1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

খালেদার জন্মদিন: যেভাবে বদলে যাচ্ছে মিডিয়ার ভাষা

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৫
  • ২৩ দেখা হয়েছে

শিশির আব্দুল্লাহ

বাংলাদেশে একদলীয় সরকারের ক্ষমতা যত সংহত হচ্ছে এবং একই সাথে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দিন দিন যতই দুর্বল হচ্ছে, এখানকার মিডিয়ার আচরণ ততো সরকারের অনুকূলে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়ান হচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে মিডিয়ার কভারেজ পর্যবেক্ষণ করলে এ দাবির যথার্থতা প্রমাণ করা সম্ভব। তবে আমি এখানে শুধু একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছোট্ট আকারে দাবিটি যাচাই করে দেখার চেষ্টা করবো।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা আলোচনা আছে, এবং সেটা বেশ পুরোনো। আলোচনাটা অভিযোগ আকারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই তোলা। বিএনপি সেটা স্বাভাবিকভাবেই অস্বীকার করে আসছে। এতদিন এই অভিযোগ-অস্বীকারের বিষয়টি ‘রাজনৈতিক’ রূপেই বর্তমান ছিল। মূলধারার গণমাধ্যমে এসব প্রকাশিত হলেও ‘নেতাদের বক্তব্য’ আকারে হতো। গণমাধ্যমের নিজের কোনো বক্তব্য তাতে ছিল না।

কিন্তু বর্তমানে গণমাধ্যম এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগের বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রয়াস চালাচ্ছে সেটি লক্ষ্যণীয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই প্রবণতা শুরু হয়েছে ২০১৪ সাল থেকে। কাকতালীয়ভাবে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়। ‘নামকাওয়াস্তে’ আয়োজিত একটি একদলীয় নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পূনরায় গদিতে বসে। একই সাথে রাষ্ট্রীয় মেকানিজম ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলোকে হীনবল করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। একই সাথে বিরোধীদলীয় নেতা-নেত্রী এবং সরকারের কোনো কোনো নীতির ব্যাপারে সীমিত আকারে সমালোচনামূখর গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভাষায় আক্রমণ চালাতে থাকেন ক্ষমতাসীনরা।

রাষ্ট্রীয় এবং দলীয় পেশিশক্তি-নির্ভর সরকার ক্রমশ আগ্রাসী হয়ে উঠার সাথে সাথে গণমাধ্যমের আচরণেও পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এই পরিবর্তন মূলত বিভিন্ন ইস্যুতে ক্ষমতাসীনদের অনুকূলে এবং বিরোধী দলগুলোর প্রতিকূলে যাচ্ছে।

খালেদা জিয়ার জন্মদিনটিকে ইস্যু ধরে এ নিয়ে জাতীয় তিনটি প্রধান দৈনিকের রিপোর্টিংয়ের ভাষা এবং তথ্যের উপস্থাপনা বিশ্লেষণেও একই রকম পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। পত্রিকা তিনটি হচ্ছে, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক সমকাল এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ। ২০১৫ সাল থেকে পেছনের দিকে ২০১০ সাল (কোনোটি ২০১১) পর্যন্ত প্রতি বছরের ১৫ আগস্টে খালেদার জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রকাশিত সংবাদগুলোকে নমুনা হিসেবে নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রিপোর্টগুলোর ভাষা ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ছিল একরকম। আর ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের রিপোর্টগুলোর ভাষা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন।

প্রথমে দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্টগুলো তুলে ধরা যাক। নিচে ২০১৩ থেকে পেছনের দিকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটির এ সংক্রান্ত শিরোনামগুলো দেয়া হল–

খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ- ২০১৩

খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ- ২০১২

খালেদা জিয়ার আজ ৬৭তম জন্মদিন- ২০১১

খালেদা জিয়ার ৬৬তম জন্মদিন আজ ২০১০

এই সংবাদগুলোর ভেতরটা কেমন ছিল তা একটি পড়লেই বুঝা যাবে। তাই চারটির মধ্যে শব্দ সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত রিপোর্টটি হুবহু কপি করে দেয়া হল–

শিরোনাম: “খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ”

নিজস্ব প্রতিবেদক

“বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৬৮তম জন্মবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ১৯৪৫ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রতিবছর খালেদা জিয়া রাত ১২টা এক মিনিটে গুলশান কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করেন। দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের কারণে এবার এই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা কেক কেটে দলের চেয়ারপারসনের জন্মদিন পালন করবেন।” (লিংক- click here)

লক্ষ্য করুন, প্রতিবেদনটিতে একজন ব্যক্তির জন্মদিনের খবর পরিবেশন করতে গেলে খুবই সাধারণ যেসব তথ্য লাগে তার বাইরে কিছুই নেই। এটি পড়ে বুঝার উপায় নেই যে, খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে কোনো ‘বিতর্ক’ আছে।

যাচাই করা বছরগুলোর মধ্যে এর আগেরগুলোর (২০১২, ২০১১ ও ২০১০) প্রতিবেদনসমুহও একই ধরনের। কোনো ‘বিতর্ক’র কথা সেগুলোতে নেই।

কিন্তু ২০১৪ সালে এসে হঠাৎ করে প্রথম আলোর প্রতিবেদনের ভাষা পরিবর্তিত হয়ে যায়! দেখুন ওই বছর খালেদার জন্মদিন নিয়ে পত্রিকাটির সংবাদটি এবং সেটির শিরোনাম–

শিরোনাম: “আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন করছে বিএনপি”

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ১৫ আগস্ট দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন করছে বিএনপি। ১৯৪৫ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। খালেদা জিয়ার এই জন্মদিন নিয়ে দেশের রাজনৈতকি অঙ্গনে বিতর্ক আছে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করতে খালেদা জিয়া ও বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

অন্যান্যবারের মতো এবারও রাত ১২টা এক মিনিটে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়। আজ সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেক কেটে দিনটি উদ্যাপন করবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

বগুড়া জেলা বিএনপি আজ ‘খালেদা জিয়ার জন্মোৎসব’ উদ্যাপন করবে। বগুড়া শহরের হোটেল নাজ গার্ডেনে এ ‘উৎসবে’ প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জেলা বিএনপি এ উপলক্ষে বগুড়ার বিভিন্ন জায়গায় ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জন্মোৎসবের পোস্টারও সাঁটিয়েছে।(সমাপ্ত)।

পরিবর্তন খুবই স্পষ্ট। আগের বছরগুলোতে ব্যবহৃত “খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ” শিরোনামটি থেকে ২০১৪ সালে এসে হয়ে গেছে- “আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন করছে বিএনপি”। অর্থাৎ, খালেদার জন্মদিন ‘আজ’ কিনা, সেটা প্রথম আলো অস্পষ্ট রাখছে। জন্মদিন যে কোনো দিন হতে পারে, তবে ‘বিএনপি তা আজ পালন করছে’।

এরপর খবরের ইন্ট্রোতেই বলে দেয়া হয়েছে, “এই জন্মদিন নিয়ে দেশের রাজনৈতকি অঙ্গনে বিতর্ক আছে”। ‘বিতর্ক’র ব্যাপারটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পরে এ বিষয়ে আরো তথ্য দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ, বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জন্মদিনের অনুষ্ঠানের তথ্য দিতে গিয়ে উর্ধ্বকমা ব্যবহার করা হয়েছে (‘খালেদা জিয়ার জন্মোৎসব’)। এর মানে, ‘খালেদা জিয়ার জন্মোৎসব’ বাক্যাংশটি বিএনপির বক্তব্য, প্রথম আলোর নিজস্ব বক্তব্য নয়।

এবার, অর্থাৎ ২০১৫ সালে, এসে ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়া তার জন্মদিন উদযাপন করবেন কিনা তা নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়। সরকারি দলের নেতাদের নিষেধ ও হুমকির প্রেক্ষিতে এই কানাঘুষা। আবার জন্মদিনের আগের দিন ১৪ আগস্ট শুক্রবার হওয়ায় খালেদা জিয়া তার রুটিন অনুযায়ী ওইদিন গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অফিস করেননি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ১৫ আগস্ট শুরু প্রথম প্রহরে (১৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট) অন্যান্যবারের মতো নিজের কার্যালয়ে দলীয়ভাবে জন্মদিনের কেক কাটতে পারেননি। তবে প্রথম প্রহরেই তার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ৭০তম জন্মদিনের কেক কাটেন বেগম জিয়া।

কিন্তু ১৫ আগস্ট প্রথম আলোর নগর সংস্করণে, যেটি আগের গভীর রাতের ঘটনাবলীও কভার করে, সংবাদ ছাপা হয়, “১৫ আগস্টের প্রথম ক্ষণে কেক কাটেননি খালেদা”। এই সংবাদটির ভেতরে জন্মদিন নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে লেখা হয়–

“১৯৯৬ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে খালেদা জিয়া নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করা শুরু করেন। তবে ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকারিভাবে গণমাধ্যমে তাঁর যে জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো হয়েছিল, তা পরদিন পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়। তাতে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।”

এর আগে ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে “কেক কাটেননি খালেদা জিয়া” শিরোনামে একটি খবর পত্রিকাটির অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। সেই প্রতিবেদনের মূল উপজীব্য ছিল জন্মদিনকে ঘিরে থাকা বিতর্ক।

অবশ্য, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে খালেদা জিয়া একাধিক কেক কাটার যে সংবাদ প্রথম আলো ১৬ আগস্ট প্রিন্ট সংস্করণে (২য় পৃষ্ঠায়) প্রকাশ করেছে সেটিতে ‘বিতর্ক’ নিয়ে কোনো কথাই নেই। এই সংবাদটির শিরোনাম ছিল- ‘৭০তম জন্মদিনের কেক কাটলেন খালেদা জিয়া”।

২.

এবার আসা যাক দৈনিক সমকাল প্রসঙ্গে।

পত্রিকাটির ২০১০ সালের কোনো সংবাদ ওয়েবসাইটের আর্কাইভে না থাকায় ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত প্রতি ১৫ আগস্টে প্রকাশিত সংবাদগুলো যাচাই করার সুযোগ হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সমকালের সংবাদ শিরোনাম এবং সংবাদের বডি একরকম ছিল। এবং ২০১৪ এবং ২০১৫- ছিল ভিন্ন রকম। যেমন শিরোনাম–

২০১১- “খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ”

২০১২- “আজ খালেদা জিয়ার ৬৭তম জন্মবার্ষিকী”

২০১৩- “আজ খালেদা জিয়ার ৬৮তম জন্মবার্ষিকী”

এই তিন বছরের কোনো প্রতিবেদনের ইন্ট্রোতে ‘বিতর্ক’র কোনো আলাপ নেই। তবে প্রতিটি প্রতিবেদনের মধ্যখানে বা শেষের দিকে কোথাও এক/দুই বাক্যে ‘বিতর্ক’ সংক্রান্ত তথ্যটি হাজির থাকতো। যেমন ২০১৩ সালের ১৫ আগস্টের ৩০৫ শব্দের প্রতিবেদনটিতে ২০ শব্দের এই দুটি বাক্য জুড়ে দেয়া ছিল– “১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্ম বলে দাবি করে আসছে বিএনপি। অবশ্য আজ তার এ জন্মদিন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।”

অন্যদিকে, ২০১৪ সাল থেকে এই চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে।

২০১৪ সালের শিরোনাম- “আজ খালেদা জিয়ার ‘জন্মদিন’ পালন করবে বিএনপি”

২০১৫ সালের শিরোনাম- “আজ খালেদা জিয়ার ‘জন্মদিন’ পালন করবে বিএনপি”

আগের বছরগুলোতে শিরোনামে ‘জন্মদিন/জন্মবার্ষিকী’ শব্দদ্বয় উর্ধ্বকমার ভেতরে না থাকলেও ২০১৪ থেকে তা শুরু হল। আর সরাসরি “খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ” এর বদলে শিরোনামে যোগ হল ‘পালন করবে বিএনপি’ শব্দগুচ্ছ। অর্থাৎ, প্রথম আলো আর সমকালের টেকনিক একই!

২০১৪ সালের সংবাদটির ইন্ট্রো এরকম–

“বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৬৯তম ‘জন্মদিন’ আজ। বিএনপিসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এবারও এ দিনটি উপলক্ষে কেক কাটা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্ম বলে দাবি করে আসছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে বছরের পর বছর বিতর্ক চলছে। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত দিবসে জন্মদিনের নামে আনন্দ-উৎসব থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি।”

অর্থাৎ, আগের বছরগুলোতে সাধারণ জন্মদিনের খবরের মতো ইন্ট্রো লেখা হলেও ‘১৪- তে এসে ‘বিতর্ক’ যোগ হল। প্রথম বাক্যেই ‘জন্মদিন’ শব্দে উর্ধ্বকমা যুক্ত হল। ৬৪ শব্দের দীর্ঘ ইন্ট্রোর প্রায় পুরোটাতেই খালেদার জন্মদিন বিতর্কবিদ্ধ। ভেতরেও ৪১০ শব্দের প্রতিবেদনের বেশিরভাগ ‘বিতর্ক’ নিয়ে আলোচনা।

২০১৫ সালের সংবাদটি শুরু হয়েছে এরকম–

“রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার মধ্যে আজ জাতীয় শোক দিবসে ‘সীমিত পরিসরে’ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৭০তম ‘জন্মদিন’ পালন করবে বিএনপি।” ভেতরেও এ নিয়ে বিস্তারিত আলাপ আছে।

৩.

নমুনা হিসেবে নেয়া তৃতীয় পত্রিকাটি দৈনিক কালের কণ্ঠ। তুলনামূলকভাবে এটির রিপোর্টিংয়ের ভাষা আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে কিছুটা নমনীভাবে পরিবর্তন হয়েছে। পত্রিকাটির ভাষার বিবর্তন সংক্ষিপ্তভাবে দেখবো।

২০১১ সালের ১৫ আগস্ট কালের কণ্ঠের এ সংক্রান্ত সংবাদটির শিরোনাম ছিল ‘৬৭তম জন্মদিনের কেক কাটলেন খালেদা’। রিপোর্টটিতে জন্মদিন নিয়ে বিতর্ক সংক্রান্ত একটি শব্দও নেই!

২০১২ সালের প্রতিবেদনটিতেও ‘বিতর্ক’ নিয়ে কোনো শব্দ নেই। সেই প্রতিবেদনের শিরোনাম- “৬৭ তম জন্মবার্ষিকী: কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিনের কর্মসূচী শুরু”।

২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কাটেননি খালেদা জিয়া। এটিকে ইঙ্গিত করে ‘নতুন ধারার রাজনীতি’র চর্চা বলে আখ্যায়িত করে কালের কণ্ঠ। পক্ষোভাবে এর মাধ্যমে জন্মদিন নিয়ে বিতর্কটিকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু সরাসরি কোথাও এর কথা উল্লেখ নেই। এ বছরের সংবাদটির শিরোনাম ছিল- “খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন হচ্ছে আজ: নিজে কেক কাটলেন না”।

২০১৪-তে এসে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে প্রথম আলো এবং সমকালের মতো নাটকীয় পরিবর্তন আসেনি, তবে ‘বিতর্ক’র বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে। একইরকমভাবে ২০১৫ সালের প্রতিবেদনেও বিতর্কের কথা পরোক্ষভাবে ছিল। কিন্তু ‘১৩ সালের আগের মতো করে যেভাবে খালেদার জন্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দুই/একটি প্যারা থাকতো তেমন কিছুই ছিল না। যেমন- ২০১৩ সালের প্রতিবেদনে আছে–

“খালেদা জিয়া ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে ১৯৪৫ সালের এই দিনে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে পুতুল নামে ডাকেন। তাঁর বাবা এস্কান্দার মজুমদার ও মা বেগম তৈয়বা মজুমদার।”

সম্ভবত, কালের কণ্ঠ “১৯৪৫ সালের এই দিনে” কথাটি সরাসরি বলে ক্ষমতাসীনদের বিরাগভাজন হওয়া থেকে বাঁচতে পুরো প্যারাটিকেই এড়িয়ে গেছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com