1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

‘ঘুষ’ না দিলে আবেদন ফেরত, হয় না ফিংগার প্রিন্ট

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৩ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক :
রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ উখিয়ারঘোনা এলাকার সজল বড়ুয়া। ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে আসেন। নির্ধারিত আবেদন ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংযুক্ত করেন। কাউন্টারে গিয়ে যথারীতি নিজ হাতেই আবেদন ফরমটি জমা করেন। এরপর ফিংগার প্রিন্টের অপেক্ষা। দুপুর পেরিয়ে বেলা তিনটা। তারপরও তার কাছ থেকে ফিংগার প্রিন্ট নেয়া হচ্ছেনা। আরো অপেক্ষা। অবশেষে তিনটার পরে ফরমটি ফেরত দেয়া হয় তার হাতে। বলা হয়, কাগজপত্র সব দেয়া হয়নি। অথচ আবেদন ফরমের সাথে সব কাগজপত্র সংযুক্ত করেন। এ কারণে ফরমের ওপরে ‘ওকে’ চিহ্নও দেয়া আছে।
সজল বড়ুয়া বলেন, আমার কাছে ১২০০ টাকা দাবী করা হয়। তা না দেয়ায় ফরম ফেরত দেয়া হয়। অথচ আবেদনের সাথে সব ডকুমেন্ট জমা করা হয়েছে।
একই অভিযোগ পেকুয়া থেকে আসা মুহাম্মদ হেফাজতুর রহমান নামের এক ব্যক্তির।
তিনি বলেন, আবেদন জমা নিয়েও আমাকে ফিংগারের জন্য ডাকেনি। বেলা তিনটার পর ‘জন্মনিবন্ধন’ অনলাইনে নেই বলে তা ফেরত দেয়া হয়। অথচ জন্মনিবন্ধনসহ সকল কাগজই দেয়া হয়েছে। পরে এক আনসারের মাধ্যমে নগদ ১২০০ টাকা দিলে ফিংগার প্রিন্ট নেয়া হয়। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করেছি।
অভিযোগ করেন, চকরিয়ার মালুমঘাট থেকে আসা নুরুল আমিন নামে এক ব্যক্তি।
তিনি বলেন, আমি কৃষকের সন্তান। অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে পাসপোর্ট করতে আসি। ফরম জমা দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াই। কোন কারণ ছাড়া আমার আবেদন ফরম জমা নেয়নি। বিষয়টি সংবাদকর্মীকে জানাই। পরে আবেদনটি ওই সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জমা করা হয়। কিন্তু সংবাদকর্মী চলে গেলে আমার আবেদনটি ফেরত দেো হয়।
পরে আমি বাধ্য হয়ে তাদের দাবী মতে ১২০০ টাকা দিলে আমার ফিংগার প্রিন্ট নেয়া হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি।
একই অভিযোগ পেকুয়া থেকে আসা মো. আক্তার হোসেনসহ অনেক আবেদনকারীর। যারা প্রতিনিয়তই পাসপোর্ট অফিসে এসে হয়রানীর শিকার হন।
তাদের দাবী, সরকারের কোষাগারে টাকা জমা দেয়ার পরও কি কারণে পাসপোর্ট আবেদন জমা নেয়া হয়না তা খতিয়ে দেখা হোক।
এ দিকে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে হয়রানী ও দূর্নীতি থেমে নেই। আবেদন ফরম জমা নিয়ে প্রতিদিন ঘটছে বাকবিতন্ডা। ব্যাংকে নির্দষ্ট পরিমাণ টাকা ও আবেদনের সাথে প্রয়োজণীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার পরও অতিরিক্ত দেড় হাজার থেকে দুই হাজার দিতে হয় কর্তাবাবুদের। এসব কাজে জড়িত রয়েছে চিহ্নিত কয়েকজন আনসার।
উপ-সহকারী পরিচালক ও উচ্চমান সহকারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পাসপোর্ট অফিসে আবেদন ফরম জমা করতে এসে হয়রানীর ঘটনা এখন ওপেন সিক্রেট।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দৈনিক বৈধ ও অবৈধ নতুন সাধারণ বা জরুরী অথবা হালনাগাদ করার পাসপোর্ট ফরম জমা পড়ে শতাধিক। এ হিসেবে সরকারী ছুটির দিন বাদে প্রতি মাসে ২০ কর্ম দিবসে অন্তত ৪০ লাখ টাকা অবৈধ উপায়ে আদায় করা হয় কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে।
জনগণের পকেট কেটে নেয়া এই টাকায় অফিসাররা বনেছেন গাড়ী-বাড়ীর মালিক। করছেন আরেম আয়েশী জীবন।
সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক শওকত কামাল ও উচ্চমান সহকারী আবু হানিফ মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টর আবেদন ফরম গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। মোটা অংকের টাকা নিয়েই চুক্তি ভিত্তিক ভুয়া আইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সনদ ও চেয়ারম্যান সনদ সম্বলিত আবেদন ফরম জমা করতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করার একাধিক তথ্য প্রমাণ সহ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৈধ হোক আর অবৈধ হোক ফরম জমা করতে গেলেই ১৫শ থেকে দুই হাজার টাকা বিনা রশিদে জমা দিতে হচ্ছে সেখানে। তা না হলে ‘পাসপোর্ট অাবেদন ফরম’ নানা অজুহাতে ফেরত দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপ-সহকারী পরিচালক শওকত কামাল ও উচ্চমান সহকারী আবু হানিফ মোস্তফা কামালের বক্তব্য জানতে ফোন দেয়া হয়। কিন্তু ফোন ধরেননি। এ কারণে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com