1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

চকরিয়ায় জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে উত্তেজনা

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৪ দেখা হয়েছে

এ.এম হোবাইব সজীব, চকরিয়া :
কক্সাবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ছগির শাহ কাটা এলাকায় জায়গা দখল কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। যে কোন মূহুর্তে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে রিংভং বন জায়গীরদার ভূমিহীন সমবায় সমিতির কর্তা ও সদস্যরা। এতে জায়গার মালিকের ছোট ভাই আশরাফুল ইসলামের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে।
সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায়, রিংভং ছগির শাহ কাটা গ্রামের বাসিন্দা আমির হামজার পুত্র উকিল আহমদের রয়েছে ভিলেজারী ১১ কানি জায়গা। উক্ত জায়গার বিপরীতে তিনি বন বিভাগের সেবা দিয়ে আসছে। এ অবস্থায় তার পরিবারের আর্থিক সংকট দেখা দেয়ায় উক্ত জায়গা একই এলাকার বদিউল আলমের পুত্র শাহাদত হোছনের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দেয়। এতে শাহাদত হোছেন ধার-কর্জ করে উক্ত জায়গা ১৯৮৯ সালে তার কাছ থেকে স্ট্যাম্প মুলে ক্রয় করে নেয়। ক্রয়কৃত জায়গা হাল-সন দখল করে চাষাবাদ করে আসছে। উক্ত জায়গা ক্রয়সূত্রে মালিক হিসেবে ২০০০ সালের ৪ জুন শাহাদত হোছনকে ভিলেজার হিসেবে গণ্য করায় বন জায়গীরদার সমবায় সমিতিতে ও তাকে সভ্য হিসেবেও অন্তভুর্ক্ত করা হয়। বিক্রেতা উকিল আহমদের মৃত্যু হবার পর তার পুত্র মকছুদ আহমদ গং উক্ত জায়গা দাবি করে বসে। দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশংকায় শাহাদত হোসেন বাদী হয়ে মকছুদ গং এর বিরুদ্ধে চকরিয়া আর্মি ক্যাম্পে ২০০৭ সালে এক খানা অভিযোগ দায়ের করে। উক্ত অভিযোগ তদন্ত করে সমাধান দেয়ার জন্য ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করে। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল এহেছান চৌধুরী উক্ত অভিযোগ তদন্ত করে ২০০৮ সালের ২ জানুয়ারী তারিখে বাদী শাহাদত হোসেনের পক্ষে রায় দেয়। উক্ত রায় তোয়াক্কা না করে  মকছুদ আহমদ বাদী হয়ে শাহাদতকে আসামী করে এম আর ৩৫/০৫, এম, আর ১৬৯/০৪, ও এম, আর ১৫৭/০৯ অপর ১৮৩/০৯ ও ২১০/১০ নং মামলা দায়ের করে।  চকরিয়া ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত মামলা পর্যালোচনা করে এম আর ৩৫/০৫, এম, আর ১৬৯/০৪, ও এম, আর ১৫৭/০৯ নং মামলা খারিজ করে দেয়। এ ছাড়া সিভিল কোর্ট অপর ১৮৩/০৯ ও ২১০/১০ নং মামলা বিচারাধীন থাকায় উভয়ের মামলা পর্যলোচনা করে বিবাদী পক্ষকে হয়রানি না করার জন্য চকরিয়া উপজেলার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট বাদী  কে এক নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু ৬বছর ধরে উকিল আহমদের পুত্র মকছুদ বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে উক্ত জায়গা জবর দখল করে আসছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে শাহাদত হোছনের ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে মকছুদ গং সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে রিংভং বনজায়গীরদার ভূমিহীন সমবায় সমিতির কাছে একখানা অভিযোগ দায়ের করেন। সমিতি কর্তৃপক্ষ উক্ত অভিযোগ পুনঃ তদন্ত এবং পর্যালোচনা করে দেখে যে, বিবাদীর পিতা উকিল আহমদ ১৯৮৯ সালে বাদী আশরাফের বড় ভাই শাহাদত হোছনের কাছে উক্ত জায়গা বিক্রি করায় দীর্ঘ ২০ বছর যাবত শাহাদত ভোগ দখলে ছিল। কিন্তু উকিল আহমদের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিবাদী মকছুদ গং উক্ত জায়গা দাবী করা অবৈধ। সেহেতু বাদী আশরাফ গং কে উক্ত জায়গা দখল দিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা থেকে বিরত থাকার জন্য বিবাদী মকছুদ গং কে সমিতি কর্তৃপক্ষ নির্দেশ প্রদান করে। অপরদিকে উক্ত জায়গা ক্রেতা সূত্রে মালিক হিসেবে আশরাফসহ উক্ত পরিবারের ৬ জন লোককে বন বিভাগের ভিলেজার হিসেবে গণ্য হওয়ায় তাদেরকে সমিতির সভ্যও করা হয়েছে। আদালতের পর পর কয়েকটি রায়, ইউনিয়ন পরিষদের রায় এবং সমিতির রায় থাকার পরও মকছুদ গং উক্ত জায়গা জবর দখল করে থাকায় দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ আশরাফ গং এর প্রাণ যায় যায় অবস্থা হয়েছে। উক্ত জায়গার দখল ছেড়ে না দেয়ায় সমিতির কর্তৃপক্ষ এবং এলাকাবাসী মকছুদ গং এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে। এমনকি গতকাল ক্রেতা শাহাদত হোছনের ছোট ভাই আশরাফ ও তার আত্মীয় স্বজনরা উক্ত জায়গায় অবশেষে ধান রোপন করার পর  মকছুদ গং বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে হাকাবাকা করছে। যে কোন মুহুর্তে বহিরাগত মকছুদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভয়াবহ রক্তপাত ঘটার আশংকা করেছে স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com