1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে, এখনো অথৈ জলের পানিতে ভাসছে ৫ ইউনিয়ন

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০১৫
  • ১৬ দেখা হয়েছে

এ.এম হোবাইব সজীব, চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে উপজেলার কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড়ভেওলা, বদরখালী ও বি.এম.চর ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি এখনো আগের অবস্থানে থেকে ভয়াবহ আকার ধারন করে অথৈ জলের পানিতে ভাসছে পাঁচ ইউনিয়নের  লক্ষাধিক লোকজন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পর বন্যার পানি নীচে নামতে শুরু করেছে। তবে বন্যার পানিতে বন্দি হয়ে প্লাবিত হয়ে পড়েছে উপজেলার কোণাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ও পশ্চিম বড়ভেওলাসহ অন্তত পাঁচ ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের বেশিরভাগ বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে বুক সমান পানিতে। ভেঙ্গে পড়েছে আভ্যন্তরিণ এলাকার সড়ক যোগাযোগ। উপকুলীয় অঞ্চলের বানবাসি বেশির ভাগ মানুষ আঞ্চলিক মহাসড়কে পলিতিনের টাবু টাঙ্গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় অথৈ জলে ভাসছে।
বন্যাদুর্গত এসব ইউনিয়নে টিউবওয়েল বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামের শুকনো জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে । ফলে উপজেলার বন্যদুর্গত এলাকায় রান্নার কাজ করতে পারছেনা হাজার হাজার পরিবার। কারো বাড়ির আশপাশ, কারো বাড়ির ভেতরে পানি আর পানি। এক কথায় কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশে পরিণত হয়েছে। বিগত ৪/৫ দিন ধরে এসব এলাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে বহু পরিবার। গ্রামীণ সড়ক গুলো এখনো যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বদরখালীরস্থ ডা: আলমগীর ডা: হেলাল উদ্দিন জানান, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, ইলিশিয়া দরবেশকাটা, বদরখালী এলাকায় বহু পরিবার এখনো পানি বন্দী  রয়ে অথৈ জলে ভাসছে। থাকা-খাওয়া নিয়ে নিদারুন কষ্ট ভোগ করছে কয়েকদিন ধরে। বন্যা দুর্গত লোকজনদের মাঝে দ্রুততম সময়ে ত্রাণ বিতরণ করার জোর দাবী জানান।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম জানান, বন্যার কারনে তার ইউনিয়নের কয়েক হাজার বসতবাড়ি ও ক্ষেতের ফসল তলিয়ে গেছে পানির নীচে। পানি প্রবাহিত হওয়ার কারনে ছিকলঘাট-কাকারা, মাঝেরপাড়ি-মানিকপুর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে গত চারদিন ধরে। উপজেলার বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউল আলম বলেন, মাতামুহুরী নদীর বন্যার পানির প্রবল চাপে ভেঙ্গে গেছে নির্মাণাধীণ কুরুইল্ল্যারকুম বেড়িবাঁেধর অংশ। ফলে বেড়িবাঁেধর ওই অংশ দিয়ে দ্রুত নদীর পানি ঢুকে পড়ছে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। কোণাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, গতমাসের বন্যায় ইউনিয়নের একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এবারের বন্যায় বেড়িবাঁেধর এসব ক্ষতিগ্রস্থ পয়েন্ট দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে ইউনিয়নের প্রভৃতি এলাকায়। বর্তমানে তার ইউনিয়নের প্রায় ছয় হাজার পরিবারের বসতবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে বলে দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ইউনিয়নের বেশিরভাগ বন্যাদুর্গত পরিবার গত চারদিন ধরে আঞ্চলিক মহাসড়কে পলিতিনের টাবু টাঙ্গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব পরিবার গুলো বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে রয়েছে। অপরদিকে পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটার একটি বেড়িবাঁধের ৪ চেইন ভেঙ্গে যাওয়ায় বদরখালী ইউনিয়নে পুরো অংশ তলিয়ে গেছে পানিতে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরে হোসেন আরিফ দাবী করেছেন, বন্যার কারনে বদরখালী এলাকার ২০ হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তারা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি ভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ না দেয়ায় চকরিয়ার একটি পৌরসভাসহ ১৮টি
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকালের দিকে বর্ষণ কমে গেলে উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করে। তবে উপকুলীয় অঞ্চলের বেশ কটি ইউনিয়নে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বন্যার ভয়াবহতার চিত্র ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে বন্যার আগে দেয়া ৪০ মেট্রিক টন চাউল সোমবার সকালে উপজেলার আঠার ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে দাবী করেছেন, এবারের বন্যায় উপজেলার ৩ লাখ ৩২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় বিশুদ্ধ পানি খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com