1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

ঘরে ফিরতে শুরু করেছ উপকুলকাসী

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫
  • ৩৫ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো :
কক্সবাজারে কোমেন আতঙ্ক কেটে গেছে।  রাতের ব্যবধানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। ভোর থেকে লোকজন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে চারিদিক ভেসে উঠছে ধ্বংসস্তুপ। রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ, ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিধস্ত ঘরবাড়ি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। মাটির সাথে মিশে যাওয়া ঘরবাড়ি মেরামত করতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। শুকনো খাবার ছাড়া এখনও পর্যন্ত কোন সরকারী সহায়তা পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে দেয়া ৭নং বিপদ সঙ্কেত তুলে নিয়ে ৩নং সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে এখনো উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে জোয়ারের পানি রয়ে গেছে।  শুক্রবার সকাল ১০টার জোয়ারেও পানি ঢুকে পুনরায় প্লাবিত হয়েছে উপকূলীয় বেশ কিছু নিচু এলাকা।  সামুদ্রিক নৌযান গুলো এখনো নিরাপদ স্থানে নোঙর করে আছে।  ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’-এর প্রভাবে ঝোড়ো বাতাসে বিধ্বস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি ও গাছপালা। সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে উপকূলের অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।  সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। কোমেনের আঘাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।  বুধবার রাত ১১টা হতে বৃহস্পপতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা দশ ঘণ্টা ধরে বয়ে যাওয়া ভয়ানক কোমেনে ক্ষতবিক্ষত করে দেয় বসবাসরত ১০ হাজার মানুষের সেন্টমার্টিনকে।  এতে ভেঙ্গে যায় প্রায় ৪`শত ঘরবাড়ী। নষ্ট হয়ে যায় ঘরে থাকা আসবাপত্রসহ সব প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।  ভেঙ্গে পড়ে সব ধরণের গাছ।  মরে যায় কয়েকশ গবাদি পশু।  হারিয়ে যায় থাকার একমাত্র ঘরের চিহ্নটিও।  উড়ে যায় ঘরের ছাউনি এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে।  পানিতে তলিয়ে যায় ফসলি জমি।  হারিয়ে যায় ২টি ফিশিং ট্রলার, ১টি সার্ভিস বোট, ডুবে যায় বড়-ছোট ৮টি নৌকা।  এতে সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টায় গাছচাপা পড়ে মারা যান দিনমজুর মো. ইসলাম (৫০)।
মো. ইসলামের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, আমার স্বামী ভোর সকালে ফজরে নামাজ পড়ার জন্য ওযুর পানি নিতে ঘরের বাহিরের টিউবওয়েলে গেলে নারিকেল গাছের চাপা পড়ে মারা যান। অন্যদিকে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে ৪`শ পরিবারের মানুষ।
সেন্টমার্টিন প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, এ ধরণের পরিস্থিতি সেন্টমার্টিনে আর ঘটেনি। তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের  উদ্যোগে ত্রান সহায়তা করা হবে, তবে টেকনাফের সাথে যোগাযোগ বিঘ্ন ঘটার কারণে টেকনাফ থেকে ত্রাণ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
দ্বীপের পুলিশ ফাড়ি ইনচার্য হারুনুর রশিদ বলেন, সেন্টমার্টিনের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে উপরে জানানো হয়েছে।  আশা করছি রাতারাতি কাজ হবে।
মহেশখালীর সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বকর জানিয়েছেন, কোমেন’র আঘাতে দ্বীপের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।  অনেক স্থানে ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে গেছে।  তবে বড় ধরণের ক্ষতি হয়নি।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনুপম সাহা বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে ৩ লাখ মানুষের মাঝে শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়।  আগাম প্রস্তুতি থাকায় ঘূর্ণিঝড় কোমেন’র আঘাতে বড় ধরণের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।  যেখানে ক্ষতি হয়েছে সেখানে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত হয়েছে।  তিনি আরও জানান, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপণ করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর