1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

জোয়ার-ভাটার বৃত্তে বন্দি লক্ষাধিক মানুষ

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৯ দেখা হয়েছে

ইমরান হোসাইন, পেকুয়া :
উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে কুতুবদিয়ার নদী আর দক্ষিণে বহমান মাতামুহুরী নদী। দুইপাশে সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর মাঝখানে সবুজ লোকালয়। যেখানে অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে ধান চাষ ও মৎসঘেরের মাধ্যমে। সে লোকালয় এখন নিত্যদিনের জোয়ার-ভাটায় অনেকটাই বিপর্যস্ত।
বলা হচ্ছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন সমূহের কথা। মাত্র কয়েক কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য নিত্যদিন জোয়ার-ভাটার বৃত্তে বন্দি হয়ে আছে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যময় ওই এলাকার প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩মাস ধরে ওই উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ জোয়ার-ভাটায় বন্দি হয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই  জোয়ার এলে সবাইকে ছুটতে হয় উঁচু কোনো স্থানে আশ্রয়ের খোঁজে। আবার ভাটার সময় ফিরতে হয় নিজ ঘরে। এভাবেই প্রতিটি দিন চলছে এখানকার বাসিন্দাদের। এদিকে, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় কোমেনের আঘাতে ওই এলাকা সমূহের বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশের দৈঘ্যও বেড়েছে। যোগাযাগ ব্যবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে আক্রান্ত এলাকা ঘুরে আরো জানা যায়, জোয়ার এলেই মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া থেকে উজানটিয়া ইউনিয়নের পেকুয়ার চর, নতুন ঘোনা, কইড়া বাজার পাড়া, ঘোষাল পাড়া, পশ্চিম উজানটিয়া পাড়া, ষাড়দুনিয়া পাড়া, মিয়ার পাড়া পর্যন্ত বিশাল এলাকা পানিতে নিমজ্জিত থাকে পানিতে এমনকি পাকা সড়কও। ওই সময় জোয়ারের পানিতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকে। প্রতিদিনই জোয়ারের পানি প্রবেশ করে তিনটি ইউনিয়নেই।
স্থানীয়রা অভিযোগের সাথে জানান, বেডীবাঁধ না থাকায় ১৯৯১সালের ২৯এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে এই গ্রামের দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এখন ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৮০হাজার মানুষকে খুঁজেও পাওয়া যাবে না। বেডীবাঁধের ভেতরে অবস্থিত চিংড়িঘের, লবণের মাঠ ও ফসলের ক্ষেত এখন পানির নিচে। এসব খেতখামারের মালিকদের অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। পাশাপাশি এখানে কর্মরত কৃষিশ্রমিকেরাও হারিয়েছেন জীবিকার সংস্থান। সব মিলিয়ে এলাকার ৯০ভাগ মানুষের রুটি-রুজিতে টান পড়েছে বলে জানায় দুর্গত লোকজন।
মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’এর পরিকল্পিত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা অতি জরুরী। তা না করাতে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনকবলিত হচ্ছে, প্লাবিত হচ্ছে। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় জোয়ারে তা আরো বেড়ে যায়।
তবে কক্সবাজার পাউবোর প্রকৌশলী মোঃ শফিবুর রহমান জানান, পেকুয়ায় স্থায়ী বেড়ি বাঁধের নির্মাণকাজ  চলতি বছরেই শুরু হবে। দ্রুতই পেকুয়ার মানুষের জোয়ার-ভাটার বন্দিদশা শেষ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মারুফুর রশিদ খান জানান, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা বেড়ীবাঁধ সংস্কার করে দিতে বলা হয়েছে পাউবো কর্মকর্তাদের। পানি সম্পদ মন্ত্রী, সচিব, এমপি এবং সংশ্লিষ্টরা এসব ভাঙ্গনকবলিত এবং প্লাবিত এলাকা পরিদর্শণ করেছেন। আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই জোয়ার-ভাটার বন্দিদশা থেকে পেকুয়া, মগনামা ও উজানটিয়ার মানুষ মুক্তি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com