উপ-সম্পাদকীয়

চমেকের ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের এখন কী হবে?

34views

এমপি মাশরাফি ইস্যুতে ফেসবুকের একটা কমেন্টের জের ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক হেমাটো অনকোলজির একমাত্র অধ্যাপককে ডা. রেজাউল করিমকে সম্প্রতি শোকজ করা হয়।
এবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে ওএসডি করা হয়েছে। এটাচমেন্টে রাখা হয়েছে দুর্গম রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্বাভাবিক কারণেই সেখানে হেমাটো অনকোলজি বিভাগ নেই। সুতরাং আপাতত তার অর্জিত জ্ঞান কাজ লাগানোর সুযোগ বন্ধ। অতএব আপাতত তিনি কাজের চাপমুক্ত! তাকে ট্রান্সফার করলেন যারা, তারা কি জানেন কতো ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটেছে? চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিবছর লক্ষাধিক ক্যান্সার শিশু চিকিৎসা নেয়। প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকে শতাধিক শিশু।
হাজার ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর জীবনের সঙ্গে অনেক বড় একটা অবিচার হয়ে গেলো। ডা. রেজাউল করিম দেশের মাত্র তিনজন পেডিয়াট্রিক হেমাটো অনকোলজির অধ্যাপকের একজন। অথচ এখন তার এই জ্ঞান কাজে লাগানোর রাস্তা সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে গেলো।
ব্লাড ক্যান্সারসহ আরও অন্যান্য ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুগুলো এখন কোথায় যাবে? কার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেবে? অসহায় পরিবারগুলোর কী অবস্থা হবে; আমরা কি একটু চিন্তা করতে পারছি?
সরকারি দপ্তরের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অনেক সিদ্ধান্তই নিতে হয়। কিন্তু সেখানে রিস্ক বেনিফিট রেশিওটা কী মাথায় রাখতে হবে না? ডা. রেজাউল কি কোন দুর্নীতি করেছেন? অন্যায়ভাবে রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন? অফিসে না গিয়ে দিনের পর দিন বেতন তুলেছেন? মোটেও না।
সামান্য এক কমেন্টে কী এমপি মাশরাফির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে? কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষতিটা কিন্তু এখন অবশ্যই চোখে পড়ার মতো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এমপি মাশরাফি এ ব্যাপারটা জানেন না। নাহলে উনি নিজেই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেলের হাজারো ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর জন্য সমবেদনা। এখানে অধ্যাপক রেজাউল করিমের কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতি নেই। বরং প্রতিদিন শত শত ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার তত্ত্বাবধানের যে কষ্ট আর দুঃশ্চিন্তা ছিলো, তা থেকে তিনি আপাতত মুক্তি পেয়ে গেলেন।
এখন তিনি রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে আগের তুলনায় অনেক কম কাজের চাপেই থাকবেন। কিন্তু ক্ষতিটা হয়ে গেলো আমাদের; অসহায় ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের; এই হতভাগ্য বাংলাদেশের।
এই সিদ্ধান্তটা নিয়ে কী আবার একটু চিন্তা করবেন কর্তা ব্যক্তিরা? আমরা কী দিনশেষে অসংখ্য জীবনের বিপরীতে কী সামান্য কিছু কথাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবো? নাকি মানবতার পাল্লাই বেশি ওজন পাওয়ার দাবি রাখে?
লেখক: ডা. আহমদ হাবিবুর রহিম, শিশু বিষয়ক উচ্চতর ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত

Leave a Response