1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

ছাত্রদলের কমিটিতে বঞ্চিতদের বিক্ষোভ-অসন্তোষ

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৫৮ দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বজনপ্রীতি ও টাকার বিনিময়ে কমিটি থেকে ত্যাগীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ

কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক সদ্য ঘোষিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন সকল ইউনিটের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ এবং অনৈতিক পন্থায় চাপিয়ে দেয়া কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে পদ বঞ্চিতরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বঞ্চিতরা। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহীদ স্মরণিস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে পদবঞ্চিত ছাত্রদলের কর্মীরা অংশ নেয়।। মিছিল থেকে তারা ঘোষিত কমিটি বাতিল করে যোগ্যদের স্থান দেয়ার দাবি জানান। গত ৭ অক্টোবর কক্সবাজার জেলার আওতাধীন ১৮ টি শাখা কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এসব কমিটিতে ত্যাগীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিবাহিত, ইয়াবা ব্যবসায়ী, অছাত্র ও আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকাহীন লোকজনকে কমিটিতে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ বঞ্চিতদের।
এসময় বিক্ষোভে হোসাইন মাদু, ওসমান সরওয়ার টিপু, রেজাউল করিম, আব্দুল হামিদ ও নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
তারা বলেন- জেলা কমিটির অধীনে সম্প্রতি ঘোষিত ১৮ টি শাখার আহ্বায়ক কমিটিতে ৯০ শতাংশ বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিল না। কোন সময় পার্টি অফিসে দেখা যায়নি এমন লোককেও কমিটিতে রাখা হয়েছে। অধিকাংশই অছাত্র ও বিবাহিত। শুধুমাত্র জেলা ছাত্রদলের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুর রহমান নয়ন ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুল আলম তাদের পকেট ভারী করার জন্য কমিটি নিয়ে নয়-ছয় করেছেন। আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা অনেকেই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

তাদের দেওয়া তথ্য মতে, গত ৭ অক্টোবর কক্সবাজার শহর শাখা, সদর উপজেলা শাখা, সরকারি কলেজ শাখা, কক্সবাজার সিটি কলেজ শাখা, রামু কলেজ শাখা, মহিলা কলেজ শাখা, ঈদগাঁও ফরিদ আহমেদ ডিগ্রি কলেজ শাখা, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি শাখা, কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা, ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ, উখিয়া উপজেলা, টেকনাফ উপজেলা, টেকনাফ পৌরসভা, উখিয়া কলেজ, টেকনাফ সরকারি কলেজ, পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
ক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, কমিটি গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পদ সিন্ডিকেটের নেতারা বাগিয়ে নেয়ায় বাদ পড়েছেন অনেক কর্মীবান্ধব, ত্যাগী, পরিশ্রমী ও নির্যাতিত নেতা। অনেকের ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। যদিও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলেছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পাবেন যোগ্য ও বঞ্চিতরা। যাদের কোন যোগ্যতাই নেই, তারা কমিটিতে থাকলে ছাত্রদল প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
শহর ছাত্রদল নেতা ওসমান সরওয়ার টিপু বলেন, ‘যারা শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে থেকে নির্যাতন, মামলা ও হামলার শিকার হয়ে রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে তাদের মূল্যায়ন না করে নতুন মুখ অযোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। শহর শাখা কমিটিতে হুমায়ুম কবির হিমু নামে যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে তার রাজপথে কোন চিহ্ন নেই। যাদের পদবঞ্চিত করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই মামলা-হামলার আসামী।’
তিনি আরো বলেন, ‘যাদের কমিটিতে আনা হয়েছে তাদের মধ্যে দুয়েকজন ছাড়া বাকি কারোরই রাজপথে পায়ের ছাপও নেই। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে ভুল বুঝিয়ে টাকার বিনিময়ে কমিটি নিয়ে নয়-ছয় করা হয়েছে। দ্রুত কমিটিগুলো বাতিল না করলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
বঞ্চিতদের মধ্যে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ৬ বছর ধরে ছাত্রদলের সাথে যুক্ত। রাজপথের প্রতিটি মিছিল সংগ্রামে ছিলাম। কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। কিন্তু কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে কাউসার হাবিব ত্বকী নামে একজনকে। সে ছিল শহরের একটি ইউনিট কমিটির কর্মী। সরকারি কলেজের মিছিল মিটিংয়ে তাকে কখনো দেখা যায়নি। সে সরকারি কলেজের ছাত্র কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একইভাবে কমিটিতে রাখা কেউই ছাত্রদলের ডেডিকেটেট কর্মী নয়। এই কমিটি আমরা বাতিল চাই।’
হোসাইন মাদু বলেন, ‘কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিতে যাদেরকে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে দুয়েকজন ছাড়া বাকিরা সবাই অপরিচিত। তাদের শহর কমিটিতে আসার যোগ্যতা নেই। স্বজনপ্রীতি ও টাকার বিনিময়ে তাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। শহর শাখার মত পুরো ১৮ কমিটিরই একই অবস্থা। এসবের মূল নায়ক হচ্ছে জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুর রহমান নয়ন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিজানুল আলম। এই বৈষ্যমের কারণে প্রকৃত জিয়ার সৈনিকেরা মর্মাহত। দ্রুত এই কমিটি বাতিল চাই।’
বঞ্চিতদের দাবী, কক্সবাজার শহর শাখার আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মো. কায়সারকে। তিনি একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী।
এ সময় ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে- রুস্তম রানা, শিবলী, মো. রুবেল, রিদুয়ান, রেজাউল, আব্দুল হামিদ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com