1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

জরুরী সভা : বনপা’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রমানিত : সুভাষ সাহা বহিষ্কার

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৯ দেখা হয়েছে

* ৫৭ ধারাকে কালো আইন বলে আখ্যায়িত *
প্রেসবিজ্ঞপ্তি :
বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ্যাসোসিয়েশন (বনপা)কে সুপরিকল্পিত ভাবে কুক্ষিগত করা, সংগঠনকে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করা, ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করা এবং তার নিজ্স্ব নিউজ পোর্টাল নিউজ বিষেরবাশী ডটকমে বনপা’র সভাপতিসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করায় বনপা’র গঠনতন্ত্রের ১৩ নং ধারার (গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক পদ সহ সাধারন সদস্য পদ থেকেও সুভাষ সাহাকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এখন আর বনপা’র কেউ নন। তার সাথে বনপা’র কোন সদস্য সাংগঠনিক সম্পর্ক রাখলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক সেও আপনাআপনি বহিষ্কার হয়ে যাবে।
এ দিকে বনপা’র সভায় ৫৭ ধারা আইনকে কালো আইন আখ্যায়িত করে তা বাতিল করার জোর দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ বনপা’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ( খুলনা বিভাগ) ওয়ালিউল্লাহ খান বনপা’র বিরুদ্ধে সুভাষ সাহা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মর্মে ৮টি সুনিদৃষ্ট অভিযোগ এনে সভাপতির বরাবর ২৫ আগষ্ট রাতে দরখাস্ত করেন।
দরখাস্ত পাওয়ার পর পরই সভাপতি ২৬ আগষ্ট বনপা’র জরুরী সভা তলব করেন।
অভিযোগ হলো:-
১. ২১ আগষ্ট ছিল বনপা’র নির্বাচন । কিন্তু ১৬ আগষ্ট,১৭ আগষ্ট এবং ১৮ আগষ্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের মুক্তিদাবী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সুভাষ সাহা নিজেকে বনপা’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার পোর্টাল নিউজ বিষেঁরবাশী ডটকমে বনপা’র সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহার করে নিউজ প্রকাশ করেন। ২১ আগষ্ট সাধারণ সভা ও নির্বাচনের আগে সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহার করে তিনি অপরাধ করেছেন। এটা সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড ।

২. ২১ আগষ্ট সাধারণ সভা ও নির্বাচনে সুভাষ সাহা কোন ভুমিকা রাখেননি । অডিটরিয়াম ভাড়া নেয়া, ডেকোরেশন করা,অতিথি আপ্যায়ন করা,অতিথি ও সদস্যদের থাকা-খাওয়াসহ কোন বিষয়ে তিনি একটি বারের জন্যও খোঁজ পর্যন্ত নেন নি।

৩. বনপা’র সি.যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইঞ্জি. রোকমুনুর জামান রনি এর নেতৃত্বে বেলাল ভাই,জয়া আপা সহ আরো কয়েক জন ২১ আগষ্টের সাধারণ সভা ও নির্বাচন সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনা করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছেন এবং সফল প্রোগ্রাম হয়েছে । সভাপতি তার বক্তব্যে ধন্যবাদ দিয়ে এবং ষ্টেজে রনি ভাইকে ফুল দিয়ে সম্মানিত করেছেন কিন্তু সুভাষ সাহা অভিনন্দন জানানো দুরের কথা তিনি রনি ভাই সহ অনেকের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন। সংগঠনের কেউ উনার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন না । বনপা’র কর্মকর্তাদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণের জন্য সুভাষ সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি ।

৪. সুভাস সাহা কথায় কথায় বলেন, আমি পকেটের টাকা দিয়ে বনপা’কে কি করি দেখেন। আমার জানা মতে ২১ আগষ্টের অনুষ্ঠানে নিজের পকেট থেকে তিনি একটি টাকাও দেন নি । আমি শুনেছি এখনো উনার কাছে বনপার টাকা পাওনা আছে। উনি কি টাকার জোরে বনপা’কে কিনতে চান ?

৫. বনপা’র সাধারণ সভা ও নির্বাচনের নিউজ করার দায়িত্ব ছিল কার? আমি যত টুকু জানি সভাপতি সাহেব সুভাষ সাহাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন নিউজ তৈরী করার জন্য। কিন্তু একদিন পর তিনি প্রেসরিলিজ দেন সেখানেও যাদের যত টুকু সম্মান দেয়া দরকার তত টুকু সম্মান দেয়া হয়নি। আবার নিউজ নিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল ভাইকে অপমান সুলভ কথা বলেছেন তিনি। এর বিচার দাবি করছি।

৬. বনপা’র সিদ্ধান্ত ব্যাতিরেখে তিনি নিজের ব্যবসায়ীক অফিসকে বনপা’র অফিস হিসেবে ঘোষণা করেছেন । কিন্তু সেখানে যেয়ে দেখা যায় সুভাষ সাহা’র কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা নিয়মিত অফিস করেন। তিনি কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া নিজ অফিসকে বনপা’র অফিস ঘোষনা করে গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করেছেন।

৭. সভাপতি নিষেধ করা সত্বেও তিনি তার নিজ অফিসে ২৫ আগষ্ট বনপা’র মিটিং ডেকে সংগঠন বিরোধী কাজই করেনি উনি চরম অন্যায় করেছেন।

৮. উক্ত সভায় বনপা’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আকতার চৌধুরী উপস্থিত না থাকলেও তার ২১ আগষ্টে তোলা ছবি ব্যবহার করে জঘন্য অপরাধ করেছেন। মিটিং এ বনপা’র কোন সদস্য উপস্থিত না থাকলেও তিনি তার নিউজ পোর্টাল নিউজ বিশেষবাশী ডটকমে ভুয়া প্রেসরিলিজ প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন জায়গায় ওই ভুয়া ছবি ও প্রেসরিলিজ পাঠিয়ে চরম অপরাধই করেননি রীতিমত সংগঠন বিরোধী ভুমিকা পালন করেছেন । একজন সম্পাদক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিউজ পোর্টালে মিথ্যা সংবাদ ও ছবি প্রকাশ করে হীনমন্যতা দেখিয়েছেন । অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এবং সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড চালানোর জন্য সুভাষ সাহাকে বনপা থেকে বহিষ্কার করে আমাদের প্রাণ প্রিয় সংগঠন বনপাকে রক্ষা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৬ আগষ্ট জরুরী সভায় অভিযোগ তদন্ত করার জন্য বনপা’র গঠনতন্ত্রের ১৩ নং ধারার (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ দিপুকে আহ্বায়ক ও মো.বেলায়েত হোসেন বেলাল ( সাংগঠনিক সম্পাদক) কে সদস্য সচিব করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্য ছিলেন, ইঞ্জি. রোকমুনুর জামান রনি ( সি. যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ) ও এ,এইচ,এম, তারেক চৌধুরী ( তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক )।
কমিটিকে ১০ কর্ম দিবসের মধ্যেই অভিযোগ তদন্ত করে বনপা’র সভাপতির কাছে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। বনপা’র কাজ কর্ম স্বাভাবিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য ওই সভায় সহ-সভাপতি অধ্যাপক আকতার চৌধুরীকে বনপা’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রধান করা হয়।
এর পর সুভাষ সাহা সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড আরো জোরেসরে শুরু করেন। সাময়িক বহিষ্কার থাকা সত্ত্বে তিনি তার অফিসে পুনরায় অবৈধ ভাবে বনপা’র সভা আহ্বান করেন। ওই অবৈধ সভায় হাতে গোনা কয়েকজন উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে মাত্র ৩জন বনপা’র সদস্য উপস্থিত থাকলেও তিনি অপরিচিত জনদের বনপা’র সদস্য হিসেবে চালিয়ে দেয়ার ব্যর্থ প্রয়াস চালান। এ ছাড়া তিনি বনপা ও এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তার বিষেরবাঁশীতে ‘বিষ’ ঢালতে থাকেন। বনপা’র বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এ ধরনের নোংরামি না করার জন্য অনুরোধ জানালেও তিনি তা শোনেননি।
পাশাপাশি তদন্ত কমিটি আজ ১ সেপ্টেম্বর তাকে তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডন করার জন্য নোটীশ দিলেও তিনি উপস্থিত না হয়ে চরম ঔদ্ধ্যত্ব দেখান। তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব তাকে ফোন করে তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হতে বললে তিনি উপস্থিত হবেন না বলে সাফ সাফ জানিয়ে দেন। যা বনপা’র সংগঠনের ১৩ ধারার সু-স্পষ্ট লংঘন।
বনপা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামসুল আলম স্বপন অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি ওবায়দুল হক ভুলনের সভাপতিত্বে পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়। সভার শুরুতে উপস্থিত সদস্যদের পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয় । এর পর বনপা’র সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ দিপুর দাদা জহুরুল ইসলামের (৮৭) এর মৃত্যুতে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
সভার শুরুতে অনলাইনে সভায় বক্তব্য রাখেন বনপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামসুল আলম স্বপন। তিনি বনপা’র সকল সদস্যের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া যে বনপা আজ নিউজ পোর্টাল মালিকদের কাছে একটি প্রিয় সংগঠন হিসেবে আস্থা অর্জন করেছে। ২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর বনপা’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বনপা আন্দোলন করে সফলতার দিকে এগিয়ে গেছে। বিনা মূল্যে নিউজ পোর্টাল রেজিষ্ট্রেশন দিতে হবে এটা ছিল বনপা’র দাবি। এ নীতিমালা দাঁড় করাতে গিয়ে দেশের প্রখ্যাত প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার প্রায় ১ বছর ধরে চরম পরিশ্রম করেছেন । তাঁর সাথে যে সকল সদস্য সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে বনপা’র পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই । অভিনন্দন জানাই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যিনি দেশকে ডিজিটালাইজড করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই সাথে দেশের সফল তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি । যিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল রেজিস্ট্রেশন এবং সরকারের সুযোগ সুবিধা প্রদান করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। অভিনন্দন জানাই তাদের কেউ যারা নীতিমালা তৈরীতে বাঁধা সৃষ্টি করেছিলেন এবং বিপক্ষে লেখা-লেখি করেছিলেন। তাদের কারণে অত্যন্ত সর্তকতার সাথে নীতিমালা প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন আপনাদের জানানো প্রয়োজন বোধ করছি যে, নীতিমালার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত আছে। কারণ অনেকেই চায় না সরকারের শত শত কোটি টাকার বিজ্ঞাপণের ভাগ আমরা পাই। কালো টাকার মালিকরা টেন্ডার ভাগাভাগির মত বিজ্ঞাপন ভাগ করে নেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
সংগঠিত আন্দোলন ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নিউজ পোর্টাল গুলো সরকারের সুযোগ – সুধিবা থেকে বঞ্চিত হবে। বনপা আপনাদের প্রিয় সংগঠন নিউজ পোর্টাল মালিকদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে । তিনি আরো বলেন আজ বনপাকে ক্ষতি গ্রস্থ করার জন্য জঘন্য ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে । সকল সদস্য ঐক্যবদ্ধ থেকে বনপাকে যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমন যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। পাশাপাশি ৫৭ ধারা আইনের বিরুদ্ধে বনপা’র অবস্থান সুষ্পষ্ট করতে হবে। ওই কালো আইন বাতিল করার জন্য বনপা আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।
বনপা’র বিরুদ্ধে বিষোধগার করে একটি অনলাইন পত্রিকা সাম্প্রতিক কালে কুৎসা রটনার বিরুদ্ধে বলতে যেয়ে বনপার সভাপতি শামসুল আলম স্বপন বলেন, কুকুরেরর কাজ কুকুর করে। কুকুরের পায়ে কামড় দেয়া মানুষের শোভা পায় না । তিনি বলেন, “যার সর্বাঙ্গে দাদ সে বেচে দাউদের মলম” । এই হলো আমাদের সমাজ । তিনি আরো বলেন আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বনপা কেউ ভাঙ্গতে পারবে না বরং আরো শক্তিশালী হবে। তিনি আরো বলেন, বনপা শুরুতে যারা ছিলেন তাদের কেও মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে আমিরুল ইসলাম আসাদ,সোহেল রেজাসহ অনেকেই বনপা’র সুচনালগ্ন থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে বনপাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহানুভুতি দেখানো আমাদের দায়িত্ব।
বনপা’র গঠনতন্ত্র এবং আপনাদের সিদ্ধান্তের সাথে আমিও একমত । তিনি আরো বলেন নিউজ পোর্টাল মালিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে যেয়ে যদি জীবনে ঝুঁকি আসে, যে কোন ধরণের ঝুঁকি নিতে আমি প্রস্তুত । আমি জেল যুলুমের ভয় করি না যদি আপনারা আমার সাথে থাকেন।
বনপা’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রাজু আহমেদ দিপু বলেন, সুভাষ সাহা বনপা ভাঙ্গার যে ষড়যন্ত্র করেছেন তা তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে । তদন্ত কমিটির নোটীশের পরও তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত না হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন সংগঠনের গঠনতন্ত্র তিনি মানেন না। তার এই সংগঠনের সাথে থাকার আর কোন নৈতিক অধিকার নেই।
তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে বনপা’র সকল পদ থেকে বহিষ্কার করার জন্য আমরা সুপারিশ করছি। ৫৭ ধারা বাতিলের জন্য তিনি বনপার মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানান ।
সহ-সভাপতি নির্মল বড়–য়া মিলন বলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল মালিকদের সংগঠন বনপা। বনপা টিকে থাকলে আমরা টিকে থাকবো । সুতরাং যেই হোক না কেন বনপা’র বিরুদ্ধে অবস্থানকারীর স্থান বনপাতে হবে না। সে টা যদি স্বয়ং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামসুল আলম স্বপনও গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করেন তাকেও জবাবদিহি করতে হবে। বনপা’র গঠনতন্ত্র মোতাবেক যে সিদ্ধান্ত গহন করা হবে আমি তার সাথে এক মত । তিনি আরো বলেন, ৫৭ ধারা সাংবাদিকদের জন্য কালো আইন এ আইন বাতিল করার জন্য আন্দোলন করতে হবে।
সহ-সভাপতি অধ্যাপক জাকির সেলিম বলেন, সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে সুভাষ সাহার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়া হবে তার সাথে আমি একমত । শাস্তিটা হতে হবে দৃষ্টান্তমুলক যাতে আর কেউ সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড করতে সাহস না পায়। বনপা নিয়ে যে ব্যক্তি বিপক্ষে কোন সংবাদ পকাশ করবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান হেলাল বলেন, সংগঠনের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আমি তার সাথে একমত।
সহ-সভাপতি তারেকুজ্জামান খান বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কাজ করলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক যে ব্যবস্থা নেয়া হবে আমি তার সাথে একমত।
বনপা’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আকতার চৌধুরী বলেন বড় আশা নিয়ে আমরা গত ২১ আগষ্ট নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করেছিলাম । ২০১২ সালে অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে শামসুল আলম স্বপন বনপা গঠনের মাধ্যমে ১৫ অক্টোবর-২০১২ তে আন্দোলনে ডাক দেন। তিনি সারা দেশের পোর্টাল মালিকদের ঐক্যবদ্ধ করেন । আজ যে নীতিমালা হতে যাচ্ছে তা বনপার আন্দোলনের ফসল । আজ যারা বনপাতে নতুন নেতৃত্বে এসেছেন তাদের অনেকেই আন্দোলনে ছিলেন না। হঠাৎ করে ক্ষমতা পেয়ে কেউ কেউ ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন । স্বপনের মত নেতা হতে হলে যুগ যুগ সাধনা করা লাগবে। তিনি বলেন যারা বনপাকে কুক্ষিগত করতে চায় তাদের বনপাতে থাকার কোন অধিকার নেই। তিনি বলেন, বনপা এবং সভাপতি /কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে লাভ নেই । কারন কে কেমন আমরা জানি । যারা কুৎসা রটাচ্ছেন তারা ধুয়া তুলশীর পাতা নন। বাড়াবাড়ি করলে বনপা’র সকল সদস্য তাদের অতীত ইতিহাস তুলে ধরতে বাধ্য হবে।
সিনিয়র যুগ্ম -সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. রোকমুনুর জামান রনি বলেন, গঠনতন্ত্রের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য সুভাষ সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত এখন আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে সংগঠনে তাকে রাখা যাবে কি না।
যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বনপা’র বিরুদ্ধে কঠিন ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল । আমি বলবো আল্লাহই রক্ষা করেছেন । নির্বাচিত হওয়ার ৩ দিনের মাথায় সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশ্য ধরা পড়ে গেছে । বনপা’র সকল সদস্য ঐক্যবদ্ধ বলেই কোন ক্ষতি করতে পারেনি বরং বনপা আরো শক্তিশালী হয়েছে।
সাংগঠনিক সম্পাদক মো.বেলায়েত হোসেন বেলাল সভায় উপস্থিতিদের সামনে সুভাষ সাহাকে ফোন করলে সুভাষ সাহা তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হবেন না বলে সাফ সাফ জানিয়ে দেন। এ ব্যাপারে সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল বলেন, আপনারা সিদ্ধান্ত নিন গঠনতন্ত্র না মানা এমন ব্যক্তিকে দিয়ে সংগঠন চালানো যায় কিনা।
মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা জোহুরা পারভীন জয়া বলেন, আমার মনে হয় বনপা বিরোধী কারো মিশন বাস্তবায়নের জন্য সুভাষ সাহা এই সংগঠনের সাথে এসেছিলেন । তিনি আজ কয়েক দিন ধরে এমন সব বাজে কথা লিখে মোবাইলে এসএমএস এবং ফেঁসবুকে ষ্ট্যাটাস দিচ্ছেন কোন ভদ্রলোক তা করতে পারেন না। তিনি সুভাষ সাহার বাহিষ্কার দাবি করে বলেন, তার নিউজ পোর্টাল কিম্বা ফে^সবুকে বনপা কিম্বা বনপা’র কোন সদস্যের বিরুদ্ধে কিছু লিখলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। নারায়ণগঞ্জে তার অবস্থান সম্পর্কে আমরা সব জানি । নিজেকে সাধু ভাবার কোন কারণ নেই।
সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সরকার রুহুল আমীন বলেন, যারা সংগঠন ভাঙ্গকে চায় তাদের কে সংগঠনে কোন ক্রমেই রাখা ঠিক হবে না।
সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বলেন, যে বনপা ভাঙ্গতে চায় আমরা তাকে কোন অবস্থাতেই বনপাতে রাখতে পারিনা । এই বনপা আমাদের প্রিয় সংগঠন । আমার পাকা ধানের বাবুইকে সংগঠনের নেতৃত্বে রাখতে পারিনা । সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য অবশ্যই ষড়যন্ত্রকারী সুভাষ সাহাকে বহিষ্কার করতে হবে। তিনি বলেন বনপা ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে এটা আমরা সিলেটাবাসী প্রত্যাশী করি।
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খলিল উদ্দিন ফরিদ বলেন,. সংগঠন বিরোধী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না । গঠনতন্ত্র মোতাবেক যে ব্যবস্থা হবে তার সাথে আমি একমত ।শিল্প বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ বড়–য়া (জয়) বলেন, সাংগঠনিক লোক ছাড়া কেউ সংগঠন চালাতে পারে না। গঠনতন্ত্র বিরোধী কারো সাথে আমি সম্পর্ক রাখতে চায় না। বনপাকে আরো সুসংঘঠিত করার জন্য সম্মিলিত ভাবে যে পদক্ষেপ নেয়া হবে তার সাথে আমি একমত ।
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালী উল্লাহ খান, বলেন আমি যে অভিযোগ করেছিলাম তা প্রমানিত । এটায় আমার সার্থকতা। আমি চাই বনপার স্বার্থে সুভাষ সাহাকে বহিষ্কার করা হোক।
প্রচার সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,বনপা আমাদের সংগঠন সেই সংগঠন নিয়ে কেউ ফায়দা লুটবে আর আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো তা হতে পারে না। বনপাকে শক্তিশালী করার জন্য যা করা প্রয়োজন তাই করতে হবে।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বনপা’র সদস্য আবু বকর সিদ্দিক, তৈয়ব আলী সিকদার, নির্বাহী সদস্য মো: জয়নাল আবেদীন, সাজিদ মাহমুদ , বিন ইয়ামিন, জসিম উদ্দিন, ফরহাদ হোসেন , মামুনুর রশিদ নোমান, ইকরামুল আলম, জয়নাল আবেদীন এম কেফায়েত উল¬াহ খান, এস এম মিজানুর রহমান প্রমুখ ।
সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তরা বলেন, বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ্যাসোসিয়েশন (বনপা)’র ২১ আগষ্ট নির্বাচন ছিল ঐতিহাসিক ও সৌহার্দ পূর্ণ। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সাহা সংগঠন নিয়ে এমন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠবেন তা কারো কাম্য ছিল না। তিনি বনপাকে তার ব্যক্তিগত সম্পদ বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। বক্তাতারা আরো বলেন, সংগঠনের কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ করে ২৫ আগষ্ট তার ব্যক্তিগত অফিসকে বনপা’র অফিস ঘোষণা দিয়ে সভা আহ্বান করেন। ওই সভায় সংগঠনের জনপ্রিয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক আকতার চৌধুরী উপস্থিত না থাকলেও সুভাষ সাহা তার পোর্টাল নিউজ বিশেরবাঁশী ডটকমে ২১ আগষ্টে তোলা ছবি ইম্পোজ করে সংগঠন বিরোধী বক্তব্য দিয়ে নিউজ আপলোড করেন। যা বনপা’র গঠনতন্ত্রের ১৩ নং ধারার সম্পূর্ণ পরিপšী’ এবং সুষ্পষ্ট লংঘন । একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ভুয়া সংবাদ ও ছবি প্রকাশ করে সংগঠন বিরোধী কাজই করেননি তিনি জঘন্য অপরাধ করেছেন। বনপা ও এর সদস্যদের অপমাানিত করা হয়েছে। বক্তাতারা বলেন, ২১ আগষ্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সুভাষ সাহা ১৬,১৭ ও ১৮ আগষ্ট সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের মুক্তি আন্দোলনে জাতীয় প্রেসক্লাবে অংশ নিয়ে নিজেকে বনপা’র সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে নিজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করে সংগঠন বিরোধী কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি বনপা’র একাধিক কর্মকর্তার সাথে র্ব্যক্তিগত কর্মচারির মত আচরণ করেছেন যা অনভিপ্রেত।
তদন্ত কমিটি নোটীশ দিলেও তিনি উপস্থিত হননি । তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত না হয়ে সুভাষ সাহা সকলকে অপমানিত করেছে এবং ক্ষমা না চেয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ করে চরম ঐদ্ধত্য দেখিয়েছেন। তিনি বনপাতে থাকার সকল নৈতিকতা হারিয়েছেন।
বক্তরা আরো বলেন, বনপা’র প্রতি মহান আল্লাহর রহমত আছে বলেই শুরুত সাধারণ সম্পদাকের ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে গেছে । তা না হলে তিনি এই সংগঠনের মারাত্মক ক্ষতি করে বসতেন। তার সাধারণ সম্পাদক পদ শুধু নয়, বনপা’র সাধারণ সদস্য পদও বাতিল করতে হবে।
বক্তরা আরো বলেন বনপা ভাঙ্গার ক্ষমতা কারো নেই। বরং এই ন্যাক্কার জনক ঘটনায় বনপা আরো শক্তিশালী হলো।
বক্তরা সভায় সভার সকল এজেন্ডা আলোচনা শেষে অনুমোদন করেন এবং সকল বিষয় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সুভাষ সাহার সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত দেন।
অনলাইনে বক্তব্য রাখেন, গুলশান থেকে বনপা’র সি. সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ দিপু, কক্সবাজার থেকে সহ-সভাপতি অধ্যাপক আকতার চৌধুরী, কাওরান বাজার থেকে সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান হেলাল, উত্তরা থেকে সহ-সভাপতি তারেকুজ্জামান খান, লন্ডন থেকে সহ-সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী,রাজশাহী থেকে সহ-সভাপতি অধ্যাপক জাকির সেলিম, রাঙ্গামাটি থেকে সহ-সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুঁই চাকমা, রাজশাহী থেকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভান্ডারী, সিলেট থেকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান, কাকরাইল থেকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মুজাহিদুল ইসলাম, ফরিদপুর থেকে প্রকাশনা সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ, কক্সবাজার থেকে নির্বাহী সদস্য গোলাম সারওয়ার, উখিয়া থেকে নির্বাহী সদস্য ওবাইদুল হক আবু চৌধুরী, খুলনা থেকে নির্বাহী সদস্য কামরুজ্জামান,. সিলেট থেকে নির্বাহী সদস্য এস,এম হৃদয়, ভোলা থেকে নির্বাহী সদস্য খলিল উদ্দিন ফরিদ,কক্সবাজার থেকে সহ-প্রচার সম্পাদক ইমতিয়াক আহমেদ জয়, উত্তরা থেকে শিক্ষা সম্পাদক এস,এম,এ মনসুর মাসুদ, লন্ডন থেকে আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক এস,এম ইকরাম উদ্দিন সিহাব, সিলেট থেকে নির্বাহী সদস্য এম,কে মোমিন, দিনাজপুর থেকে নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হক মানিক, নির্বাহী সদস্য জসিম উদ্দিন নির্বাহী সদস্য খাইরুল আলম সুমন, নির্বাহী সদস্য নুরুল আলম লিটন, লক্ষীপুর থেকে নির্বাহী সদস্য সদস্য সানা উল্লাহ সানু, নির্বাহী সদস্য বাবলু তালুকদার, নির্বাহী সদস্য বিপ্লব চাকমা, নির্বাহী সদস্য জহুরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য আবুল কালাম আজাদ, নির্বাহী সদস্য জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী সদস্য হেলাল উদ্দিন,সভার থেকে সীমা কষ্টা ও প্রদীপ গোষাল তপু প্রমুখ ।
এর আগে বিকেলে সভাপতির মোবাইলে সভার সাফল্য কামনা ও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখে বি.বাড়িয়া থেকে নির্বাহী সদস্য গোরাঙ্গ দেব নাথ অপু । তিনি বলেন আমি সুভাষ সাহার হাত ধরে বনপাতে এসেছিলাম খুব ভালো লেগে ছিল । কিন্তু ভুল বুঝাবুঝির কারণে সুভাষ দা’র সাথে বনপা’র সভাপতি ও অন্যান্যদের যে মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি ।
সভাপতির সমাপণী বক্তব্যে ওবায়দুল্লাহ ভুলন বলেন বনপা’র সংগঠনের মালিক সদস্যরা । এর গঠনতন্ত্র চালিকা শক্তি । গঠনতন্ত্র বিরোধী কোন ব্যক্তি সংগঠনে থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, সুভাষ সাহা সংগঠন বিরোধী কাজ করার জন্য তাকে বহিষ্কার করার দাবি উঠেছে । এই দাবির সাথে যারা একমত তারা হাত তুলে দেখান । এ সময় উপস্থিত সকল সদস্য সুভাষ সাহার সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করার জন্য হাত তুলে সমর্থন জানান।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com