1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৫
  • ১১ দেখা হয়েছে

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রাণপুরুষ, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। অন্যায়, অত্যাচার আর জুলুমের বিরুদ্ধে তিনি তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে পালন করেছেন সোচ্চার ও আপসহীন ভূমিকা। মানবতার জয়গানে উচ্চকণ্ঠ এ কবি লিখেছেন, ‘গাহি সাম্যের গান/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান…।’ বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সাহিত্যচর্চা ও বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কারাভোগ করেছেন বারবার। নিষিদ্ধ হয়েছে তার একের পর এক গ্রন্থ। তবুও এই মহান পুরুষ বৃটিশ শাসকদের কাছে মাথানত করেননি। সব রকমের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কবি ‘চির উন্নত মম শীর’ বলে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হয়েও কখনও আপস করেননি। লোভ-লালসা, খ্যাতি, অর্থ, বিত্ত-বৈভবের কাছে মাথা নত করেননি। উল্টো ‘হে দারিদ্র্য তুমি মোরে করেছো মহান’ এমন পঙ্‌ক্িতমালা রচনা করে দারিদ্র্যের জয়গান করেছেন মহান কবি। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মানবতার মুক্তির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধেও ছিলেন সোচ্চার। মুক্তবুদ্ধি ও চিন্তার পক্ষে কলম ধরেছেন নির্ভীক চিত্তে। তাঁর রচিত ‘চল্‌ চল্‌ চল্‌’ গানটি আমাদের রণসংগীত। পরাধীনতার নিগড় থেকে বের হয়ে আসার জন্য তার আগুনঝরা কবিতা এবং গানের মধ্য দিয়ে আজীবন সংগ্রাম করেছেন এ কবি। বাঙালির নবজাগরণ এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণার উৎস ছিল তার গান ও কবিতা। প্রেমে ও দ্রোহে, কোমলে-কঠোরে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে তিনি দিয়েছেন নতুন মাত্রা। সেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এ দিনে (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র) ঢাকায় বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় আজ তাকে স্মরণ করবে মানুষ।  লেখাতে যেমন বিদ্রোহী ছিলেন তেমনি ছিলেন ব্যক্তিগত জীবনেও। ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে নজরুল দুটি বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্মের সৃষ্টি করেন। একটি হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও অপরটি ‘ভাঙ্গার গান’। ১৯২২ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়। এ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই বাংলা কাব্যে সৃষ্টি করেছিল নতুন বাঁক। শুধু কবিতাতেই নয়, প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুরারোপের মাধ্যমে সংগীত জগতেও নজরুল রেখেছেন অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর। রাগনির্ভর গানকে ভেঙেচুরে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য ও শ্রুতিমধুর করেছেন। এক রাগের সঙ্গে অন্য রাগের মিলন ঘটিয়ে সংগীতে সৃষ্টি করেছেন নতুন ধারা। ছোটগল্প, উপন্যাস, গান, নাটক সাহিত্যের সকল শাখায় স্বচ্ছন্দ বিচরণ করলেও মূলত কবি হিসেবেই তিনি পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত। আজীবন বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠের কারণে তিনি ভূষিত হন ‘বিদ্রোহী কবি’ অভিধায়। তিনি তাঁর কবিতার পঙ্‌ক্তিমালায় তুলে ধরেছেন নিপীড়িত মানুষের কথা।
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ১৪ই মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। পিতা কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। ১৯৭২ সালের ২৪শে মে স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। সেই সঙ্গে তাঁকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ই ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুলকে ডিলিট উপাধিতে ভূষিত ও একই বছরের ২১শে ফেব্রুয়ারি তাকে দেয়া হয় একুশে পদক। কবির জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে। ৭৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবি নজরুল তার কবিতায় লিখেছিলেন, ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই,/যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই’। সেই বিবেচনাতেই কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করা হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
কর্মসূচি: জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে কবির সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও আলোচনা। বাংলা একাডেমি দুইদিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বিকালে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে। এমেরিটাস প্রফেসর রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘ভবিষ্যতের নজরুল’ শীর্ষক একক বক্তৃতা দিয়েছেন প্রফেসর জুলফিকার মতিন। আজ সকাল ৭টায় জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে বাংলা একাডেমি। এছাড়া নজরুল ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে। এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধি সৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আওয়ামী লীগ গৃহীত কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ওদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা জানাবে বিএনপি। আজ সকাল ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে দলটি। এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন সকালে কবির মাজারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, কবিতা পাঠ, বিশ্ব কবিতা কংগ্রেসের মুখপত্রের প্রকাশনা উৎসব ও বাঙালি জাতিসত্তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সৃষ্টি ও বাংলাভাষা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি জোরদার করা শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি অনুষ্ঠান উদ্বোধন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান বক্তা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com