1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

খাদ্য গুদাম থেকে পাচারকালে জব্দকৃত ট্রাক ভর্তি চাল ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৪৬ দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজার সদর খাদ্য গুদাম থেকে চুরি করে পাচারকালে ১২০ বস্তা সরকারী চালসহ ট্রাক (চট্রমেট্রো-ড-১১০৪৩০) জব্দের ঘটনায় কোন মামলা না করেই গভীর রাতে তা ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর ঘটনা জেনে বৃহস্পতিবার দুপুরে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন।
গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার সদর খাদ্য  গুদাম থেকে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা থোয়াই অং প্রু মার্মা এর যোগসাজসে এক ট্রাক চাল পাচার করে শহরের আলিরজাহাল এলাকার আমির হামজা রাইচ এজেন্সী’র গুদামে খালাস করার গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার এএসআই খোরশেদ আলম। ওই সময় আমির হামজা সওদাগর, তার ম্যানেজার সরওয়ার ও চাল বিক্রেতা সাগর বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তিনি ট্রাকসহ চাল জব্দ করেন। পরে সদর থানার এসআই মানষ বড়–য়া ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি ১২০ বস্তা খাদ্য অধিদপ্তরের সীলমোহরযুক্ত চালের বস্তা ও ট্রাক জব্দ করেন এবং জব্দ তালিকা তৈরী করেন। ওই সময় চাল পাচারকারী সাগর জব্দকৃত চাল আনসার ভিডিপি’র সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত বলে গত ৮ নভেম্বরের একটি আনসারের কাগজ উপস্থাপন করেন। উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা যাচাই করার জন্য কক্সবাজার সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহ জামালকে ঘটনাস্থলে পাঠান। কিন্তু তিনি এসব চাল আনসারের বলে দাবী করলেও খাদ্য গুদাম থেকে কোন চালান ছাড়া তা কিভাবে বাইরে আসলো তা জানাতে পারেননি। এমন সময় সেখানে কক্সবাজার সদর উপজেলা আনসার কমান্ডার গাজী রফিক উপস্থিত হয়ে এসব চাল তাদের নয় উল্লেখ করলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহ জামাল। এর পরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম চাল জব্দের ঘটনায় মামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু মামলা না করেই ট্রাকসহ এসব সরকারী চাল গভীর রাতে ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে।
জব্দ তালিকায় স্বাক্ষী হিসেবে থাকা কক্সবাজার সচেতন নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘বুধবার সকাল ১০ টায় ট্রাকসহ চাল জব্দ করা হলেও বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ৩০ ঘন্টায়ও কোন মামলা করা হয়নি। এমনকি জব্দকৃত চাল ও ট্রাক গভীর রাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ এবং পুলিশ সুপারকে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, ‘জব্দকৃত চালের বিষয়ে কেউ এখনো কোন মামলা দায়ের করেনি। তাই মামলাও হয়নি।’ তবে চাল ও ট্রাক ছেড়ে দেয়া হয়নি বরং ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে দাবী করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু কেন মামলা করা হয়নি তা আমার জানা নেই। চাল ছেড়ে দেয়ার বিষয়েও আমি কিছু জানিনা।’
আনসার ভিডিপি’র কক্সবাজার সদর উপজেলা কমান্ডার গাজী রফিক উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি- যে কাগজ তারা দেখাচ্ছে তা অনেক পুরনো। জব্দকৃত এসব চাল আনসারের নয়। যার কারণে এর দায়িত্বও আমরা নিতে পারিনা। বিষয়টি আমি সদর থানার ওসি এবং ইউএনওকে অবহিত করেছি।’
আনসার ভিডিপি’র কক্সবাজার জেলা কমান্ড্যান্ট ইব্রাহিম ভূঁইয়া বলেন, ‘জব্দকৃত চাল আনসারের নয়। এর দায়-দায়িত্বও কেন আমরা নিব।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেন, ‘জব্দকৃত চাল ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। জব্দকৃত এসব সরকারী চাল কিভাবে ছেড়ে দেয়া হলো তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইউএনও সদরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com