1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

জন্মদিন এড়াতে ১৫ আগস্টের আগে খালেদার লন্ডন সফর!

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৪ দেখা হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশ সফর নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু এবারই প্রথম তাঁর সম্ভাব্য লন্ডন সফর নিয়ে দলের ভেতরে বেশ আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। অনেকের মতে, ১৫ আগস্টের আগে তাঁর এই সফর একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও অনেক। কারণ ১৫ আগস্টের আগে তিনি লন্ডন চলে গেলে এবারই প্রথম ঘটা করে তাঁর জন্মদিন পালন করা হবে না।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা এবার ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়াকে জন্মদিন পালন করার ব্যাপারে নিরুৎসাহ করছেন। তাঁদের যুক্তি, দেশের রাজনীতিতে বড় দুটি দলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা কমানো দরকার। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের দিন জন্মদিন পালন দেশের সাধারণ মানুষও ভালোভাবে নিচ্ছে না বলে তাঁদের মত।

ওই সূত্রের মতে, এ ব্যাপারে এবার শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া নমনীয় হতে পারেন। আর এ কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বসবাসরত বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার জন্য সেখানে যাওয়ার চিন্তাই করছেন। এ ছাড়া বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও দলের পুনর্গঠনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে তারেক রহমানের সঙ্গে খালেদার আলোচনা করারও প্রয়োজন রয়েছে।

জন্মদিন এড়াতে ১৫ আগস্টের আগে খালেদার লন্ডন সফর!

বিএনপি নেতাদের মতে, দেশে থাকলে ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করা কৌশলগত কারণেই কিছুটা কঠিন। কারণ প্রথমত, দলের অতি উৎসাহী নেতাকর্মীরা ফুলের তোড়া ও কেক নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে হাজির হয়। দ্বিতীয়ত, জন্মদিন পালন করা হবে না- এ কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করাও কঠিন। সব মিলিয়ে এবারকার মতো বিদেশে গিয়েই দিনটি এড়ানোর পক্ষে দলের অনেকে। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে পারছেন না। তবে কেউ কেউ জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে দিনটিকে বন্যার্ত মানুষের পাশাপাশি কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে উৎসর্গ করার পরামর্শও দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী ১১ অথবা ১২ আগস্ট খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, যদিও এ ব্যাপারে দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি বলে দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন।

সর্বশেষ গত বছর ১৯ জুলাই ওমরাহ পালনের জন্য খালেদা জিয়া সৌদি আরব সফর করেন। ওই সময় লন্ডন থেকে তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা দুবাই গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মিলিত হন। পরে একসঙ্গে সৌদি আরব গিয়ে মায়ের সঙ্গে ওমরাহ করেন তারেক রহমান। বিএনপির শীর্ষ এই দুই নেতা তথা মা ও ছেলের মধ্যে সামনাসামনি ওটিই ছিল সর্বশেষ আলোচনা। এরপর গত জুলাই মাসের শেষে আবারও ওমরাহ পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কথা ছিল, ওই সময় তাঁদের দুজনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে। কিন্তু ভিসা জটিলতাসহ নানা কারণে শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি।

আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে লন্ডন যান তারেক রহমান। সেই থেকে গত প্রায় আট বছর তিনি লন্ডনেই বসবাস করছেন।

খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কালের কণ্ঠকে জানান, চেয়ারপারসন কবে যাবেন সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তবে বিদেশে গেলে জন্মদিন পালন হবে না এটি বলাই যায়। তাঁর মতে, ‘ম্যাডাম নিজে এ বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহী কখনোই ছিলেন না। কিন্তু নেতাকর্মীরাই বেশি উৎসাহী হয়ে জন্মদিন পালন করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সবাই চেষ্টা করছি এখন থেকে যাতে বিশেষ ওই দিনটিতে জন্মদিন পালিত না হয়। কারণ দেশের রাজনীতি থেকে উত্তেজনা, হিংসা, হানাহানি দূর করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে সরকারকেও ছাড় দিতে হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের লন্ডন যাওয়া নিয়ে কথাবার্তা চলছে। তিনি চলে গেলে জন্মদিন পালিত হবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ম্যাডামের জন্মদিন পালনের বিষয়ে কখনোই দলে আলোচনা হয় না। এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে এবার আমরা দেখছি কী করা যায়।’ তাঁর মতে, বিদেশে গেলে এমনিতেই জন্মদিন পালিত হবে না।

রাজনৈতিক প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ : ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় বিএনপির বেশির ভাগ নেতাই সতর্ক। পারতপক্ষে এখন আর তাঁরা ফোনে কথা বলেন না। ফলে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যেও ফোনে এখন আর গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইস্যু আলোচনা হয় না, যে কারণে বিএনপির অনেক ইস্যুই নিষ্পত্তি না হয়ে ঝুলে আছে। নেতাদের মতে, এ কারণেও দুই নেতার দেখা হওয়া জরুরি। বিশেষ করে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল ও দল পুনর্গঠনের বিষয়ে তারেকের মতামত নেওয়া জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিএনপির ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে। বলা হচ্ছে, ক্ষমতায় যাওয়া তথা আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের জন্য বিএনপিকে অনেক কিছুতে ‘ছাড়’ দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তারেকের ভূমিকা কী হবে সে বিষয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। একদিকে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতে আগ্রহী এমন দলগুলোর পক্ষ থেকে তারেকের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ক্ষমতার বিকল্প বিভিন্ন কেন্দ্র’ বলে পরিচিত সামাজিক শক্তি ও সংগঠন এবং শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও কেউ কেউ তারেকের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। কারণ তারা প্রায় সবাই তারেককে ভয় পায়। এ ছাড়া বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও খালেদা জিয়ার মধ্যে একান্ত বৈঠকের আলোচনাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে ওই বৈঠকে যা হয়েছে, সে অনুযায়ী বিএনপির অবস্থান নির্ণয় করার জন্যও তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক জরুরি বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন।

অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিএনপি নেতারা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, মা-ছেলের মধ্যে লন্ডনে দেখা হওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির অনেক ইস্যু নিষ্পত্তি হতে পারে। এমনকি রাজনীতি ছেড়ে তারেক রহমান নতুন জীবন শুরু করতে পারেন, এমন সম্ভাবনা রয়েছে বলেও কয়েক নেতা দাবি করেন।

উৎসঃ   কালের কণ্ঠ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com