় রাস্তা,গলিসহ যত্রতত্র পশু জবাই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে দেশের ৩২৩ পৌরসভা ও ১১ সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুসারে, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনও এলাকার অধিবাসীরা কোরবানির পশু একটি স্থানে জড়ো করে জবাই করতে পারবেন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা ইমাম ও কসাইদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে অনেক পশু জবাই হলে নগর বা পৌর কর্তৃপক্ষের বর্জ্য সরাতে সুবিধা হবে বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া চামড়া বেচাকেনায়ও এতে সুবিধা হবে।

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সূত্র জানায়,সরকার নিজে থেকেই এ সিদ্ধান্ত বাতিল করবে বলে আশা তাদের। সরকার সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে আন্দোলনে যাবে দলগুলো। এক্ষেত্রে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের কথাও ভাবা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সরকারের সিদ্ধান্ত পছন্দ করছে না, ফলে আন্দোলনে জনসমর্থন থাকবে বলে ধারণা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের।

এ সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম। এর সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন,‘ইতোপূর্বে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী কোরবানির ঐতিহ্যবিরোধী কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রতি। আমরা আশা করছি, সরকার ইসলামি চেতনাবোধ ধ্বংসের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকবে। সাধারণ মানুষ নিজে থেকেই এ সিদ্ধান্ত মানবে না। প্রয়োজনে আন্দোলন করে প্রতিহত করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ও সম্মিলিত ইসলামি দলসমূহের সদস্য সচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, ‘বর্জ্য পরিষ্কারে সিটি করপোরেশন জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ না নিয়ে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেওয়ার নির্দেশে মানুষের কষ্ট বাড়বে। ঢাকাসহ দেশের পৌরসভাগুলোয় পর্যাপ্ত উন্মুক্ত জায়গা নেই। ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। কোরবানির গোশত গরীবদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করাও সম্ভব হবে না। শুধু তাই নয়, গোশত ও চামড়া নিয়ে লুটপাটেরও আশঙ্কাও রয়েছে। এতে মাদ্রাসার এতিম ও গরীবদের হক নষ্ট হবে।’

আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি মহল দীর্ঘদিন থেকে মুসলমানের কোরবানির রীতি নিয়ে চক্রান্ত করছে। পশুপ্রেমের নামে মুসলমানদের ধর্মীয় নিদর্শনের বিরুদ্ধে কথা বললেও মদ-জুয়া, যাত্রাপালা নিয়ে কথা বলে না এই তথাকথিত সুশীল সমাজ। ইসলাম বিদ্বেষী কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত মুসলমানরা মেনে নেবে না। আশা করছি সরকার তা বাতিল করবে। যেকোনও মূল্যে এ সিদ্ধান্ত প্রতিহত করা হবে’।

ঘরে ঘরে কোরবানি দেওয়ার হাজার বছরের ঐতিহ্যকে ধংসের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মনে করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড.আহমদ আবদুল কাদের। তিনি বলেন,‘সরকারের দায়িত্ব মুসলমান নাগরিকদের কোরবানির কাজে সহায়তা করা। ঈদে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। তা না করে সরকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে সরকার সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে ।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত বলেন, ‘ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পবিত্র কোরবানি নিয়ে চক্রান্ত হচ্ছে। ইতোপূর্বে কোরবানির জন্য পরিবেশ দূষণ হয়নি। হঠাৎ করে পরিবেশ নষ্টের অজুহাত কেন তোলা হলো তাও ভাবতে হবে। কোরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করা সুন্নত। কেউ না পারলে সামনে থেকে অন্য কাউকে দিয়ে জবেহ করাবে এটা ইসলামের নিয়ম। এই নিয়মের বিরোধিতা করে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে ঈমানদার জনতা রুখে দাঁড়াবে। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে মুসলমানরা জীবন দিয়ে রুখবে। ইসলামী আন্দোলন জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবে।’

উৎসঃ   বাংলা ট্রিবিউন

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com