1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. joaopinto@carloscostasilva.com : randaldymock :
  3. makaylabeaurepaire@1secmail.com : scotty7124 :
  4. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  5. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  6. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

ছুট্টো চৌধুরীর স্মরণে

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৩০ দেখা হয়েছে

মুহাম্মদ শামসুল হক শারেক :
মানুষ মরণশীল। মহান আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা ‘যখন কারো মৃত্যুর সময় এসে যায় তা কক্ষনো পেছানো হয় না’ (সূরা মুনাফিকুন, আয়াত নং-১১) । এই নিয়মেই আমরা সবাই এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যাব। আর যেখানে যাব সেখানে ভাল কাজ গুলোই হবে আমাদের একমাত্র পাথেয়। গত (১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ) উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজ সেবক ওবাইদুল হক চৌধুরী ছুট্টো ইন্তেকাল করেছেন। বিকেল ৫টায় হলদিয়া পাগলির বিলে তাঁর গ্রামের মসজিদ প্রাঙ্গনে তাঁর নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ছুট্টো চৌধুরী জানাযায় শরিক হয়েছিলেন অসংখ্য শোকাহত মানুষ। জানাযা পূর্ব বৈঠকে আমরা তাঁর মাগফিরাত কামনা করে স্মৃতি চারণ করছিলাম অনেকেই। এসময় কক্সসবাজার জেলা এবং উখিয়ার প্রায় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন জানাযায়। আমি তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমীন।
ছুট্টো চৌধুরী বয়সে আমার বড়। তাঁর ছোট দুই ভাই সেলিম রেজা চৌধুরী ও (মরহুম) মঞ্জুর চৌধুরীর সাথে ছাত্র জীবন থেকেই আমার হৃদ্যতা ছিল। শুনতাম সেলিম-মঞ্জুরদের বড় ভাই ছুট্টো ছৌধুরী দেশের বাইরে জাপানে থাকতেন। এই কারণে তাঁর সাথে আমার মেলা-মেশাটা ছিল কম। কিন্তু কক্সবাজার অবস্থানকালে গত কয়েক বছর ধরে তাঁর কর্ম ব্যস্ততার ফাঁকে তিনি আড্ডা করতেন হোটেল প্যানোয়ায় আমার (দৈনিক ইনকিলাব) অফিসের সামনে। দিনের একটা সময়ে এখানে আড্ডায় শরিক হতেন আরো অনেকের সাথে তিনিও। কোন কোন সময় তিনি নিজেই অফিসে ঢুকে বসতেন আমার সাথে। আবার কোন সময় আমি নিজে ডেকে অফিসে বসাতাম তাঁকে। তিনি আমার সাথে দেশের প্রচলিত রাজনীতি, সামাজিক অবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে আলাপ করতেন। কোন বিষয় তাঁর মতের বিরুদ্ধে গেলেও অত্যন্ত ভদ্র ও অমায়িক ভাষায় দ্বিমত পোষন করতেন। তাঁর মতের বিরুদ্ধে কোন বিষয় নিয়ে তাঁকে কোন সময় রাগান্বিত হতে দেখিনি। আলাপ আলোচনায় সাম্প্রতিক রানৈতিক হাল-চাল ও সামাজিক অস্থিরতায় তাঁর উদ্বিগ্নতা প্রকাশ পেত। তার পরেও আমার মনে হত তিনি ছিলেন খুবই আশাবাদী একজন মানুষ। খুব শান্তশিষ্টভাবে তাঁর মতামতটা তিনি তোলে ধরতেন। যে কোন বিষয় নিয়ে তিনি সুক্ষ্ম বিশ্লেষন করতেন তিনি। গত কয়দিন ধরে সেই আড্ডায় তাঁর ইন্তেকালের প্রভাব পড়েছে বলেই হয়েছে। ছুট্টো চৌধুরীর ইন্তেকালে শোকাহত সবাই। ইন্তকালের ২/৩দিন আগে সম্ভবত আমার ল্যাপটপে ‘শত বছরের স্বপ্নপূরণ ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে আমার লেখাটি পড়ে মতামতও জানিয়েছেন তিনি। উঠে যাওয়ার সময় বলেছিলেন ‘শারেক ভাই আবার দেখা হবে’।
১৪ সেপ্টেম্বর সকালে আমি অফিসে আসি একটু দেরীতে। অফিসে ঢুকতেই হোটেল প্যানোয়ার জিএম টিপু’দা জানালেন ছুট্টো ছৌধুরীর ইন্তেকালের খবর। জানতে পারলাম বিকেল ৫টায় নামাজে জানাযা। হাতের কাজ সেরে রওয়ানা দিলাম জানাযায় শরিক হতে। মরিচ্যা বাজার হতে প্রফেসর আব্দুল হক সাহেবসহ পাগলির বিলে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে ছুট্টো চৌধুরীর সাথে ঠিকই দেখা হল। তবে জীবিত ছুট্টো চৌধুরী নয় এ্যাম্বোলেন্সে কফিনে মোড়া ছুট্টো চৌধুরীর সাথে।

উখিয়ার পাগলির বিলের বৃহত্তর সিকদার বংশের মরহুম মাইমুনুর রহমান সিকদারের নাতি ও আলহাজ্ব আবদুর রহিম চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান সাবেক হলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওবাইদুল হক চৌধুরী ছুট্রো কোম্পানী। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪ আগষ্ট ভোর সকালে ইন্তেকাল করেন তিনি। তাঁর দাদা মাইমুনুর রহমান সিকদার ছিলেন তৎকালীন অবিভক্ত হলদিয়া-রত্মা ও জালিয়া পালং প্রসিডেন্সির প্রেসিডেন্ট। জানাযার পূর্বে সমাগত মুসল্লিদের উদ্দেশ্য সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী, মরহুমের ছোটভাই সেলিম রেজা চৌধুরী ও একমাত্র ছেলে রাজিবুল হক চৌধুরী টুটুল। জানাযা পূর্ব বৈঠকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী, চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন চৌধুরী মিন্টু ও এড. গিয়াস উদ্দিনসহ অনেকেই ছুট্টো চৌধুরীরর পারিবারিক ঐতিহ্য, তাঁর সমাজসেবা ও ভদ্র অমায়িক জীবন চরিত নিয়ে স্মৃতিচারণ করছিলেন।

জানাযায় উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল হক, সাবেক পিটি আই সুপার আবুল কাশেম, হলদিয়া ইউপির চেয়াম্যান কামাল উদ্দিন চৌধুরী মিন্টু, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সিকদার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হক আমিন, খাইরুল আলম চৌধুরী, উখিয়া পল্লী বিদুতের সভাপতি ছৈয়দ হোসেন চৌধুরী, ,উখিয়া জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা সোলতান আহমদ, হলদিয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি মো, ইসলাম মেম্বার, জেলা শ্রমিক নেতা রুস্তম আলী কোম্পানী, জেলা আইনহীবি সমিতির সদস্য এড, ছৈয়দুল আলম, এডভোকেট হুমায়ুন কবির চৌধুরী, এড,মিয়া মোহাম্মদ হোসাইন, এড আবদুর রহিম, মো, অধ্যাপক নুরুল হক, এড সাজ্জাদ হোসাইন, ডা নাছির উদ্দিন চৌধুরী,ডা মো,ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, আলী আকবর বাংগালী, মো,হোসাইন সিকদার, হলদিয়া যুবদলের সভাপতি এম মঞ্জুর আলম, মেম্বার নুরুল আলম কোম্পানীসহ দল-মত ও শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে শোকাহত হাজারো মানুষ। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এভা একদিন আমরা সবাই চলে যাব। এভাবে কাউকে স্মরণ করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস ছাড়াও মরহুমের জন্য দোয়া কামনা করে নিজেও দোয়ায় শরিক হওয়া গুনাহের কিছু নয়। #

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com