1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

চকরিয়া পৌর মেয়র দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় কার্যক্রম স্থবির

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৩ দেখা হয়েছে

চকরিয়া প্রতিনিধি :
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় পৌরসভার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও রাজনীতিকসহ তিন ডজন মামলা থাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। ফলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সেবাপ্রার্থীসহ পৌর নাগরিকদের মাঝে।
সরেজমিন চকরিয়া পৌরসভায় গিয়ে সেবা প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান, জম্ম সনদ, ভূমিহীন সনদ, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদ গ্রহণে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে পৌরসভার। মেয়র পলাতক থাকায় পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা। ইমারত নির্মাণেও হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। সেবা নিতে আসা পৌরবাসি প্রতিনিয়ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ ধারবাহিকতায় বেশ কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন টাকা ছাড়া কিছু বুঝে না। বাস্তবে পৌরএলাকার উন্নয়ন না হলেও কাগজে কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বরাদ্দের টাকা। এখন চলছে নগর উন্নয়নের নামে প্রকল্পের টাকা হরিলুটের মহোৎসব। কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও অপরিকল্পিত কর্মকান্ড ও সিন্ডিকেট-নির্ভর নিন্মমানের কাজের কারণে এসব বরাদ্দ কার্যত পৌরবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে তেমন কোনো কাজে আসছে না বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন সচেতনমহল। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা মূলত ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় ড্রেনসহ রাস্তাঘাট। বড় বড় গর্তসহ খানা-খন্দে ভরা এসব সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে রিকশা থেকে শুরু করে ছোট-বড় যানবাহন।
সূত্র জানায়, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহ জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য প্রাপ্ত বরাদ্দের সিংহভাগই গোপনে ভাগ-বাটোয়ারা করছেন মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার ও সচিব মাসউদ মোর্শেদ, কর্মকর্তা কর্মচারী, সরকারদলীয় ও বিএনপি দলীয় ঠিকাদার সিন্ডিকেট। অপরদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান, জম্ম সনদ, ভূমিহীন সনদ, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদ বিভিন্ন সনদ বাণিজ্য করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। এসব ঘটনায় কাউন্সিলর ও পৌর কর্মচারীদের মধ্যে মতবিরোধ ও দুরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে পৌর কার্যলয়টি হ-জ-ব-র-ল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। মেয়র হায়দার পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষ আশা করেছিলো এবারে পৌরসভার উন্নয়ন হবে। কিন্তু সেই আশায় নিরাশায় পরিণত হয়েছে। সাড়ে চার বছর পার হয়ে গেলেও এ মেয়রের আমলে পৌরসভার কাঙ্খিত কোন উন্নয়ন পৌরবাসি চোখে পড়েনি। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড়ের রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কার্লভাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতার নিরসন, ময়লা আর্বজনার ফেলার ডাষ্টবিন, সড়ক বাতি স্থাপন সহ কোন উল্লেখ যোগ্য উন্নয়ন মেয়র হায়দার দেখাতে পারেনি পৌরবাসিকে। চিরিঙ্গা পৌরশহরের প্রধান সড়কে দোকান পাট ও যানবাহন ইজারা সহ পৌরসভার একাধিক স্থানে ঘাটগুদি গোপনে নিজেদের লোকদের ইজারা দিয়ে সিংহভাগ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মেয়র ও সচিব। একটি সূত্র জানায়, মেয়র হায়দার পলাতক হলেও গোপনে সচিব মাসউদ মোর্শেদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আর্থিক খাতে সব ফাইলে স্বাক্ষর করে সিংহভাগ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। মেয়র অনুপস্থিত থাকার সুযোগে পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীও মানছে না কাউন্সিলরদের। ইতোমধ্যে পৌর কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি চকরিয়া পৌরসভার পাশ্ববর্তী মালেক টাওয়ার নামক একটি ভবনে পৌরসচিব মাসউদ মোর্শেদ মহিলা কাউন্সিলরদের জিম্মি করে একাধিক উন্নয়ন মুলক ফাইলে স্বাক্ষর করার সময় লাঞ্চিত হয়েছেন। একইভাবে নির্দেশ অমান্য করায় গত ২৬আগষ্ট পৌরসভার প্রধান সহকারি মোস্তাক আহমদকে পিঠুনি দেয় প্যানেল মেয়র শহীদুল ইসলাম ফোরকান।
মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানা গেছে, পৌরসভার মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দারের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে অন্তত ৩৭টি মামলা রয়েছে। বর্তমান সরকার আওয়ামীলীগের হওয়ার কারণে ও মেয়র বিএনপি সমর্থিত হওয়ায় তার ঘাড়ের উপর বেড়ে চলছে মামলার পাহাড়। এলাকায় উপস্থিত থাকুক আর নাই থাকুক থানায় রাজনৈতিক কোন মামলা হলেই আসামীর তালিকায় নাম উঠে মেয়র হায়দারের।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com